brandbazaar globaire air conditioner

ধানমন্ডির পথে পথে ছাগলের হাট

ধানমন্ডির পথে পথে ছাগলের হাট

রাজধানীর ধানমন্ডি আবাসিক এলাকার বিভিন্ন রাস্তায় হেঁটে বেড়াচ্ছ ছাগল। কখনও দুটি, আবার কখনও বা চার-পাঁচটি। এ দৃশ্য দেখে যে কারও মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, এ এলাকায় ছাগল ঘুরে বেড়াচ্ছে কেন?

মূল ঘটনা হচ্ছে, এসব ছাগল প্রত্যন্ত খামারিদের। প্রতিবারের মতো এবারও কোরবানির হাটে না নিয়ে ছাগলগুলো তারা ধানমন্ডি আবাসিক এলাকায় নিয়ে এসেছেন। তারা এখানে ঈদের আগে তিন দিন অবস্থান নেন এবং পথে পথে হেঁটে কোরবানির জন্য ছাগল বিক্রি করেন।

dhakapost

সোমবার (১৯ জুলাই) ধানমন্ডির ৮, ১০, ১১ এ, ১২ এ এবং ম্যাজিশিয়ান স্ট্রিট ঘুরে দেখা গেছে, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা প্রত্যন্ত খামারিদের একজন দুই থেকে চারটি, কখনও দুই থেকে তিনজন মিলে ১০ থেকে ১৫টি ছাগল নিয়ে হেঁটে বেড়াচ্ছেন। ছাগলের খাবার হিসেবে তাদের হাতে রয়েছে কাঁঠাল পাতা।

ছাগল দেখে অনেকে গাড়ি থামিয়ে দাম জানতে চাচ্ছেন। আবার কেউ কেউ ভবনের ওপর থেকে খামারিদের ডাকছেন। পছন্দ আর দাম এক হয়ে গেলে কেউ কেউ কিনেও রাখছেন। খামারিরা জানান, হাটের সমানই লাভ হয় এখানে। কখনও আবার বেশিও হয়। তাই তারা কোরবানির ঈদের আগের তিন দিন থাকেন ধানমন্ডির পথে পথে।

dhakapost

সুনামগঞ্জের টেকেরহাট থেকে নিজ খামারের ছাগল এনে ধানমন্ডি এলাকায় বিক্রি করেন, মো. আরিফ মল্লিক। তিনি দৈনিক আগামীর সময়কে বলেন, বাবার সঙ্গে ছোটবেলায় এখানে এসেছি। প্রায় ২০ বছর ধরে আমি একাই ছাগল নিয়ে এখানে আসি। এখানে প্রতি বছরই ভালো বিক্রি হয়। তবে এ বছর আর গত বছর তেমন হয়নি। এবার ৯০টি ছাগল নিয়ে এসেছি। এখন পর্যন্ত ২০টি ছাগল বিক্রি হয়েছে। এখানেও বাজারের মতোই দাম থাকে। আমার কাছে থাকা ছাগলগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন দাম ১০ হাজার টাকা ও সর্বোচ্চ ৩০ হাজার টাকা।

মাদারীপুর থেকে মাহফুজ রহমান জনি নিয়ে এসেছেন ৩০টি ছাগল। তিনি বলেন, আমরা এ এলাকায় হেঁটে হেঁটেই ছাগল বিক্রি করি। লোকজনের হাটে যেতে হয় না। এ সুবিধার কারণে এখান থেকেই ছাগল কেনেন অনেকে। লোকসান হয় না।

dhakapost

এ বছর ১০টি ছাগল নিয়ে গোপালগঞ্জ থেকে ধানমন্ডিতে এসেছেন রিপন। তিনি প্রতি বছর সবকটি ছাগলই বিক্রি করে যেতে পারেন। গত দুদিনে তিনি পাঁচটি ছাগল বিক্রি করতে পেরেছেন। আশা করছেন, কালকের মধ্যে সব বিক্রি করে রাতেই বাড়ি ফিরতে পারবেন।

খামারিরা জানান, তারা তিন দিনের জন্য বিভিন্ন ভবনের গ্যারেজ ভাড়া করে ছাগল রাখেন। আর তারা থাকেন ভবনে। ছাগলের খাওয়ার জন্য পাতা সংগ্রহ করেন ধানমন্ডি লেক থেকে। তিন দিন ধানমন্ডি চষে বেড়ান তারা। সব ছাগল বিক্রি করে বা অবশিষ্ট ছাগল নিয়ে ঈদের আগের রাতেই পাড়ি জমান আপন ঠিকানায়।

Related posts

body banner camera