brandbazaar globaire air conditioner

যানজটে স্থবির ঢাকা

যানজটে স্থবির ঢাকা

বেলা ১২টা ৫২ মিনিট। রাজধানীর মহাখালী উড়াল সেতুর নিচে থেকে শুলশান-১ নম্বর গোলচত্বর অভিমুখী সড়কে সারি সারি গাড়ি। উড়াল সড়কের নিচের লেভেল ক্রসিংয়ের দুই পাশে কয়েকটি অ্যাম্বুলেন্সে রয়েছে রোগী। এ সড়কে যানজটের কারণ লেভেল ক্রসিংয়ে নির্মাণ সামগ্রী ফেলে রাখা ও যত্রতত্র বাস দাঁড় করিয়ে যাত্রী তোলা।

সেখানে গুলশান-১ নম্বর গোলচত্বর যাওয়ার পথে স্থানে স্থানে বাস দাঁড় করিয়ে যাত্রী তুলছিল আলিফ পরিবহন, দেওয়ান পরিবহন ও রবরব পরিবহনের বাস।

গুলশান-১ নম্বর গোলচত্বর থেকে গুলশান-২ নম্বরের দিকে যেতে দেখা যায় সড়কের বাম পাশে ছোট বড় ট্রাক ও পিকআপ দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ত্রাণ ও ভান্ডার শাখার অফিস থেকে সড়কের পলিথিন সংগ্রহ করার জন্য এগুলো দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে। তাতে যান চলাচলের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হচ্ছিল।

বেলা আড়াইটা থেকে বৃষ্টি শুরু হলে এসব স্থানসহ রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে যানজটের তীব্রতা বেড়ে যায়। পশুবাহী ট্রাক, গণপরিবহন ও ব্যক্তিগত পরিবহন এমনিতেই বেড়ে যায় সকাল থেকে। বৃষ্টির ফলে রাস্তায় চলাচলের জায়গা কমে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরো খারাপ হয়ে যায়।

দুপুর থেকেই রাজধানীর প্রগতি সরণির সড়কে যানজট সৃষ্টি হয়। দুপুর ২টা থেকে রামপুরা ব্রিজ পর্যন্ত এই যানজট ছড়িয়ে যায়। যা শুরু হয় কুড়িল বিশ্বরোড থেকে। রাস্তার দুই পাশে কোরবানির পশুবাহী ট্রাক ও যাত্রীবাহী বাসসহ অন্যান্য যানবাহনের এই জটে পড়ে যাত্রীদের নাভিশ্বাস অবস্থা।

সরেজমিনে দেখা যায়, কুড়িল বিশ্বরোড থেকে রামপুরা ব্রিজ পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশে গাড়ির চাপ রয়েছে। সঙ্গে শুরু হওয়া গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি যাত্রী ও পথচারীদের ভোগান্তি বাড়িয়েছে।

বাড্ডায় রাইদা পরিবহনের যাত্রী সদরুল আমীন বলেন, উত্তরা থেকে বাসে দুপুর সোয়া ১টায় উঠে বাড্ডায় এসে পৌঁছেছি পৌনে ৩টায়। পথে এত বেশি যানজট-তার ওপর গরমে বাসের ভেতরে বসে থাকাও দায়।

যানজটের বিষয়ে জানতে চাইলে গুলশান ট্রাফিক বিভাগের বাড্ডা জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার সুবীর রঞ্জন দাস জানান, সকাল থেকেই প্রগতি সরণিতে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। ভাটারা সাইদ নগর গরুর হাট, রামপুরা গরুর হাটে প্রচুর ট্রাক কোরবানির পশু নিয়ে এ রাস্তা দিয়ে প্রবেশ করছে। ফলে রাস্তায় গাড়ির চাপ বেড়ে যাওয়ায় যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া গণপরিবহনের চলাচল বেড়েছে। ঈদ যাত্রা শেষ না হওয়া পর্যন্ত এবং কোরবানির হাটে পশু আসার ট্রাক আসা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত রাস্তায় গাড়ির চাপ থাকবে।

সকাল থেকেই রাজধানীর শ্যামলী, টেকনিক্যাল, মিরপুর-১ এবং গাবতলী এলাকায়ও যানজট ছিল তীব্র। মিরপুর-১ ও গাবতলী থেকে আসা যানবাহনগুলো রাজধানীর শ্যামলী, কল্যাণপুর, আসাদগেট, ধানমন্ডি ও ফার্মগেট অভিমুখে যানজটে বেশ খানিকটা সময় দাঁড়িয়ে থাকে।

গাবতলীতে যানজটের কারণে ঢাকা থেকে দূরপাল্লার বাসগুলোর বের হতে বিলম্ব হয়। টেকনিক্যাল মোড়ে পুলিশ কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন ঢাকা পোস্টকে বলেন, রাস্তায় ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেল বেশি। গণপরিবহন ও বাড়িফেরা মানুষের চাপ বেড়েছে। ফলে এ পরিস্থিতি হয়েছে।

 

Related posts

body banner camera