হবিগঞ্জ
৩৮ বাংলাদেশি নিখোঁজের ঘটনায় গ্রেপ্তার ২

র্যাবের হাতে আটক দুজন। ছবি: আগামীর সময়
লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালির উদ্দেশে যাত্রা করার পর নিখোঁজ হয়েছেন হবিগঞ্জের ৩৮ তরুণ। নিখোঁজের ৬ মাস ২৮ দিন পেরিয়ে গেলেও তাদের কোনো সন্ধান মেলেনি। এ ঘটনায় মানব পাচার চক্রের দুই সদস্যকে আটক করেছে র্যাব।
আজ সোমবার র্যাব-৯ হবিগঞ্জ ক্যাম্প প্রাকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় এ তথ্য।
আটক ব্যক্তিরা হলেন, হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলার পশ্চিমবাগ গ্রামের মৃত নীহার মনির ছেলে রুমান মিয়া (৩৬) এবং আলী আকবরের ছেলে সোহাগ মিয়া (২৫)।
র্যাব জানায়, সোমবার শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার ওলিপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে আটক করা হয় তাদের। পরে আজমিরীগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হলে পুলিশ মানব পাচার আইনে করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখায়।
গত বছর ৩০ সেপ্টেম্বর লিবিয়ার ত্রিপোলি উপকূল থেকে ইতালির উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন ওই তরুণরা। যাত্রার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাদের সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এ নিয়ে ধারাবাহিক সংবাদ প্রকাশের পর লিবিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেয় প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়।
লিবিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রথম সচিব মো. রাসেল মিয়া জানান, নিখোঁজ ব্যক্তিরা বিভিন্ন দেশ হয়ে লিবিয়ায় প্রবেশ করায় তাদের সুনির্দিষ্ট তথ্য দূতাবাসের কাছে থাকে না। বাংলাদেশ থেকে চিঠি পাওয়ার পর সম্ভাব্য কারাগার ও হাসপাতালগুলোতে খোঁজ নেওয়া হলেও তাদের সন্ধান মেলেনি। তথ্য দিতে পারেনি রেড ক্রিসেন্টসহ অন্যান্য মানবিক সংস্থাও।
তিনি আরও জানান, তারা যদি কোনো চক্রের হাতে জিম্মি থাকতেন, তবে মুক্তিপণের জন্য পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হতো। আবার কারাগার বা হাসপাতালে থাকলেও যোগাযোগের সম্ভাবনা থাকত। এ ক্ষেত্রে ধারণা করা হচ্ছে, প্রকৃত তথ্য জানেন সংশ্লিষ্ট দালাল বা মানব পাচারকারীরাই।
দূতাবাস সূত্র জানায়, এর আগে গত মার্চ মাসে ভূমধ্যসাগরে নিখোঁজ হন আরও ১৫ জন বাংলাদেশি। এখন পর্যন্ত তাদেরও কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। সব মিলিয়ে দুই দফায় অন্তত ৫৩ জন বাংলাদেশি নিখোঁজ হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাদের সাগরে ডুবে মারা যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
জানা গেছে, গত ৩০ সেপ্টেম্বর লিবিয়ার ত্রিপোলি থেকে ইতালির উদ্দেশে চারটি নৌকা ছেড়ে যায়। এর মধ্যে একটি নৌকায় ছিলেন হবিগঞ্জের ৩৮ জনসহ ৯০ জন। ওই নৌকাটিই নিখোঁজ হয়। ইতালিতে পৌঁছায় বাকি তিনটি নৌকা।
মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, আজমিরীগঞ্জের পশ্চিমভাগ গ্রামের লিবিয়াপ্রবাসী হাসান আশরাফ ওরফে হাসান মোল্লার মাধ্যমে ওই ৩৮ জন ইতালি যাওয়ার উদ্যোগ নেন। প্রত্যেকে দেন ১৭ থেকে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত।
অভিযোগ, লিবিয়ায় অবস্থান করে বাংলাদেশি তরুণদের ইতালিতে পাঠানোর ক্ষেত্রে ‘দালাল’ হিসেবে প্রভাব বিস্তার করেছেন হাসান মোল্লা। গত ছয় মাসে প্রায় এক হাজার মানুষকে ইতালিতে পাঠিয়েছেন বলে স্থানীয়ভাবে প্রচার রয়েছে। এ ব্যবসার মাধ্যমে তিনি বিপুল অর্থ উপার্জন করেছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। গ্রেপ্তার রুমান ও সোহাগ মিয়া চক্রের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে এতে।



