brandbazaar globaire air conditioner

অভিনেত্রী শিমুকে গলাটিপে হত্যা করেন স্বামী ও তার বন্ধু

অভিনেত্রী শিমুকে গলাটিপে হত্যা করেন স্বামী ও তার বন্ধু

অভিনেত্রী রাইমা ইসলাম শিমুকে গলাটিপে হত্যা করেন স্বামী শাখাওয়াত আলীম নোবেল ও তার বন্ধু এস এম ওয়াই আব্দুল্লাহ ফরহাদ। হত্যার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন নোবেল। শুক্রবার (২১ জানুয়ারি) শিমু হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হুমায়ূন কবির।

তিনি বলেন, শিমু হত্যার আসামি স্বামী শাখাওয়াত আলীম নোবেল (৪৮) ও তার বাল্যবন্ধু এস এম ওয়াই আব্দুল্লাহ ফরহাদ (৪৭) বৃহস্পতিবার (২০ জানুয়ারি) আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দি থেকে জানা যায়, নোবেলের বাল্যবন্ধু ফরহাদ প্রায়ই কলাবাগান এলাকায় তার বাসায় আসা-যাওয়া করত। এ সূত্র ধরে গত ১৬ জানুয়ারি আনুমানিক সকাল ১০টায় ফরহাদ তাদের বাসায় আসেন। এ সময় নোবেল তার স্ত্রী শিমুকে চা বানাতে বলেন। চা দিতে দেরি হওয়ায় নোবেল রান্না ঘরে ঢুকে দেখেন তার স্ত্রী শিমু মোবাইল ফোন দেখছে। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে নোবেল তার বন্ধুকে ডেকে নেন।

dhakapost

নোবেল ও তার বন্ধু ফরহাদ শিমুর গলাটিপে ধরলে ঘটনাস্থলেই শিমু মারা যান। পরে ফরহাদ একটি বস্তায় শিমুর লাশ ভরে সেটি সুতা দিয়ে সেলাই করেন। পরে বাড়ির দারোয়ানকে নাস্তা আনার কথা বলে বাইরে পাঠিয়ে শিমুর বস্তাবন্দি লাশটি তারা গাড়ির পেছনে রাখেন। নোবেল ও ফরহাদ লাশটি নিয়ে রাজধানীর মিরপুরসহ বিভিন্ন জায়গায় গুম করার জন্য সুযোগ খুঁজতে থাকেন। সুযোগ না পেয়ে লাশটি নিয়ে সন্ধ্যায় তারা আবার বাসায় ফিরে আসেন। ওই দিন রাতেই আবার লাশটি নিয়ে তারা বছিলা সেতু দিয়ে কেরানীগঞ্জের হযরতপুর এলাকায় যান। এ সময় সুযোগ বুঝে তারা আলীপুর ব্রিজের অদূরে একটি রাস্তার পাশে বস্তাবন্দি অবস্থায় শিমুর লাশটি ফেলে পালিয়ে যান।

এএসপি হুমায়ূন কবির বলেন, ১৭ জানুয়ারি সকালে কেরানীগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ অজ্ঞাত হিসেবে শিমুর লাশ উদ্ধার করে। পরে ঢাকা জেলা পিবিআইয়ের সহায়তায় অভিনেত্রী শিমুর লাশ শনাক্ত করে পুলিশ। শিমুর লাশ বহনকারী গাড়িতে থাকা একটি সুতার বান্ডেল উদ্ধার করে পুলিশ। শিমুর লাশ রাখা বস্তার সেলাইয়ের সঙ্গে ওই সুতার মিল পাওয়ায় পুলিশ সন্দেহভাজন হিসেবে নোবেল ও তার বন্ধুকে ১৭ জানুয়ারি রাতে আটক করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য না দিলেও তিন দিনের রিমান্ড শেষে আদালতে তোলার পর তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

সংবাদ সম্মেলন আরও উপস্থিত ছিলেন— ঢাকা জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কেরানীগঞ্জ সার্কেল সাহাবুদ্দীন কবীর, কেরানীগঞ্জ মডেল ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু ছালাম মিয়া, ওসি তদন্ত মো. রোমজানুল হক ও ওসি অপারেশন মো. আশকুর রহমান প্রমুখ।

 

 

Related posts