brandbazaar globaire air conditioner

আর্জেন্টিনাকে মরুতে নামিয়ে আনল সৌদি আরব

আর্জেন্টিনাকে মরুতে নামিয়ে আনল সৌদি আরব

৩৬ ম্যাচের অপরাজেয় যাত্রা নিয়ে বিশ্বকাপে এসেছিল আর্জেন্টিনা। আর এক ম্যাচে না হারলে আন্তর্জাতিক ফুটবলে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় অপরাজেয় থাকার রেকর্ড স্পর্শ করতো লিওনেল স্কালোনির দল। কিন্তু মরুভূমির এই বিশ্বকাপে সবচেয়ে অপ্রত্যাশিত স্বাগতম-বাণীটাই পেল আর্জেন্টিনা। টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম ম্যাচে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে দিল সৌদি আরব। কাতারের লুসারি স্টেডিয়াম বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আপসেটগুলোর একটির সাক্ষী হলো।

টুর্নামেন্টের প্রথম কয়েকদিনে নিজস্ব ম্যাচে কাতার ও ইরানের অসহায় আত্মসমর্পণের পর সৌদি আরবের কপালেও অনুরূপ ভাগ্যই দেখছিল সবাই। ম্যাচের শুরুটাও তেমন ইঙ্গিতই দিচ্ছিল। ছন্দে থাকা আর্জেন্টিনা প্রথম মিনিট থেকেই মাঠে তাদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে। দ্বিতীয় মিনিটে প্রথম আক্রমণে উঠে তারা। ডিবক্সের ভেতর ঢুকে মেসির ফার্স্ট টাচ শট ফেরাতে সক্ষম হন সৌদি গোলরক্ষক আল ওয়াইস। ম্যাচের অষ্টম মিনিটে ভিএআরের পরামর্শে পেনাল্টি পায় আর্জেন্টিনা। কর্নারের সময় পারাদেসকে এক সৌদি ডিফেন্ডার জাপটে ধরে ফেলে দেওয়ায় দেওয়া হয় এ পেনাল্টি। যথারীতি পেনাল্টি থেকে গোল করেন লিওনেল মেসি।

গোলের পর আক্রমণের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেয় আর্জেন্টিনা। আর্জেন্টিনার সাথে শারীরিক ডুয়েল ও বলের কারিকুরিতে পরাস্ত হতে থাকলেও সৌদি আরব তাদের গেমপ্ল্যানে অনড় থাকে। কোচ হার্ভ রেনার্ড তার আন্ডারডগ দলকে নিয়েও হাই-লাইন নির্ভর গেমপ্ল্যান সাজিয়েছিলেন। যেই হাইলাইনের ফাঁদে পা দিয়ে একের পর এক অফসাইডে পড়তে শুরু করে মার্টিনেজরা। প্রথমার্ধেই আর্জেন্টিনার তিনটি গোল বাতিল হয় অফসাইডে (মার্টিনেজের দুই, মেসি একটি)। আর্জেন্টিনার এলিট আক্রমণ-ত্রয়ী শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল না নিয়েই মধ্যবিরতিতে যায়।

মধ্যবিরতির পরই বদলে যায় পুরো ম্যাচ। এখানে বলে রাখা ভালো, আজকের সৌদি একাদশের নয়জনই এসেছেন আল হিলাল থেকে। এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসে সফলতম দল আল হিলাল সর্বশেষ ২০২১ সালেও পরেছে মহাদেশসেরার মুকুট। আর হার্ভ রেনার্ডও বেশ অভিজ্ঞ একজন কোচ, যার অধীনে ২০ বছর পর বিশ্বকাপে খেলেছে মরক্কো, কুড়িয়েছিল প্রশংসাও। রেনার্ডের শিষ্যরা দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই আর্জেন্টিনাকে অবাক করে দিয়ে সক্রিয়, আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে শুরু করে। এবং তার সুফলও পায় সাথে সাথেই। ৪৮ মিনিটে মধ্যমাঠ থেকে আল বুরাইকানের বাড়ানো বল নিয়ে বক্সের দিকে এগিয়ে যান সৌদি স্ট্রাইকার আল শেহরি। রোমেরোকে পরাস্ত করে বক্সে প্রবেশ করে রিয়ার পোস্টে শট নেন তিনি। এবং ম্যাচে সমতা ফেরায় সৌদি আরব।

মাঠে সৌদি দর্শকদের উদযাপন শেষ হতে না হতেই আবার আক্রমণে উঠে তারা। ৫৩ মিনিটে সৌদি আক্রমণ থেকে ডিবক্সের ভেতর একটি লুজ বল পান উইঙ্গার সালেম আল দাওসারি। ১৮০ ডিগ্রি টার্নে দুই আর্জেন্টিনা ডিফেন্ডারকে বোকা বানিয়ে, এবং আরেকজন আর্জেন্টাইনকে কাটিয়ে শট নেন তিনি। মার্টিনেজকে পেরিয়ে ডান পাশের জালে আছড়ে পরে সেই শট। আবার উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে সৌদি সমর্থকরা।

পিছিয়ে পড়ার পর অবশ্য আর্জেন্টিনা বেপরোয়া হয়ে আক্রমণ করতে থাকে। বেশ কয়েকবার সমতা ফেরানোর খুব কাছেও চলে আসে তারা। কিন্তু মার্টিনেজের শট, মেসি ও আলভারেজের হেড কোনোটাই আল ওয়াইসকে পরাস্ত করতে সক্ষম হয় না। ম্যাচের শেষ ৩০ মিনিটে একটানা অ্যাটাক করে গেলেও শেষ পর্যন্ত ১-২ গোলের পরাজয় নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় আর্জেন্টিনাকে।

Related posts