brandbazaar globaire air conditioner
ব্রেকিং নিউজঃ

নিয়ম করে সকালে হাঁটুন

নিয়ম করে সকালে হাঁটুন

আমরা সবাই জানি হাঁটাহাঁটি করা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। নিয়মিত হাঁটা ও শরীরচর্চাই আমাদের বাঁচিয়ে রাখে। হাঁটলে শরীরের প্রতিটি কোষে অক্সিজেন পৌঁছায়। ফলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। খুব সহজেই অসুখে পড়ার ঝুঁকি কমে আসে। নিয়মিত হাঁটা সবচেয়ে ভালো ব্যায়াম। সুন্দর, মুক্ত পরিবেশে হাঁটলে মন আর শরীরটা বদলে যায়।

নিয়ম করে সকালে হাঁটুন

আর তাই প্রতিদিন সকালে অন্তত ২০ থেকে ৩০ মিনিট টানা হাঁটার অভ্যাস রাখা উচিৎ। এতে করে সারাটা দিন ভালো কাটবে। শরীরের রোগভোগের আশঙ্কা অনেক কমে যাবে।

বলতে পারেন, হাঁটলেই যদি ক্যালরি পোড়ে তাহলে সকাল-সন্ধ্যায় নিয়মিত হেঁটেও কেন অনেকের ওজন কমে না? অনেকে তো বছরের পর বছর ধরে হেঁটেও ওজন কমাতে পারেন না! কেউ কেউ হয়তো বলবেন ওজন কমানোই তো হাঁটাহাঁটির একমাত্র উদ্দেশ্য নয়। কথা সত্যি।

 

হাঁটার আগে কি করবেন

 

প্রতিদিন হাঁটতে যাওয়ার আগে লক্ষ্য রাখুন আপনার পোশাকটি যথেষ্ট আরামদায়ক এবং হাঁটার উপযোগী কিনা। হাঁটার আগে একটু ঢিলেঢালা পোশাক পরে নিন। হাঁটার জন্য আরামদায়ক জুতো কিনে নিন। সঙ্গে অবশ্যই খাবার পানি রাখুন। প্রতি ১৫ মিনিট পর পর পানি খান অল্প করে। তাহলে সকালের হাঁটার অভ্যাসটা উপভোগ্য হয়।

 

কতক্ষণ হাঁটবেন

 

প্রতিদিন অন্তত ৩০-৪০ মিনিট হাঁটতে হবে। এতে করে রোগবালাই প্রায় ৬০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়। সপ্তাহে ৪/৫ দিন কমপক্ষে ৩০ মিনিট দ্রুত হাঁটলেই আপনার শরীরের অনেক উন্নতি হবে। আত্মবিশ্বাসও বাড়বে।

 

কখন হাঁটবেন

 

হাঁটার ভালো সময় ভোর বেলা। এসময় কোলাহল কম থাকে, পরিবেশ তুলনামূলকভাবে কম দূষিত থাকে। তাই এসময়ের নির্মল বাতাসে হাঁটা শরীরের জন্য বেশি ভালো।

 

তবে চাইলে সুবিধামত সময়ে হাঁটা যায়। শরীরের কথা চিন্তা করলে বিকালে হাঁটা সবচেয়ে ভালো। কারণ তখন পেশী নমনীয় থাকে। শরীরের তাপমাত্রা সকালের চাইতে বেশি থাকে। তখন সব কাজ শেষ করে টেনশন মুক্ত হয়ে হাঁটা যায়। কিন্তু সকালে হাঁটলে মাসেল ও জোড়া শক্ত হয়ে থাকে। আবার শরীরও ওয়ার্ম আপ হতে সময় বেশি লাগে। সে কথা চিন্তা করলে বিকালে হাঁটা উত্তম। কিন্তু বিকালে পরিবেশ দূষণ বেশি থাকে এটাও সমস্যা। সকালে দূষণ মুক্ত পরিবেশে হাঁটা যায়। তবে আপনি যখনি সময় পান সুবিধা মত সময়ে হেটে নিবেন। চেষ্টা করবেন প্রতিদিন একই সময়ে হাঁটতে।

 

কোথায় হাঁটবেন?

 

সুন্দর, দূষণমুক্ত পরিবেশে হাঁটা উচিৎ। হাঁটার জায়গা যেন সমতল ও পরিষ্কার হয় তা লক্ষ্য রাখুন। বাড়ির বাগান, পার্কে, পরিষ্কার ফুটপাতে বা যেকোনো খোলা জায়গায় হাঁটতে পারেন। মাঝে মাঝে হাঁটার রাস্তা বা জায়গা বদল করুন। এতে একঘেয়েমি কাঁটবে, ভালো লাগবে।

 

ওজন কমানো ছাড়াও নিয়মিত হাঁটার অন্য অনেক স্বাস্থ্যগত উপকারিতা আছে। দেখে নিনএমন কিছু উপকারি দিক:

 

১. প্রতিদিন সকালের মর্নিং ওয়ার্কের সময় বিশুদ্ধ বাতাস ও সুন্দর পরিবেশ হৃৎপিণ্ড ও মনের কর্মক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে। হাঁটার সময় হৃৎপিণ্ড শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে বিশুদ্ধ রক্ত সঞ্চালন করে। ফলে প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সুস্থ ও সচল থাকে।

 

২. সকালে প্রতিদিন কিছুক্ষণ করে হাঁটলে ফুসফুসে তাজা বাতাস প্রবেশ করার সুযোগ পায়। এই বাতাস থেকে অক্সিজেন সংগ্রহ করে হৃৎপিণ্ড রক্তকে বিশুদ্ধ করে এবং অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্ত মস্তিষ্কে সরবরাহ করে। ফলে মস্তিষ্ক সচল থাকে এবং স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি পায়।

 

৩. স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে সকালে নিয়মিত হাঁটলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে। নিয়মিত সকালে হাঁটলে রক্তের লোহিত কণিকাগুলো থেকে চর্বি ঝরে যায়। এছাড়াও হাঁটার সময় রক্তের ইন্সুলিন ও গ্লুকোজ ক্ষয় হয়। ফলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রিত থাকে।

 

৪. প্রতিদিন সকালে হাঁটলে প্রচুর পরিমাণে ঘাম হয়। ফলে ত্বকের লোমকূপগুলো খুলে যায় এবং শরীরের দূষিত পদার্থগুলো ঘামের মাধ্যমে বের হয়ে যায়। ফলে ত্বক উজ্জ্বল ও লাবন্যময় দেখায়।

 

৫. নিয়মিত সকালে হাঁটলে মেদ ভুড়ির হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। হাঁটলে প্রচুর ক্যালরী ক্ষয় হয়। ফলে নিয়মিত কম ক্যালরীর খাবার খাওয়ার পাশাপাশি প্রতিদিন সকালে অন্তত ৩০ মিনিট করে হাঁটলে মেদ কমে এবং দেহের আকৃতি সুন্দর হয়।

 

৫. প্রতিদিন কম্পিউটারের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে আমাদের চোখের বারোটা বেজে যাচ্ছে। চোখকে কিছুটা আরাম দিতে এবং চোখের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে প্রতিদিন সকালে হাঁটার বিকল্প নেই। গবেষণায় দেখা গেছে যে সকালে খালি পায়ে ঘাসের উপর হাঁটলে দৃষ্টিশক্তি ভালো থাকে।

 

৬. প্রতিদিন হাঁটতে বেড়িয়ে সকালের সুন্দর স্নিগ্ধতা উপভোগ করার মতো। প্রতিদিন সকালে কিছুক্ষণ হেটে আসলে সারাদিন কাজের উৎসাহ বাড়ে এবং মানসিক চাপ কমে যায়।

 

৭. প্রতিদিন সকালে হাঁটলে শরীরের প্রতিটি কোষে বিশুদ্ধ রক্ত এবং অক্সিজেন পৌছে যায়। ফলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে এবং সহজেই অসুখের প্রবণতা কমে।

 

৮. ডায়বেটিস রোগীদের জন্য হাঁটার কোনো বিকল্প নেই। টাইপ-১ এবং টাইপ-২ ডায়বেটিসের রোগীদের হাঁটলে রোগের উপশমে অনেক উপকার হয়।

 

এর বাইরেও বিভিন্ন জটিল জটিল রোগের জন্য আলাদা আলাদা ব্যায়াম আছে। অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি যে হাঁপানির মতো জটিল রোগও কিন্তু বিশেষ ধরনের ব্যায়ামের মাধ্যমে আরোগ্য হতে পারে।

Related posts

Leave a Reply

body banner camera