brandbazaar globaire air conditioner

মুস্তাফিজ-শরিফুলে মুগ্ধ ডোনাল্ড, মজেছেন খালেদ-এবাদতেও

মুস্তাফিজ-শরিফুলে মুগ্ধ ডোনাল্ড, মজেছেন খালেদ-এবাদতেও

পেসার হিসেবে কিংবদন্তির খাতাতেই নাম আছে দক্ষিণ আফ্রিকান সাবেক ক্রিকেটার অ্যালান ডোনান্ডের। খেলা ছাড়ার পর কোচ হিসেবে সুনাম কুড়িয়েছেন ‘সাদা বিদ্যুৎ’ খ্যাত এই প্রোটিয়া। এবার যোগ দিয়েছেন বাংলাদেশ দলের পেস বোলিং কোচ হিসেবে। নিজ দেশ দক্ষিণ আফ্রিকায় দায়িত্ব বুঝে নিয়ে প্রথমবার গুরুভার বইতে এসেছেন বাংলাদেশে। দায়িত্ব নিয়ে ডোনাল্ড মুগ্ধ হয়েছেন টাইগার পেসারদের পারফরম্যান্স আর আগ্রাসনে।

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজকে সামনে রেখে বাংলাদেশ দল এখন অনুশীলন করছে চট্টগ্রামে। সেখানে শরিফুল ইসলাম, এবাদত হোসেন, সৈয়দ খালেদ আহমেদ, রেজাউর রহমান রাজাকে নিয়ে কাজ করছেন ডোনাল্ড। আজ বৃহস্পতিবার অনুশীলন শেষে কথা বলেছেন সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে।

শরিফুলকে প্রশংসা বন্যায় ভাসিয়ে ডোনাল্ড বলেন, ‘শরিফুলের পারফরম্যান্সে আমি সত্যিই খুশি, বিশেষ করে ওয়ানডে সিরিজের পারফরম্যান্সে। দক্ষিণ আফ্রিকায় অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে ওকে আমি দেখেছিলাম। তার বোলিং ছিল নজরকাড়া। বাংলাদেশ যে বার যুব বিশ্বকাপ জেতে, তখনই তাকে দারুণ বোলার হিসেবে দেখা হয়েছে।’

এবাদত আর খালেদ দর্শনে ডোনান্ড বলছিলেন, ‘আমি মনে করি বড় চমক ছিল এবাদত ও খালেদের বোলিং। তাদের সামর্থ্য দেখে আমি অবাক হয়েছি। ফাস্ট বোলিং মানে হল প্রচুর সাহস আর একাগ্রতা। আমি এর আগে কখনও কোনো টেস্টে দুই স্পিনার আর দুই পেসার দেখিনি। তারা যেভাবে নিজেদের কাজ করেছে, বিশেষ করে ডারবান টেস্টে- অসাধারণ। যে একটা ঘণ্টায় আমরা পিছিয়ে গিয়েছিলাম এটা বাদে দক্ষিণ আফ্রিকাকে দুই টেস্টে অলআউট করা দারুণ নৈপুণ্য ছিল। যা দেখলাম তাতে আমি অনেক খুশি।’

বাংলাদেশে এসে অনুশীলনে জাতীয় দলের প্রায় সব পেসারদের পেলেও তাসকিন আহমেদ আর মুস্তাফিজকে পাননি ডোনাল্ড। কাঁধের চোটে টেস্ট থেকে ছিটকে গেছেন ডানহাতি স্পিড স্টার। মুস্তাফিজ নেই টেস্টে, ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ খেলতে ভারতে অবস্থান করছেন। বাঁহাতি কাটার মাস্টার না থাকলেও ডোনাল্ড জানিয়েছেন, মুস্তাফিজের পারফরম্যান্সের অনেক বড় ভক্ত তিনি।

ডোনাল্ড বলেন, ‘আমি মুস্তাফিজের অনেক বড় ভক্ত। আমি মনে করি সাদা বলে সে দারুণ এক বোলার। আমি রোমাঞ্চিত হওয়ার একটা কারণ হল এখানকার ছেলেরা সঠিক প্রশ্নটা করে, তারা শিখতে চায়। আমাদের ছেলেদের অনেকে ঘরে ফেরার পর বোলিংয়ের পরিকল্পনা বন্ধ করে দেয়। এবাদত, খালেদ ও শরিফুল জানে কীভাবে ফ্ল্যাট পিচে বল করতে হয়। এটা শেখার একটা দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া।’

সম্প্রতি আলোচনায় মুস্তাফিজের টেস্ট খেলা প্রসঙ্গ। বোর্ড প্রধান থেকে শুরু করে টিম ম্যানেজমেন্টে অনেকেই চান বাঁহাতি পেসার সাদা পোশাকটা আবার গায়ে চাপান। তবে মুস্তাফিজ নিজে সেটি চাচ্ছেন না। নিকের ক্রিকেট ক্যারিয়ার বড় করতে পাঁচদিনের ফরম্যাট থেকে দূরে থাকতে চান। এই ইস্যুতে কোচ ডোনাল্ডের সমর্থন মুস্তাফিজের প্রতি।

ডোনাল্ডের ব্যাখ্যা, ‘মুস্তাফিজের টেস্ট খেলা নিয়ে বলা কঠিন। তারা একটি বেছে নিতে পারে। ইংল্যান্ডের ডিরেক্টর অব ক্রিকেট বলেছিলেন, ক্রিকেটাররা একসময় ১২ মাস খেলার জন্য প্রস্তুত ছিল, এখন যেটা ৯ মাস। মুস্তাফিজের ব্যাপারটা ব্যক্তিগত পছন্দ। আমরা এটা নিয়ে বোধহয় মুস্তাফিজের সাথে কথা বলতে পারি। এটা পুরোপুরি ব্যক্তিগত ব্যাপার।’

যোগ করেন ডোনাল্ড, ‘প্রথমে যখন আন্দ্রে রাসেলকে কলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়ে খেলতে দেখলাম, আমি মনে করেছিলাম সে পৃথিবীর সেরা খেলোয়াড়। ১৫০ কিমি গতিতে বল করত, ১১০ মিটার ছক্কা হাঁকাত। তবে তার শরীর টেস্ট ক্রিকেটের জন্য ছিল না। তাই সে সীমিত ওভারকেই বেছে নিয়েছে। এটা যার যার ব্যক্তিগত পছন্দ।’

 

Related posts