brandbazaar globaire air conditioner
ব্রেকিং নিউজঃ

সবার সর্বনাশ শাহরুখের পৌষ মাস!

সবার সর্বনাশ শাহরুখের পৌষ মাস!

কথায় আছে, কারো পৌষ মাস কারো সর্বনাশ। মাঘের এই হাড়কাঁপানো শীতে পৌষের দেখা পেল শাহরুখ খানের ‘পাঠান’। মুদ্রার অপর পিঠে সর্বনাশ দেখছে অন্যরা। দৃশ্যটা কলকাতার— দেবের ‘প্রজাপতি’, প্রসেনজিতের ‘কাবেরী অন্তর্ধান’, পরমব্রতের ‘ডক্টর বক্সী’, অনিবার্ণের ‘দিলখুশ’ খোদ নিজেদের ঘরেই ব্রাত্য। নেপথ্যে কলকাঠি নাড়ছে যশরাজ ফিল্মস!

বিভিন্ন মহলে কথা বলে জানা যাচ্ছে, প্রযোজনা সংস্থার পক্ষ থেকে ‘পাঠান’ নিয়ে রাজ্যে সিঙ্গেল স্ক্রিনের ক্ষেত্রে ‘নো শো’ নীতি নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ সিঙ্গেল স্ক্রিন বিশিষ্ট কোনো প্রেক্ষাগৃহে ‘পাঠান’ চললে সেখানে অন্য কোনো ছবি দেখানো যাবে না। এমনটাই নাকি যশরাজের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। ফলে ফাঁপরে পড়েছেন অনেকেই।

বড়দিনে মুক্তিপ্রাপ্ত দেব-মিঠুন অভিনীত ‘প্রজাপতি’ ছবিটি এখনও একাধিক সিনেমা হলে দারুণ চলছে। কিন্তু ‘পাঠান’-এর জন্য আগামী বুধবার থেকে প্রায় ১৮-২০টি হল থেকে ছবিটি তুলে নেওয়া হচ্ছে। ছবির অন্যতম প্রযোজক অতনু রায় চৌধুরী বললেন, “লোভ মানুষকে কোথায় নিয়ে যায়, সেটা এখন বুঝতে পারছি। কিছুদিন পর ‘পাঠান’ তো চলে যাবে। তখন তো বাংলা ছবিই সিঙ্গেল স্ক্রিনকে বাঁচিয়ে রাখবে। এরা হয়তো বুঝতে পারছে না! সরকারি হস্তক্ষেপ ছাড়া এই সমস্যা মিটবে বলে মনে হয় না।”

গত সপ্তাহে মুক্তি পেয়েছে ‘কাবেরী অন্তর্ধান’ এবং ‘দিলখুশ’-এর মতো বাংলা ছবি। দুটি ছবিই দর্শকের মনে আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। পরিচালক কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় বললেন, “করোনার সময় কর্মীদের দু’বছর বেতন দিয়ে হল মালিকরা রেখেছিলেন। ‘পাঠান’-এর অকল্পনীয় ব্যবসা থেকে হল মালিকরা কেন বঞ্চিত হবেন? তাদের প্রতি আমার কোনো অভিযোগ নেই। আমি হল মালিক হলে আমিও হয়তো ‘পাঠান’ চালাতাম।’’

সমস্যা সমাধানে অতনুর মতো সরকারি হস্তক্ষেপ চান কৌশিকও। বললেন, ‘অন্তত ৪০-৫০টা হলে ব্যবসা করা আঞ্চলিক ছবি নিজের রাজ্যে দেখাতে না পারলে এর থেকে অবমাননাকর আর কিছু হতে পারে না। সবাই একত্রিত হয়ে এটাকে বন্ধ করতে হবে। প্রয়োজনে সরকারকে হস্তক্ষেপ করতে হবে। সঠিক সময়ে কমপক্ষে ৫০ শতাংশ শো বাংলা ছবিকে দিতে হবে।’

কলকাতায় ‘পাঠান’-এর পরিবেশনার দায়িত্বে রয়েছে ‘জালান ডিস্ট্রিবিউটর’। পরিস্থিতি নিয়ে সংস্থার পক্ষ থেকে কুশাগ্র জালান আনন্দবাজারকে বলেন, ‘বড় ছবির ক্ষেত্রে এই মডেলটা তো নতুন নয়। সিনেমা তো একটা ব্যবসা। সবাই চায় তার ছবিটা যেন বেশি সংখ্যক হল পায়।’ তাহলে বাংলা ছবি যে জায়গা পাচ্ছে না বলা হচ্ছে? কুশাগ্রর কথায়, “অনেক হলেই কিন্তু ‘পাঠান’ চলবে না। তাহলে সেখানে তো বাংলা ছবিই দেখানো হবে।”

শুধু কলকাতা নয় পুরো ভারতজুড়ে চলছে ‘পাঠান জ্বর’। কলকাতার শাহরুখ ভক্তরাও চান শুধু ‘পাঠান’ না, বাংলা ছবিগুলোও চলুক সমানতালে। শাহরুখের সিনেমার জন্য অন্য ছবিগুলো ক্ষতির মুখে পড়ুক এটা বোধহয় বাদশা নিজেও চাইবেন না, এমনটাই মনে করেন তারা।

 

Related posts