brandbazaar globaire air conditioner

থাইল্যান্ড ভ্রমণ তালিকায় ৭ গন্তব্য (প্রথম পর্ব)

থাইল্যান্ড ভ্রমণ তালিকায় ৭ গন্তব্য (প্রথম পর্ব)

সমুদ্র সৈকত, পাহাড়, বন্যপ্রাণীর প্রাচুর্যে ভরা জাতীয় উদ্যান, আধুনিক শহর – কি নেই থাইল্যান্ডে? যে কোন পর্যটক তার পছন্দের কিছু না কিছু খুঁজে পাবেন থাইল্যান্ডে। থাইল্যান্ডের এমনই কয়েকটি পর্যটন এলাকার কথা জানাবো এই পোস্টে।

১. ব্যাংকক
Bangkok
পৃথিবীর ব্যস্ততম শহরগুলোর একটি ব্যাংকক। কিছু দেখার জন্য না হোক খাবারের জন্য হলেও জীবনে একবার আপনার ব্যাংকক যাওয়া উচিত। অসংখ্য সাংস্কৃতিক এবং ঐতিহাসিক দর্শনীয় স্থান রয়েছে এই শহরে। আকাশচুম্বী আধুনিক স্থাপত্য, দৃষ্টিনন্দন আর্ট গ্যালারি ও জাদুঘর তো থাকছেই। গতানুগতিক মেগামল ছাড়াও এখানে রয়েছে, ঐতিহ্যবাহী ভাসমান বাজার। খাবারের ব্যবস্থাতেও রয়েছে ব্যাপক বৈচিত্র্য। বিলাসবহুল গুরমেট রেস্তোরাঁর পাশাপাশি চেখে দেখতে পারেন স্ট্রিট ফুড। তবে ভয় নেই, অসতর্কতার সাথে তারা খাবার তৈরি করেন না। দিনের সাথে পাল্লা দিয়ে আপনাকে বিনোদনের সুযোগ করে দেবে রাতের ব্যাংকক। নাইট ক্লাব, লাইভ মিউজিক, ককটেইল বার, রুফটপ বার, মুয়া থাই ফাইটস নামের রেস্টলিং ক্লাবসহ আরো নানা কিছু তো রয়েছে। শহরের পরিবহন ব্যবস্থাও চমৎকার – বিটিএস স্কাই ট্রেন, এমআরটি পাতাল ট্রেন, অসংখ্য বাস, ট্যাক্সি। যে কোন ধরনের বাজেটেই আপনি থাকার সুব্যবস্থা পেয়ে যাবেন ব্যাংককে।

২. চিয়াং মাই
Chiang-Mai-Thailand
চিয়াং মাই -কে বলা হয় থাইল্যান্ডের উত্তরের রাজধানী। সংস্কৃতি এবং প্রকৃতির নেশাময় এক সংমিশ্রণ এই শহর। সংস্কৃতি নিয়ে যাদের আগ্রহ তাদের প্রথম পছন্দ হতে পারে চিয়াং মাই। কেননা এখানে আছে ৫০০ এর বেশি মন্দির। শিশুদের পাশাপাশি বড়দেরকেও মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখবে চিয়াং মাই এর রাত্রিকালীন চিড়িয়াখানা। রয়েছে সুদৃশ্য জঙ্গলের ভেতরে হাইকিং ও খরস্রোতা নদীতে র‍্যাফটিং করার সুযোগ। থাইল্যান্ডের সর্বোচ্চ পয়েন্ট ডোই ইথানান রয়েছে চিয়াং মাইতে। পাহাড়ি উপজাতি, অসংখ্য জলপ্রপাত, থাই হাতির অভয়ারণ্য সব মিলিয়ে অসাধারণ এক জায়গা চিয়াং মাই। ব্যাংককের তুলনায় চিয়াং মাই রাতের বেলা কিছুটা নিরিবিলি। তবে তার মানে এই না যে, আপনাকে হোটেলে বসে থাকতে হবে। রয়েছে অসংখ্য বার ও শপিং করার জন্য রাতের বাজার। যেখানে আপনি পাবেন, নানান ধরনের ঐতিহ্যবাহী থাই জিনিসপত্র।

৩. ফুকেট
Phuket
থাইল্যান্ডের বৃহত্তম দ্বীপ এবং অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র ফুকেট। কথিত আছে ফুকেট একটি বহুরূপী দ্বীপ। কেউ কেউ এখানে আসেন শুধু ফুর্তিবাজদের সাথে রাতের আনন্দে গা ভাসিয়ে দিতে। কেউ কেউ আসেন ওয়াটার স্পোর্টসের মজা নিতে। কিন্তু সত্যি বলতে গেলে যে কোনো রুচির মানুষের জন্যই এখানে ভিন্ন ভিন্ন সমুদ্র সৈকত রয়েছে। ফ্রিডম বিচ, কাঠু বিচ, কেরন বিচ থেকে বেছে নিতে পারবেন আপনারটি। সূর্যাস্ত দেখার জন্য যেতে পারেন প্রমথেপ কেইপ। বিশ্বমানের রেস্টলিং দেখতে পারেন মুয়া থাই ফাইট ক্লাবে। পৃথিবীর প্রায় সব ধরনের রেস্তোরাঁ, বার, ক্লাবের দেখা মিলবে ফুকেটে। হাইকিং, গো কার্টিং, হাতির সাথে সন্ধি, মাছ ধরা, স্নোরকেলিং, জেট স্কিং ছাড়াও রয়েছে আরও অনেক মজার মজার ব্যাপার। মনুষ্যসৃষ্ট দর্শনীয় স্থানের মধ্যে আছে ওয়াট চ্যালং ও বিগ বুড্ডা। সমুদ্র সৈকতে বুদ হয়ে শহরটা ঘুরে দেখতে ভুলে যাবেন না যেন। এখানে দেখতে পাবেন চমৎকার সব পুরনো স্থাপনা। হাস্যকর সব ছবি তোলার জন্য যেতে পারেন বান টিলাঙ্কা ও ফুকেট ট্রিকআই মিউজিয়াম।

৪. আয়ুথায়া
Ayutthaya
ইতিহাস ভক্তদের জন্য রয়েছে ইউনেস্কো তালিকাভুক্ত থাইল্যান্ডের সবচেয়ে প্রাচীন শহর আয়ুথায়া। ব্যাংকক থেকে আয়ুথায়া যাওয়া বেশ সহজ। এই শহরের প্রাচীন শৈল্পিক ধ্বংসাবশেষের দৃশ্য আপনাকে নিয়ে যাবে সায়ামের স্বর্ণযুগে। স্যাফ্রন চাদর পরিহিত সারি সারি বৌদ্ধ মূর্তিতে ঘেরা ওয়াট ইয়া চাই মংকার্ন এই শহরের সবচেয়ে ফটোজেনিক স্থান। আপনি চাইলে এর ছোট ছোট গম্বুজ গুলোতে বেয়ে উঠতে পারবেন। গাছের শেকড়ে আবৃত বৌদ্ধ মূর্তির মাথা সম্বলিত ওয়াট মাহাতাত মন্দির বেশ জনপ্রিয়। আরও আছে ওয়াট রাটচাবুরানা, ওয়াট সি সামফেট। সময় করে পুরাতন ডাচ এবং পর্তুগিজ এলাকা ঘুরে দেখতে পারেন। হালকা কেনাকাটা করতে যেতে পারেন ভাসমান বাজারে। আয়ুথায়া ভ্রমণের জন্য সাইকেল কিংবা চালাতে জানলে স্কুটার ভাড়া করে নেয়া সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।

৫. ক্রাবি
Krabi
দক্ষিণ থাইল্যান্ডের সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রদেশগুলোর মধ্যে একটি ক্রাবি। একসাথে থাইল্যান্ডের মূল ভূখণ্ড পাশাপাশি দ্বীপ ভ্রমণ করতে চাইলে ক্রাবি হওয়া উচিত আপনার প্রথম পছন্দ। থাইল্যান্ডের সবচেয়ে সুন্দর দ্বীপ বলে আখ্যায়িত করা হয় কোহ ফি ফি দ্বীপকে। কেন সবচেয়ে সুন্দর দ্বীপ বলা হয় সেটা বুঝতে আপনাকে যেতে হবে “মায়া বে” আর “ফি ফি ভিউ পয়েন্ট”। দীর্ঘ বালুকাময় সৈকত, বিচ বার, ম্যানগ্রোভ বন, মকন সম্প্রদায়ের (সি জিপসি) জন্য বিখ্যাত কোহ লান্টা। পশু প্রেমিকরা স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে লান্টা এনিমেল ওয়েলফেয়ারে কাজ করে সময় কাঁটাতে পারেন। একটু নির্জন সময় কাঁটাতে চাইলে যেতে পারেন স্বল্প পরিচিত কোহ জুম ও কোহ রক দ্বীপে। মূল ভূখণ্ডে দেখার মত রয়েছে রেইলেই, আও নাং বিচ রিসোর্ট ও ক্রাবি টাউন।

৬. মায় হং সন
Mae Hong Son
পাহাড়ে আবৃত কিছুটা দূরবর্তী মায় হং সন প্রদেশদের অবস্থান উত্তর থাইল্যান্ডে। এই এলাকায় পর্যটকের আনাগোনা কম। প্রদেশের শহর অঞ্চলে কিছু বিদেশি পর্যটকের দেখা মিলতে পারে। মিয়ানমারের সীমান্ত ঘেঁষে অবস্থান হওয়ায় এই প্রদেশে শান জাতির মানুষের আধিক্য রয়েছে। সুন্দর প্রকৃতি এবং স্থাপত্য উপভোগের জন্য যেতে পারেন আপনি এই প্রদেশে। যারা প্রকৃতির প্রশান্ত পরিবেশ ভালবাসেন তাদের যেতে হবে এই প্রদেশের পাই নামক স্থানে। পাই কে ডাকা হয় ভবঘুরেদের স্বর্গ নামে। এই অঞ্চলের আকর্ষণের মধ্যে রয়েছে পাই ক্যানিয়ন, জলপ্রপাত, হাইকিং, নদীতে নৌকা ভ্রমণ ইত্যাদি।

৭. কোহ ফাঙ্গান
Koh Phangan
পূর্ণিমার রাতে নাচ-গান ফুর্তি ও পার্টি করার জন্য জনপ্রিয় কোহ ফাঙ্গান। অন্যদিকে প্রাকৃতিক আকর্ষণ তো রয়েছেই। পার্টি করার জন্য “হাদ রিন” জায়গাটা সবচেয়ে জনপ্রিয়। যদি প্রকৃতি প্রেমী হন তাহলে ভিড় থেকে একটু দূরে গেলেই খুঁজে পাবেন শান্ত সৈকত, পুরাতন জলপ্রপাত, শ্যামল বন। স্বল্প খরচে সুস্বাদু খাবারে পেট ভরতে যেতে পারেন রাত্রিকালীন বাজার গুলোতে। রান্না শিখতে চাইলে ঢুকে যেতে পারেন কোন রান্নার স্কুলে। মেডিটেশন ও ইয়োগা সেন্টারে কিছু সময় ব্যয় করে খুঁজে নিতে পারেন আপনার হারিয়ে যাওয়া মানসিক প্রশান্তি।

Related posts

Leave a Reply