brandbazaar globaire air conditioner

শোভা বাড়ায় রূপগঞ্জের গাজরা ফুলের মালা

শোভা বাড়ায় রূপগঞ্জের গাজরা ফুলের মালা

নজরুল ইসলাম লিখন, রূপগঞ্জ ঃ গাজরা ফুল তুলছেন তোতা মিয়া ও রিতা। মঙ্গলবার সকালে রূপগঞ্জের মাছুমবাদ এলাকায় ভোর ৫টা। সূর্য তখনও পুব দিকে জেগে ওঠেনি। নারী-পুরুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ব্যস্ত গাজরা ফুল তোলায়। আলো ফুটতেই শুরু হয় তাদের মালা গাঁথার কাজ। বিয়েসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে চুলের সৌন্দর্য বাড়াতে খোঁপায় গাজরার মালা পরে থাকেন নারীরা। এ কারণে গাজরার চাহিদা বেশ ভাল।
রাজধানীর ঢাকায় বিভিন্ন অনুষ্ঠানের শোভা বাড়াচ্ছে রূপগঞ্জের গাজরা ফুলের মালা।
রূপগঞ্জ উপজেলার মাছুমাবাদ, মুরিয়াবো, পাচাঁইখা, গন্ধর্বপুরসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় গাজরা ফুলের চাষ এবং গাঁথুনির চিত্র দেখা যায়। এসব এলাকায় দুই যুগ ধরে গাজরা ফুলের চাষ করে আসছেন স্থানীয় চাষিরা। গাজরা চাষের সঙ্গে জড়িত প্রায় অর্ধশত পরিবার।
চাষিরা জানান, ফুল তুলে দেওয়ার জন্য মজুরি দিতে হয় ছয় থেকে সাত টাকা। সকাল পেরিয়ে দুপুর গড়াতে নারী-পুরুষ মিলে বসে পড়েন মালা গাঁথার কাজে। প্রতিটি মালা গাঁথার জন্য ছয় থেকে সাত টাকা দিতে হয়।
গাজরার মালা বানানোর কাজে একজন শ্রমিক প্রতিদিন দুইশ থেকে আড়াইশ টাকা আয় করতে পারেন বলে তারা জানান।
এভাবে ফুল তোলা ও মালা গেথেঁ প্রায় অর্ধশত পরিবারের সংসার চলছে।এই মালা প্রতিদিন বিকেলের মধ্যে চলে যায় রাজধানী ঢাকার শাহাবাগের কাঁটাবনে। সেখানে প্রতিটি মালা ৫০-৬০ টাকা পাইকারি দরে বিক্রি হয়।
গজরা ফুল তুলছেন কমলা বেগম।
পাচাঁইখা এলাকার বৃদ্ধা কমলা বেগমের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, ‘বাবাগো, আমি বয়স্ক মানুষ। গাজরা ফুল তুইলাই পেট চালাইতাছি। একটা মালা গাঁথার লাইগা আমাগো প্রায় একশ ফুল তুলন লাগে। একশ ফুল তুললে আমরা পাই ছয় টাহা। আর একটা মালা গাঁইথা দিলে পাই ছয় টাহা।’
মাছুমাবাদ এলাকার তোঁতা মিয়া বলেন, আমি গাজরা ফুল তোলার কাজ করতাছি পাঁচ বছর ধইরা। পাশাপাশি অন্য কাজও করি। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ফুল তুইলা দেড়শ থেকে দুইশ টাকা ইনকাম করতে পারি। বাকি সময় অন্যান্য কাজ করি।
মিয়া বাড়ি এলাকার রিতা বলেন, ঘরের কাজের পাশাপাশি গাজঁরা ফুল তোলার কাজ করি। এতে করে সংসারের বাড়তি আয়ের উৎস বাড়ে। এতে আমার স্বামীর পাশাপাশি আমিও সংসার চালাতে সহযোগিতা করতে পারছি বলে অনেক ভাল লাগছে।
গাজরা ফুল বাগানের মালিক নাইম বলেন, আমি গত এক যুগ ধরে গাজরার বাগান করে গাজরা ফুলের ব্যবসা করে আসছি। আমিসহ রূপগঞ্জের আরও কয়েকজন মিলে গাজরা ফুল রাজধানী ঢাকার শাহাবাগে বিক্রি করি। গাজরা ফুলের বাগানে ভালই আয় হয়।
এ বিষয়ে ইক্বরা কিন্ডার গার্টেন মডেল স্কুলের প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম বলেন, গাজরা ফুলের জন্য এলাকাগুলো ফুটে উঠেছে। ফুল চাষে মনযোগী হলে উৎপাদন আরও বাড়ানো সম্ভব হবে।###

 

Related posts