আগামীর সময়

পাথরখেকো প্রভাবশালীদের ধরতে বললেন মন্ত্রী

পাথরখেকো প্রভাবশালীদের ধরতে বললেন মন্ত্রী

সংগৃহীত ছবি

সিলেটের পাথর কোয়ারিগুলো থেকে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনের জন্য প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

মন্ত্রী বললেন, শুধু পেটের দায়ে অবৈধভাবে পাথর-বালু উত্তোলনে জড়িত খেটে খাওয়া শ্রমিকদের আটক করলেই হবে না। বরং শ্রমিকদের জবানবন্দির মাধ্যমে অন্তরালে থাকা প্রকৃত সুবিধাভোগীদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।

বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) বিকেলে গোয়াইনঘাট উপজেলার পূর্ব জাফলং ইউনিয়নে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের জন্য দুস্থ ও অসহায় কর্মহীন পাথর-বালু উত্তোলনসংক্রান্ত প্রায় এক হাজার শ্রমিকের মধ্যে ভিজিএফ খাদ্যশস্য (চাল) বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী জানান, পাথর শ্রমিকদের কর্মসংস্থান এবং সনাতন পদ্ধতিতে পাথর উত্তোলনের ক্ষেত্রে বিদ্যমান আইনি জটিলতা নিরসনে সরকার কাজ করছে। শিগগিরই শ্রমিকরা সুখবর পাবেন।

উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এবং পূর্ব জাফলং ইউনিয়ন পরিষদের সহযোগিতায় এই কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

মন্ত্রী জানান, এই অঞ্চলের খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষের একটি বড় অংশ দীর্ঘদিন ধরে পাথর ও বালু উত্তোলনের ওপর নির্ভরশীল। তাই বিদ্যমান আইনি জটিলতা নিরসনে সংশ্লিষ্ট সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে স্থানীয় শ্রমিকদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত ও ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে পাথর উত্তোলন কার্যক্রম পুনরায় চালুর লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে।

'পাথর শ্রমিকদের কর্মসংস্থান ও চলমান সংকট নিরসনের বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং খুব শিগগিরই এ অঞ্চলের শ্রমিকদের জন্য সুখবর আসবে।' যোগ করে এজন্য সবাইকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান তিনি।

এ সময় মন্ত্রী উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশকে নির্দেশ দিয়ে বললেন, শুধু শ্রমিকদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে আটক করা নয়, এর সঙ্গে জড়িত চাঁদাবাজ ও প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

তিনি জানালেন, আপাতত এই খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির মাধ্যমে শ্রমিকদের মাঝে সরকারি সহযোগিতা প্রদান করা হয়েছে, যা তাদের দৈনন্দিন জীবনে কিছুটা স্বস্তি আনবে। পাশাপাশি কর্মহীন পাথর শ্রমিকদের সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ সরকারিভাবে বিনামূল্যে করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাবেক উপদেষ্টা ও গোয়াইনঘাট উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিম চৌধুরী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রতন কুমার অধিকারী, সিলেট জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম শাহপরান, উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শাহ আলম স্বপন প্রমুখ।

    শেয়ার করুন: