আগামীর সময়

স্কুল ফিডিং প্রকল্প

‘সরকারের কাছে তো পচা ডিম-রুটি চাইনি’

‘সরকারের কাছে তো পচা ডিম-রুটি চাইনি’

ছবিঃ আগামীর সময়

আমরা তো সরকারের কাছে পচা ডিম, রুটি ও কাঁচা কলা চাইনি। সরকার যেন আমাদের ভালো খাবার দেয়। এমনটাই অভিযোগ তালতলী উপজেলার সরদারিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মোসা. মারিয়ার।

বরগুনার তালতলী উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে স্কুল ফিডিং প্রকল্পের আওতায় শিশু শিক্ষার্থীদের পচা ডিম, ফাঙ্গাসযুক্ত রুটি ও কাঁচা কলা সরবরাহ করার অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে অবশ্যই তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা।

শিশুদের এসব খাদ্য সরবরাহ করছে ‘গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থা’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উপকূলীয় অঞ্চলের শিশু শিক্ষার্থীদের শিক্ষায় মনোনিবেশ এবং পুষ্টির চাহিদা পূরণে সরকার স্কুল ফিডিং প্রকল্পের উদ্যোগ নিয়েছে।

এ প্রকল্পের আওতায় উপজেলার ৭৯টি বিদ্যালয়ের ৭ হাজার ২৭০ শিশু। বিদ্যালয় চলাকালীন প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে দৈনিক একটি ডিম, রুটি, কলা, বিস্কুট ও দুধ দেওয়ার কথা। এর মধ্যে ডিম, কলা ও রুটির দায়িত্ব পায় সংস্থাটি।

গত ২৯ মার্চ ওই সংস্থা খাবার সরবরাহ শুরু করে। কিন্তু শুরুতেই কাঁচা কলা, পচা ডিম ও রুটি সরবরাহের অভিযোগ ওঠে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে।

শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দুই দিনের রুটি একসঙ্গে বিদ্যালয়ে দিয়ে যায়। মেয়াদ থাকলেও ওই রুটি পচে যায়। এছাড়া কাটা ডিম সরবরাহ করা হলেও তার মধ্যে অধিকাংশই পচা থাকে। সিদ্ধ করার সময় পচা ডিম ধরা না পড়লেও বাচ্চারা খেতে শুরু করলে দুর্গন্ধ বের হয়। তখন এগুলো খাওয়ার উপযোগী থাকে না।

সরদারিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইয়াসিন ও মারিয়া জানায়, ডিম ও রুটি খাওয়ার উপযোগী না, তাই ফেলে দিয়েছি। আমরা তো ডিম, রুটি ও কলা সরকারের কাছে চাইনি— যখন দিয়েছে, তা পচা হবে কেন?

ছাতনপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীও একই কথা জানায়।

গাবতলী রফিক মিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মোশাররফ হোসেনের অভিযোগ, সরবরাহকৃত ডিমের মধ্যে বেশ কিছু পচা ডিম পাওয়া গেছে। দুই দিন আগে রুটি দিয়ে গেলে তা ভালো থাকে না। রুটির ওপর ফাঙ্গাস পড়ে নষ্ট হয়ে যায়। তখন আর খাওয়ার উপযোগী থাকে না।

বিদ্যালয়ে খাবার সরবরাহকারী মো. ইউনুস মিয়ার ভাষ্য, গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থা আমাকে যে পণ্য সরবরাহ করেছে আমি তা বিদ্যালয়ে পৌঁছে দিয়েছি। তবে ডিম ও রুটি পচা হওয়ার বিষয়টি আমাকেও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থার প্রকল্প পরিচালক মো. খলিলুর রহমানের ভাষ্য, ‘ডিম তো কেউ নিজে থেকে পেড়ে দেয় না। শুনেছি কিছু পচা ডিম পাওয়া গেছে। তবে পরবর্তী সপ্তাহ থেকে মান যাচাই করে ভালো পণ্য দেওয়া হবে।’

তালতলী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. আবুল বাশার জানান, অনেক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা কাঁচা কলা, পচা ডিম ও রুটির বিষয়ে আমাকে অবহিত করেছেন। আমি সব বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের নির্দেশ দিয়েছি, কোনো মতেই পচা ডিম ও রুটি শিশুদের হাতে তুলে দেওয়া যাবে না। এ বিষয়ে করণীয় নিয়ে প্রধান শিক্ষকদের সঙ্গে আগামী সোমবার সভা ডাকা হয়েছে।

    শেয়ার করুন: