আশুলিয়ায় জিরানী ফুটওভার ব্রিজের সিঁড়ি বেহাল, ঝুঁকি নিয়ে পারাপার

ছবি: আগামীর সময়
আশুলিয়ার নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের জিরানী বাজার এলাকায় অবস্থিত ফুটওভার ব্রিজটি বর্তমানে সাধারণ মানুষের জন্য মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। ব্রিজের সিঁড়ি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় প্রতিদিন শিক্ষার্থী ও পোশাক শ্রমিকসহ হাজার হাজার মানুষ চরম ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পারাপার হচ্ছেন।
বিশেষ করে বিকেএসপি পাবলিক স্কুলের সামনের গুরুত্বপূর্ণ এই ব্রিজটির লোহার সিঁড়িগুলোতে মরিচা ধরে অনেক স্থানে ভেঙে গেছে। দুর্ঘটনা এড়াতে স্থানীয়রা পূর্ব পাশের একটি সিঁড়ি বাঁশ দিয়ে বেঁধে চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন। ফলে অন্য পাশের সিঁড়িগুলোতে এখন মানুষের উপচে পড়া ভিড় ও জটলা তৈরি হচ্ছে যা জনভোগান্তিকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, জিরানী বাজারে দুটি ফুটওভার ব্রিজ থাকলেও বিকেএসপি পাবলিক স্কুলের সামনেরটি সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়। এই ব্রিজের পূর্ব ও পশ্চিম পাশের সিঁড়িগুলোর লোহার অংশ পচে গিয়ে বড় ধরনের গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এর আগেও সিঁড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হলে কর্তৃপক্ষ তা মেরামত করে দিয়েছিল। কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই সেগুলো আবার ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়লেও নতুন করে সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। জিরানী এলাকায় বেশ কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কলকারখানা থাকায় বাধ্য হয়েই ভাঙাচোরা সিঁড়ি বেয়ে ঝুঁকি নিয়ে পথচারীদের উপরে উঠতে হচ্ছে।
তুহিন আলম নামে এক যুবক মন্তব্য করেন, সিঁড়িতে পা রাখলেই ভয়ে বুক কেঁপে ওঠে এবং বৃষ্টির দিনে এটি আরও বিপজ্জনক ও পিচ্ছিল হয়ে পড়ে।
রফিকুল ইসলাম রফিক নামে এক পথচারী কোনো বড় ধরনের প্রাণহানি ঘটার আগেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত এই ফুটওভার ব্রিজটি সংস্কার অথবা প্রয়োজনে পুনর্নির্মাণের আহ্বান জানান।
বিষয়টি নিয়ে মানিকগঞ্জ সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহরিয়ার আলম জানান, ফুটওভার ব্রিজের সিঁড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর তিনি শুনেছেন। তার ভাষ্য, ইতিমধ্যে সরেজমিনে ক্ষতিগ্রস্ত স্থান পরিদর্শনে লোক পাঠানো হয়েছে। তিনি আশ্বস্ত করেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে সিঁড়িসহ ব্রিজের ক্ষতিগ্রস্ত সব স্থানে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও মেরামতের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আপাতত যথাযথ সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত ব্রিজটি ব্যবহারে পথচারীদের বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।



