নরসিংদী
প্রেমের ফাঁদে ফেলে ব্ল্যাকমেইল, ‘হানি ট্র্যাপ’ চক্রের দুই নারীসহ গ্রেপ্তার ৪

ছবি: আগামীর সময়
নরসিংদীতে নারীদের ব্যবহার করে প্রেমের ফাঁদে ফেলে অপহরণ, নির্যাতন ও ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগে একটি সংঘবদ্ধ ‘হানি ট্র্যাপ’ চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
বুধবার বিকেলে জেলা পুলিশের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন পলাশ উপজেলার শারমিন আক্তার ওরফে বৃষ্টি (২৪), নরসিংদী সদরের স্মৃতি আক্তার (২০), মো. কাইয়ুম (২৫) ও ফয়সাল মিয়া (৩৪)।
পুলিশ সুপার মো. আবদুল্লাহ আল ফারুকের নির্দেশনায় ডিবি পুলিশের একটি দল মঙ্গলবার রাতে সাহেপ্রতাপ ও রেলস্টেশন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে। এ সময় ফয়সাল মিয়ার কাছ থেকে এক ভুক্তভোগীর মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয় এবং তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা জানান, চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে নারীদের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তিকে প্রেমের ফাঁদে ফেলত। পরে দেখা করার কথা বলে নির্জন স্থানে ডেকে নিয়ে ভুক্তভোগীদের অপহরণ ও শারীরিক নির্যাতন করা হতো। অনেক ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীদের বিবস্ত্র করে নারী সদস্যদের সঙ্গে আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করা হতো এবং তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করা হতো। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হতো।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃত স্মৃতি আক্তারের বিরুদ্ধে অপহরণ ও চুরিসহ একাধিক মামলা রয়েছে। অন্যদিকে ফয়সাল মিয়ার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, মাদক ও চুরিসহ নরসিংদী ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন থানায় অন্তত সাতটি মামলা রয়েছে।
নরসিংদীর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক (নিরস্ত্র) এরশাদ উল্লাহ বললেন, সম্প্রতি শহরের নাগরিয়াকান্দা এলাকায় এক যুবক হানি ট্র্যাপের শিকার হওয়ার বিষয়টি নজরে আসলে পুলিশ তদন্তে নামে এবং এই চক্রের চারজনকে গ্রেফতার করে। চক্রের বাকি সদস্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এই ঘটনায় নরসিংদী মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং আসামিদের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
পুরো জেলাজুড়ে এ ধরনের অপরাধ দমনে পুলিশ অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়।



