পশ্চিমবঙ্গজয়ী শুভেন্দু অধিকারীর পিএসকে গুলি করে হত্যা

সংগৃহীত ছবি
দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হয়েছেন পশ্চিমবঙ্গ জয়ী শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ সহকারী চন্দ্রনাথ রথ। এ ঘটনায় তার সঙ্গে থাকা বুদ্ধদেব বেরা গুলিবিদ্ধ হয়ে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
বুধবার রাতে কলকাতার মধ্যমগ্রামের দোহাড়িয়ায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, দমদম বিমানবন্দর পার হতেই চন্দ্রনাথের গাড়ির পিছু নেয় চারটি বাইকে করে আসা অন্তত আটজন। মধ্যমগ্রামের দোহাড়িয়া লেন এলাকায় পৌঁছুলে উল্টো দিক থেকে এসে গাড়ি লক্ষ্য করে এলোপাথারি গুলি চালায় তারা।
গুলিতে গুরুতর আহত হন চন্দ্রনাথ ও বুদ্ধদেব। দ্রুত তাদের উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতাল ভিভাসিটি নার্সিং হোমে নিয়ে যান স্থানীয়রা। সেখানে চন্দ্রনাথকে মৃত ঘোষণা করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। বুদ্ধদেবের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে স্থানান্তর করা হয়েছে কলকাতার বাইপাসের একটি হাসপাতালে।
হাসপাতাল মালিক প্রতিম সেনগুপ্ত জানিয়েছেন, চন্দ্রনাথের বুকের বাঁ দিকে লেগেছে দুটি গুলি। হাসপাতালে আনার আগেই মৃত্যু হয় তার। অন্যদিকে বুদ্ধদেব বেরার শরীরে গুলি লেগেছে তিনটি । একটি বুকের ডান দিকে, একটি পেটে এবং একটি ডান হাতে। তবে জ্ঞান ছিল তার। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য স্থানান্তর করা হয়েছে তাকে। বুদ্ধদেবের অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হবে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
স্থানীয়দের দাবি, চন্দ্রনাথ কোন গলিতে ঢুকবেন তা আগে থেকেই জানত হামলাকারীরা। পরিকল্পিতভাবে উল্টো দিক থেকে এসে হামলা চালায় তারা। হামলাকারীদের মাথায় হেলমেট ছিল বলে পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি।
চন্দ্রনাথ রথ ভারতীয় বিমাবাহিনীর সাবেক সদস্য। মধ্যমগ্রামে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতেন তিনি। এবারের নির্বাচনে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দুর হয়ে করেছেন ভোটের যাবতীয় কাজ। গুলিবিদ্ধ বুদ্ধদেব বেরাও যুক্ত ছিলেন একই কাজে। সেই কারণেই কি তাদের হামলার শিকার হতে হলো, নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে অন্য কোনো কারণ, তা নিয়ে ওঠছে প্রশ্ন। বলা যায়, এই ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য রাজনীতিতে হচ্ছে তোলপাড়।
বিজেপির
দাবি, মমতা বন্দোপাধ্যায়
ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে ঘটেছে এই হামলার ঘটনা। অন্যদিকে এই হামলায় নিজেদের
দায় নেই বলে দাবি করছে তৃণমূল। এমনকি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের
উপযুক্ত শাস্তিরও দাবি জানিয়েছে তারা।
যদিও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে মনে করছেন অনেকেই। পাশাপশি রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা নিয়েও ওঠছে প্রশ্ন।
প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে ভূমিধস জয় পেয়েছে বিজেপি।
তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দেপাধ্যায়ের অতীত
দিনের ‘হাতের লাঠি’ শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃ্ত্বেই এ জয় ছিনিয়ে
নেয় বিজেপি। রাজ্যের ভাবি মুখ্যমন্ত্রীর তালিকায়
শুভেন্দুই শীর্ষে। বিধানসভা দলনেতা হিসেবে ঘোষণা করা হতে পারে
তার নাম, রয়েছে এমন
গুঞ্জনও।




