নড়াইলে বিনা পয়সায় পুলিশে চাকরি পেলেন ১৪ তরুণ-তরুণী, আনন্দে চোখে জল

ছবি: আগামীর সময়
নড়াইলে কোনো প্রকার তদবির বা টাকা ছাড়াই সম্পূর্ণ যোগ্যতার ভিত্তিতে ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল পদে চাকরি পেয়েছেন ১৪ জন তরুণ-তরুণী। বুধবার সন্ধ্যায় নড়াইল পুলিশ লাইন্স মিলনায়তনে ফলাফল ঘোষণার পর নবনির্বাচিতদের চোখে আনন্দ অশ্রু দেখা যায়।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আল মামুন শিকদার যখন চূড়ান্তভাবে মনোনীতদের নাম ঘোষণা করেন, তখন মিলনায়তনে আবেগঘন এক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। জেলায় মোট ৬২০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে যাচাই-বাছাই ও লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ৩ জন নারীসহ মোট ১৪ জন এই পদের জন্য মনোনীত হয়েছেন। নিয়োগ বোর্ডের সদস্য মাগুরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহ শিবলী সাদিক ও বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শামীম হোসেনসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নবনিযুক্তদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।
চাকরিপ্রাপ্তদের মধ্যে কেউ ভ্যানচালকের সন্তান, কেউ ইজিবাইক চালক বা কৃষকের পরিবার থেকে আসা। নড়াইল শহরের আবিদ হোসেন, আগদিয়া গ্রামের পাপিয়া খাতুন এবং চরবিলা গ্রামের সুব্রত বিশ্বাসসহ অন্যরা জানান, এক পয়সা খরচ না করে কেবল নিজেদের যোগ্যতায় এই চাকরি পেয়ে তারা অভিভূত। কান্নাভেজা কণ্ঠে তারা তাদের বাবা-মায়ের দীর্ঘদিনের কষ্ট ও সংগ্রামের কথা স্মরণ করেন এবং ভবিষ্যতে দেশ ও জনকল্যাণে সততার সঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
এদিকে হবু পুলিশ সদস্যদের সুসংবাদ শুনে পুলিশ লাইন্সের বাইরে অপেক্ষমাণ স্বজনরাও আনন্দে আত্মহারা হয়ে পড়েন। সন্তানদের জড়িয়ে ধরে বাবা-মায়েরা তাদের পরম তৃপ্তির কথা জানান।
নড়াইলের পুলিশ সুপার আল মামুন শিকদার নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে জানান, ৬২০ জন আবেদনকারীর মধ্যে শারীরিক পরীক্ষায় ১৫৭ জন উত্তীর্ণ হন। তাদের মধ্যে ১৫৬ জন লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেন এবং মাত্র ২২ জন ভাইভা বা মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত হন। চূড়ান্তভাবে ১৪ জনকে মনোনীত করার পাশাপাশি দুইজনকে অপেক্ষমাণ তালিকায় রাখা হয়েছে।
তার ভাষ্য, অত্যন্ত স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ প্রক্রিয়ায় যোগ্যদের খুঁজে বের করা হয়েছে যাতে সাধারণ মানুষের মধ্যে পুলিশ বাহিনীর প্রতি আস্থা আরও বৃদ্ধি পায়। এই সফলতার মাধ্যমে নড়াইলের সুবিধাবঞ্চিত মেধাবী তরুণদের স্বপ্ন পূরণ হলো বলে তিনি দাবি করেন।



