হাসপাতালে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর মৃত্যু, গয়না খুলে পালালেন স্বামী

সংগৃহীত ছবি
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে অন্তঃসত্ত্বা হাসিনা খাতুনের। তার মৃত্যুর পরপরই হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান স্বামী মো. রাতুল ও তার পরিবারের সদস্যরা। এমনকি পালানোর আগে হাসিনার শরীর থেকে খুলে নিয়ে গেছেন স্বর্ণালংকার— ওঠেছে এমনই অভিযোগ।
মঙ্গলবার দিবাগত রাতে মৃত্যু হয় হাসিনা খাতুনের। নওগাঁর সাপাহার উপজেলার আন্দারদিঘি গ্রামের বাসিন্দা তিনি। প্রায় সাত মাস আগে তার বিয়ে হয় রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার রাজাবাড়ি মোল্লাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা রাতুলের সঙ্গে।
স্বজনদের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই হাসিনার ওপর বাবার বাড়ি থেকে টাকা আনার জন্য চাপ দিতেন তার স্বামী। সেই টাকা দিয়ে অবৈধ মাদক ব্যবসা শুরু করার পরিকল্পনা ছিল রাতুলের, এমনটাই দাবি তাদের। টাকা আনতে না পারায় হাসিনাকে নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো বলেও জানিয়েছেন তারা।
হাসিনার খালাতো ভাই রবিউল ইসলামের ভাষ্য, নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে গত সোমবার গভীর রাতে কীটনাশক পান করেন হাসিনা। গুরুতর অবস্থায় প্রথমে তাকে নেওয়া হয় প্রেমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। পরে অবস্থার অবনতি হলে স্থানান্তর করা হয় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় তার।
থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন হাসিনার বোন মেহেরুন্নেসা। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন গোদাগাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আতিকুর রহমান।
অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।



