‘ঝাল ঝাল শুঁটকি না থাকলে মন ভরে না’

ছবি: আগামীর সময়
চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী খাবারের কথা বললে মেজবানি মাংসের পরেই আসে শুঁটকির নাম। চট্টগ্রামের বাজারে মহেশখালী, আনোয়ারা, রাঙাবালি, সুন্দরবনের পাশাপাশি মিয়ানমার, ভারত থেকে আসা নানা রকমের শুঁটকি মেলে। লইট্যা, ছুরি, চিংড়ি, রুপচাঁদা, ফাইস্যা, পোপা, কাচকি, মলা শুঁটকির পাশাপাশি পাওয়া যাচ্ছে দামি কোরাল, লাক্ষাও।
মানভেদে শুঁটকির দামে তারতম্য হয়। লইট্যার কেজি ৭৫০-১৬০০, কাচকি ৮০০, ছুরি ৬০০-৩০০০, চিংড়ি ১৮০০-২৪০০, ফাইস্যা ৮৫০-১০০০, রুপচাঁদা ৩৫০০-৪৩০০, লাক্ষা ৪৫০০-৫৫০০ টাকা।
বিভিন্ন জেলা থেকে চট্টগ্রামে বেড়াতে কিংবা কাজে আসা ভোজনরসিকরা পছন্দের খাবারের পাশাপাশি শুঁটকিও খোঁজেন। শুঁটকি দিয়ে আলু-বেগুন, ঝাল ভর্তা ও দোপিয়াজা বা ভুনা খেতে বেশি পছন্দ করেন শুঁটকি প্রেমিকরা। খাবারের মেন্যুতে বৈচিত্র্য আনতে এই শুঁটকি অতুলনীয় বলে জানান রেস্টুরেন্টের বাবুর্চি মোহাম্মদ ফরহাদ বিশ্বাস।
চট্টগ্রামে এলেই শুঁটকি টেস্ট করেন; কারণ এটা ভোজনরসিকদের পছন্দের খাবার। ঢাকা থেকে আসা আবদুর রহিম দুপুরে খাচ্ছিলেন নগরীর একটি রেস্টুরেন্টে।
তিনি জানালেন, শুঁটকি কেন এত প্রিয় তার ‘স্বাদ উপভোগ করতে আমিও দুবার নিয়েছি।’
সামনে বর্ষাকাল হওয়ায় বেচাবিক্রি বেশ ভালো হচ্ছে। বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। কাজীর দেউড়ি বাজারের শুঁটকির দোকানি ওবায়দুল জানান, কোল্ড স্টোরেজ যখন ছিল না, তখন ফরমালিন দিয়ে শুঁটকি সংরক্ষণ করা হতো। এখন আর দরকার পড়ে না।
চাটগাঁর ঐতিহ্যের এই খাবার ছাড়া টেবিল যেন অপূর্ণ। তাই দাম কিছুটা চড়া হলেও সেরা মানের শুঁটকি কিনতেই বাজারে ভিড় করেন ক্রেতারা। মাছ-মাংসের পাশাপাশি টেবিলে ঝাল ঝাল শুঁটকি না থাকলে মন ভরে না, জানালেন সেকান্দর আলী।
সময়ের বিবর্তনে অনেক কিছু পাল্টালেও, ভোজনরসিকদের পছন্দের তালিকায় এই ঐতিহ্য এখনো অটুট। এটি এই অঞ্চলের মানুষের আতিথেয়তা আর সংস্কৃতির এক অনন্য পরিচয়।




