ইজিবাইকের লোভে বন্ধুকে হত্যা, মাথা এখনও নিখোঁজ

হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পিবিআই। ছবি: আগামীর সময়
মানিকগঞ্জ সদর উপজেলায় ইজিবাইক ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে রফিক মিয়া (২৭) নামের এক যুবককে হত্যা করে দেহ থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করার ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তবে ঘটনার তিন দিন পরও নিহতের মাথা উদ্ধার করা যায়নি।
শনিবার (২৮ মার্চ) সকালে মানিকগঞ্জ পিবিআই কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার জয়িতা শিল্পী এ তথ্য জানিয়েছেন।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন, ঘিওর উপজেলার রাথরা গ্রামের মো. রিপন মিয়া (৩০), সদর উপজেলার পাছবারইল গ্রামের আরমান হোসেন (২০) ও সজিব হোসেন (২৫)।
সংবাদ সম্মেলনে পিবিআই জানিয়েছে, রফিক মিয়া ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকের চালক ছিলেন। গত মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে ইজিবাইক নিয়ে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর তিনি নিখোঁজ হন। পরদিন বুধবার দুপুরে কালীগঙ্গা নদীর তীরে একটি পা দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা বিষয়টি জানালে পুলিশ গিয়ে মাটিচাপা অবস্থায় মাথাবিহীন লাশ উদ্ধার করে। পরে স্বজনরা মরদেহটি রফিকের বলে শনাক্ত করেন।
তদন্তে জানা গেছে, রফিকের বন্ধু রিপন পূর্বপরিকল্পিতভাবে ইজিবাইকটি বিক্রির উদ্দেশ্যে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর গাঁজা সেবনের কথা বলে রিপন তার সহযোগী আরমান ও সজিবকে নিয়ে রফিককে কালীগঙ্গা নদীর পাড়ে নিয়ে যান। সেখানে আরমান হাতুড়ি দিয়ে রফিকের মাথায় আঘাত করলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এরপর রিপন ‘দা’ দিয়ে তার গলা কেটে শরীর থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করেন। এ সময় অন্য দুইজন হাত-পা চেপে ধরে রাখেন।
হত্যার পর তারা মাথা ও দেহ নদীতে ফেলে দেয়। তবে দেহ ভেসে ওঠায় পেট কেটে মাটিচাপা দেওয়া হয়। পরে ইজিবাইকটি নিয়ে রিপন সাভারে গিয়ে বিক্রির চেষ্টা করেন।
পিবিআই আরও জানিয়েছে, প্রযুক্তির সহায়তায় বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ধামরাইয়ের কালামপুর বাজার এলাকা থেকে রিপনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী আরমান ও সজিবকে আটক করা হয় এবং একটি গ্যারেজ থেকে ইজিবাইকটি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ সুপার জয়িতা শিল্পী বলেছেন, ‘নিহতের মাথা উদ্ধারে ডুবুরি দল দিয়ে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। এখনো উদ্ধার না হলেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’
‘গ্রেপ্তার আসামিরা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। ইজিবাইকের জন্যই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে আসামিরা জানিয়েছেন তারা।’ - যোগ করলেন তিনি

