চায়ের দেশ মৌলভীবাজারে পর্যটনের আশা

ছবিঃ আগামীর সময়
পর্যটন সৌন্দর্যের আরেক নাম চায়ের দেশ মৌলভীবাজার। সবুজ গালিচায় মোড়ানো বিস্তীর্ণ চা-বাগান, পাহাড়ি ছড়া আর ঘন অরণ্যের অপার সৌন্দর্যে ভরপুর এই জেলা বরাবরই ভ্রমণপিপাসুদের কাছে অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্য।
জানা গেছে, জেলার শতাধিক পর্যটন স্পটের মধ্যে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের প্রথম পছন্দ শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ উপজেলা। এ দুই উপজেলাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে পাঁচতারকা মানের রিসোর্টসহ দেড় শতাধিক রিসোর্ট, ইকো কটেজ, হোটেল ও মোটেল।
বিশেষ করে শ্রীমঙ্গলের রাধানগর এলাকায় অবস্থিত প্রায় অর্ধশত রিসোর্ট ও কটেজে ২২ থেকে ২৪ মার্চ পর্যন্ত তিন দিনের জন্য ইতোমধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ বুকিং সম্পন্ন হয়েছে। তবে জেলা শহর ও শহরতলির হোটেলগুলোতে এখনো তেমন চাপ লক্ষ্য করা যায়নি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদকে ঘিরে বাকি দিনগুলোতে বুকিং ধীরে ধীরে বাড়বে এবং শেষ পর্যন্ত অধিকাংশ রুমই পূর্ণ হয়ে যাবে। এক সপ্তাহের ছুটিতে জেলার বিভিন্ন পর্যটন স্পটে পর্যটকদের ব্যাপক সমাগম ঘটবে বলেও আশাবাদ তাদের।
ব্যবসায়ীরা জানান, পবিত্র রমজান মাসে প্রায় পর্যটকশূন্য ছিল শ্রীমঙ্গল। এতে স্থবির হয়ে পড়ে স্থানীয় পরিবহনসহ পর্যটননির্ভর ব্যবসা-বাণিজ্য। তবে ঈদকে সামনে রেখে নতুন আশায় বুক বাঁধছেন চাঁদের গাড়ির চালক ও ব্যবসায়ীরা। ইতোমধ্যে পর্যটনকেন্দ্র, হোটেল ও রিসোর্টগুলো নতুন করে সাজিয়ে তোলা হয়েছে।
পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে পাঁচতারকা হোটেল-রিসোর্ট ও গেস্টহাউসগুলোতে দেওয়া হয়েছে বিভিন্ন আকর্ষণীয় অফার। পাশাপাশি পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ট্যুরিস্ট পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঠে সক্রিয় রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, বর্তমানে অনেক পর্যটক শহরের কোলাহল এড়িয়ে প্রকৃতির কাছাকাছি সময় কাটাতে চান। এ কারণে তারা শহরের হোটেলের চেয়ে নিরিবিলি পরিবেশে অবস্থিত রিসোর্ট ও কটেজে থাকতে বেশি আগ্রহী। তুলনামূলক কম কক্ষসংখ্যার কারণে এসব রিসোর্টে আগাম বুকিং দ্রুত পূর্ণ হয়ে যাচ্ছে।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক অপূর্ব লীলাভূমি মৌলভীবাজার। জেলার ৯২টি চা-বাগান, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের জীববৈচিত্র্য, মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতের গর্জন, মাধবপুর লেকের নয়নাভিরাম দৃশ্যসহ অসংখ্য দর্শনীয় স্থান প্রকৃতিপ্রেমীদের মুগ্ধ করে। পাহাড়ি পথ আর সবুজ অরণ্যের মায়াবী আবহ যে কাউকে টেনে নেয় বারবার।
জেলার মনোমুগ্ধকর পর্যটন স্পটগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো—শ্রীমঙ্গলের বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিটিআরআই), হাইল হাওর, বাইক্কা বিল, চা জাদুঘর, চা-কন্যার ভাস্কর্য, রমেশ রাম গৌড়ের আবিষ্কৃত সাত রঙের চা, বধ্যভূমি ’৭১, বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন, রাবার বাগান, গোলটিলা, হাজমটিলা, সীতেশ বাবুর বন্যপ্রাণী সেবাকেন্দ্র, খাসিয়া পুঞ্জি, মণিপুরী সম্প্রদায়ের তাঁতশিল্প, গারোপল্লী, ত্রিপুরাপাড়া, ভাড়াউড়া লেক, কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, ধলই চা বাগানে অবস্থিত বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান স্মৃতিসৌধ, মাধবপুর লেক, হামহাম জলপ্রপাত, মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত, পদ্মছড়া লেক, আদমপুর সংরক্ষিত বন, শমসেরনগর বিমানবন্দর, ক্যামেলিয়া লেক, মণিপুরি ললিতকলা একাডেমিসহ প্রায় অর্ধশতাধিক মনোমুগ্ধকর পর্যটন স্পট।
শ্রীমঙ্গল পর্যটন সেবা সংস্থার সাধারণ সম্পাদক এসকে দাশ সুমন বললেন, ঈদকে সামনে রেখে আমরা সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছি। কিন্তু বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে কিছুটা অনিশ্চয়তা কাজ করছে। তবুও ভালো পর্যটক সমাগমের আশা করছি।
মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন জানান, ঈদের ছুটিতে আগত পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে জেলা পুলিশ, থানা পুলিশ ও ট্যুরিস্ট পুলিশ সমন্বিতভাবে কাজ করবে। পর্যটকেরা যেন নির্বিঘ্নে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পারেন, সে বিষয়ে আমরা সর্বোচ্চ প্রস্তুত।

