আগামীর সময়

ঈদের দিনেও থেমে থাকবে না চিকিৎসাসেবা

ঈদের দিনেও থেমে থাকবে না চিকিৎসাসেবা

ছবিঃ আগামীর সময়

ঈদুল ফিতরের দীর্ঘ ছুটিতে যখন অধিকাংশ মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে উৎসবের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত, তখন দেশের হাসপাতালগুলোতে ভিন্ন চিত্র। রোগীদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে ঈদের দিনও দায়িত্ব পালন করবেন ডাক্তার, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা।

স্বাস্থ্যসেবা অধিদপ্তর ঈদের ছুটিতে চিকিৎসা সেবা স্বাভাবিক রাখতে সারাদেশের হাসপাতালগুলোতে ১৬ দফা নির্দেশনা দিয়েছে। এর মধ্যে জরুরি বিভাগ, লেবার রুমসহ গুরুত্বপূর্ণ সেবা সার্বক্ষণিক চালু রাখা, পর্যাপ্ত ওষুধ ও জনবল নিশ্চিত করার নির্দেশ রয়েছে।

রাজবাড়ী জেলায় চারটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও একটি সদর হাসপাতাল রয়েছে। প্রায় ১২ লাখ মানুষের জন্য দীর্ঘদিন চিকিৎসক সংকট থাকলেও সম্প্রতি নতুন মেডিকেল অফিসার যোগ দেওয়ায় পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে।

জেলা সদর হাসপাতালেও ঈদের দিন নিরবচ্ছিন্ন সেবা থাকবে। সকালে দায়িত্ব পালন করবেন ডা. রিতা ঘোষ, দুপুরে দায়িত্ব নেবেন ডা. শিল্পী এবং রাতে দায়িত্বে থাকবেন ডা. পলাশ। রাতের শিফটে জরুরি চিকিৎসার পাশাপাশি পোস্টমর্টেমের দায়িত্বও পালন করতে হবে তাকে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতেও একই চিত্র। পাংশায় ডা. গৌরব বিশ্বাস, গোয়ালন্দে ডা. বিপ্লব কুমার বিশ্বাস এবং কালুখালীতে ডা. অনিক কুমার দাস সকাল থেকে রাত পর্যন্ত রোগীদের চিকিৎসা সেবা দেবেন।

বালিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ঈদের দিনও স্বাভাবিক সময়ের মতো প্রস্তুতি রয়েছে। এখানে প্রতিদিন জরুরি বিভাগে গড়ে ১৫০ থেকে ২০০ রোগী আসেন এবং ৩০-৪০ জন ভর্তি থাকেন। রোগীর চাপ সামাল দিতে তিন শিফটে দায়িত্ব পালন করবেন ডা. রুপা দাস পলিন, ডা. স্বর্নালী সেন স্বর্ণা ও ডা. কুশল ভট্টাচার্য।

তাদের সঙ্গে উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার ও নার্সরাও বিভিন্ন শিফটে দায়িত্ব পালন করবেন। সকালে ৪ জন, বিকেলে ৩ জন এবং রাতে ২ জন নার্স রোগীদের সেবায় নিয়োজিত থাকবেন।

বালিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. ফারুক হোসেন জানিয়েছেন, ছুটির সময়েও হাসপাতালের কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে সব নির্দেশনা বাস্তবায়ন করা হয়েছে। বহির্বিভাগ ৭২ ঘণ্টা বন্ধ থাকলেও জরুরি ও ভর্তি রোগীদের সেবায় কোনো বিঘ্ন ঘটবে না।

এদিকে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. শেখ মোহাম্মদ আব্দুল হান্নান বলেছেন, ঈদের দিনও জরুরি বিভাগ, লেবার রুম, জরুরি অপারেশন ও অ্যাম্বুলেন্স সেবা চালু থাকবে। ডিউটি রোস্টার অনুযায়ী চিকিৎসকরা রোগীদের সেবা প্রদান করবেন, যাতে কেউ চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত না হন।

    শেয়ার করুন: