আগামীর সময়

এমপির পাশে দাঁড়িয়ে ঈদগাহে বক্তব্য দিলেন আ. লীগ নেতা

এমপির পাশে দাঁড়িয়ে ঈদগাহে বক্তব্য দিলেন আ. লীগ নেতা

ছবিঃ আগামীর সময়

জামালপুর-২ (ইসলামপুর) আসনের এমপি সুলতান মাহমুদ বাবুর পাশে দাঁড়িয়ে ঈদগাহে বক্তব্য দিয়েছেন মাকছুদুর রহমান আনছারী নামে এক আওয়ামী লীগ নেতা। তার বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ছাত্রদের মারধরসহ বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলা রয়েছে।

আজ শনিবার সকালে উপজেলার গাইবান্ধা ইউনিয়নের নাপিতেরচর বাজার সংলগ্ন ঈদগাহে আনছারী শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন। আনছারী উপজেলার গাইবান্ধা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। পাশাপাশি উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।

সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে ঈদগাহে উপস্থিত হন বিএনপির এমপি সুলতান মাহমুদ বাবু। এ সময় বক্তব্য দিচ্ছিলেন উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও গাইবান্ধা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মাহমুদ হাসান কবির মঞ্জিল। কিছুক্ষণ পর গাইবান্ধা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মেজবাহ উদ্দিন সাদা মিয়া বক্তব্য দিতে অনুরোধ করলে এমপির পাশে দাঁড়িয়ে কথা বলেন আনছারী।

তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঈঙ্গিত করে বলছিলেন, ‘এখানে উপস্থিত রয়েছেন যার জন্য আপনারা অল্প কিছুদিন আগে অত্যন্ত পরিশ্রম করেছেন। আমাদের সেই প্রিয় মানুষ এমপি সুলতান মাহমুদ বাবু। সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে আপনারা ইসলামপুরের সম্মান এবং ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন। সেই জন্য মহান রাব্বুল আলামিনের কাছে শুকরিয়া আদায় করি।’

‘এমপি মহোদয়ের কাছে অনুরোধ করব তিনি যেন এই ঈদগাহের যাবতীয় উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন করে দেন’, যোগ করেন আনছারী।

ইসলামপুর থানা সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকারীরা ইসলামপুর অডিটরিয়ামের সামনে এলে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা ছাত্রদের ওপর হামলা চালায়। এতে বেশ কয়েকজন আহত হন। এ ঘটনায় ওই বছরের ৬ সেপ্টেম্বর চরপুটিমারী ইউনিয়ন ছাত্রদল নেতা আইয়ুব আলী বাদী হয়ে আওয়ামী লীগের ৩১ নেতা-কর্মীর নামে মামলা করেন। ২০২৫ সালের ১৫ জুলাই ৮০ জনের নামে আদালতে অভিযোগপত্র দেন তদন্ত কর্মকর্তা। এ মামলায় এজাহার ও চার্জশিটভুক্ত আসামি ইউপি চেয়ারম্যান আনছারী।

এ ছাড়া একই বছরের ১৬ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় সভারচর এলাকায় বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা। ওইদিন রাতে জেলা ছাত্রদলের সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক হাফিজুর রহমান বাদী হয়ে ১২৮ জনের নামে বিশেষ ক্ষমতা ও বিস্ফোরক আইনে থানায় মামলা করেন। ওই মামলায় আনছারী এহাজারভুক্ত আসামি। গ্রেপ্তার এড়াতে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আজ প্রথম বারের মতো প্রকাশ্যে বক্তব্য দেন তিনি।

‘ইউপি চেয়ারম্যান আনছারীর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা আছে। তিনি ঈদগাহে বক্তব্য দেওয়ার বিষয়টি পরে জেনেছি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবগত করা হবে’, মন্তব্য করেন ইসলামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুল কাইয়ুম গাজী।

    শেয়ার করুন: