দুই মাস আগে কাজ শেষ, তবুও ভবন বুঝে নেয়নি শিক্ষা কর্মকর্তা

ছবিঃ আগামীর সময়
রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তিনটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নির্মিত ভবন বুঝে না নেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন ঠিকাদাররা। গত রবিবার পর্যন্ত ভবন হস্তান্তর না হওয়ায় তারা বিল পাচ্ছেন না এবং আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার গাড়াকোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১ কোটি ১৩ লাখ টাকা, নওপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় তলা নির্মাণে ৬৭ লাখ এবং কুরশী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বমুখী দ্বিতীয় তলা নির্মাণে ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এসব কাজ দুই মাস থেকে দেড় মাস আগে শেষ হয়েছে।
গাড়াকোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণকারী ঠিকাদার সেভান জানিয়েছেন, প্রায় দুই মাস আগে কাজ শেষ হলেও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তাজমুন্নাহার ফাইলে স্বাক্ষর না করায় বিল আটকে আছে। ১ কোটি ১৩ লাখ টাকার কাজের মধ্যে প্রায় ৭০ লাখ টাকা এখনো বকেয়া রয়েছে। তার দাবি, ৫০ হাজার টাকা চাওয়া হয়েছে এবং তা না দেওয়ায় ফাইল আটকে রাখা হয়েছে। একই সমস্যায় আরও কয়েকজন ঠিকাদার রয়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
নওপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাজ করা বিসমিল্লাহ কনস্ট্রাকশনের প্রতিনিধি মো. সুজন জানান, দেড় মাস আগে কাজ শেষ হলেও এখনো ভবন বুঝে নেওয়া হয়নি। ফলে বিলও পাওয়া যাচ্ছে না। এতে তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। একাধিকবার যোগাযোগ করেও কোনো সুরাহা হয়নি। অফিসে গিয়েও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে পাওয়া যায় না বলে তিনি উল্লেখ করেন। তাদের প্রায় ২২ লাখ টাকা এখনো পাওনা রয়েছে।
কুরশী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ঠিকাদার মামুন অর রশীদ জানিয়েছেন, এলজিইডি কাজ বুঝে নিলেও শিক্ষা কর্মকর্তার স্বাক্ষরের অভাবে বিল আটকে আছে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কোনো অভিযোগ নেই। তবে স্বাক্ষর নিতে গেলে বিভিন্ন প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছে বলে তিনি যোগ করেন।
গাড়াকোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এসমে আরা বেগম জানিয়েছেন, বিদ্যালয়ের কাজ সন্তোষজনকভাবে শেষ হয়েছে এবং এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ নেই। কুরশী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিপ্লব কুমার পালও একই কথা উল্লেখ করেছেন। নওপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সদ্য অবসরে যাওয়া প্রধান শিক্ষক রেবেকা সুলতানা জানিয়েছেন, গত ডিসেম্বরেই কাজ প্রায় শেষ ছিল, এতদিনে পুরোপুরি শেষ হওয়ার কথা।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তাজমুন্নাহার জানিয়েছেন, ঠিকাদারদের সঙ্গে তার সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই। বিষয়টি উপজেলা প্রকৌশলীর সঙ্গে সমন্বয়ের। কাজ হস্তান্তরের নির্দিষ্ট নিয়মনীতি রয়েছে, তা যাচাই করে গ্রহণ করতে হয়। শুধু কাগজে স্বাক্ষর করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি আরও জানান, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে এবং নির্দেশনা পেলে ভবন বুঝে নেওয়া হবে।
উপজেলা প্রকৌশলী রাহাত ফেরদৌস জানিয়েছেন, প্রায় দেড় থেকে পৌনে দুই বছর আগে এসব প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। বর্তমান শিক্ষা কর্মকর্তা পুরো সময় দায়িত্বে ছিলেন না। যাচাই-বাছাইয়ের প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো লিখিতভাবে তাকে জানানো হয়েছে। সম্প্রতি তিনি একজন এটিওকে পরিদর্শনে পাঠানোর কথা জানিয়েছেন। কেন এখনো ভবন বুঝে নেওয়া হয়নি, সে বিষয়ে তিনি অবগত নন বলে উল্লেখ করেন।
এদিকে, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা তাজমুন্নাহারের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে অফিসে অনিয়মিত উপস্থিতির অভিযোগ রয়েছে। এতে শিক্ষকরা বিভিন্ন কাজে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে ফিরে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পূর্ববর্তী কর্মস্থলসহ বালিয়াকান্দিতে তার বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তাজমুন্নাহার।

