বরিশালের বিনোদন কেন্দ্রে দর্শনার্থীর ভিড়

ছবিঃ আগামীর সময়
ঈদের তৃতীয় দিনেও উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে বরিশালের সব বিনোদন কেন্দ্রে। নগরীর বেলস পার্ক, মুক্তিযোদ্ধা পার্কসহ বিভিন্ন পার্ক, কীর্তণখোলা নদীর পার, সেলফি রোড, দপদপিয়া সেতুসহ বেশিরভাগ স্পটে সোমবার দুপুর থেকেই জড়ো হতে থাকেন দর্শনার্থীরা।
বেলস পার্ক এলাকায় কথা হলো সাজ্জাদ কবিরাজের সঙ্গে। ছুটি শেষে কাজে ফেরার আগে ঘুরতে এসেছেন তিনি।
‘আজকেই শেষ ছুটি। কাল সকালেই মাগুরার উদ্দেশে রওনা হবো। তাই পরিবার নিয়ে এবারের ঈদে শেষবারের মতো ঘুরতে বের হয়েছি। মুক্তিযোদ্ধা পার্ক ও শিশু পার্কেও যাব। তারপর কোনো একটা ভালো রেস্টুরেন্টে খাওয়া দাওয়া করে বাসায় যাব।’
গ্রিণ সিটি পার্কে সন্তানকে নিয়ে ঘুরতে এসেছেন মেকআপ আর্টিস্ট সানজানা ইয়াসমিন।
‘ঈদের প্রথম দুইদিন আত্মীয় স্বজনদের বাসায় দাওয়াত খেতে খেতেই সময় কেটে গেছে। আজ বাচ্চাকে নিয়ে ঘুরতে নামলাম। এখানে কয়েকটি রাইড আছে।, সেগুলোতে খেলবে আমার বাচ্চা।’
দর্শনার্থীতে টইটম্বুর প্লানেট ওয়ার্ল্ডে রাইডে উঠতে শিশু ও অভিভাবকদের বিশাল সিরিয়াল দেখা গেল।
এখানে দুই শিশু সন্তানকে নিয়ে ঘুরতে এসেছেন চিকিৎসক দম্পতি হাসিবুল ইসলাম ও মাইশা রহমান। তারা জানান,
‘বরিশালের মধ্যে প্লানেট ওয়ার্ল্ড শিশুপার্কেই রাইড আছে। এছাড়া শিশুদের জন্য তেমন কোনো ব্যবস্থা নেই। আমাদের দুই বাচ্চাই ট্রেনে উঠে মজা করেছে। এখন তারা প্লেনে উঠবে, খুব এক্সাইটেডও। আমাদেরও খুব ভালো লাগছে, তবে ভিড় অনেক’- বললেন দুই সন্তান নিয়ে ঘুরতে আসা চিকিৎসক দম্পতি হাসিবুল ইসলাম ও মাইশা রহমান।
চরবাড়িয়া ভাঙ্গার মাথায় কীর্তণখোলা নদীতে ট্রলারে চড়ে ঘুরছেন অনেকে। কেউ বসছেন তীরে। নবদম্পতি রাসেল হোসেন ও লিমা আক্তার বললেন, ‘শহর থেকে একটু দূরে এসেছি প্রকৃতি উপভোগ করতে। নদীতীরে প্রাকৃতিক বাতাসই মূল উপভোগ্য। প্রতিদিনই এখানে এসেছি। গতকাল বড় ট্রলারে করে পরিবারের সবাইকে নিয়ে নদীতে ঘুরেছি।’
কেবল বাইরেই নয়, বিভিন্ন রেস্টুরেন্টেও দেখা গেছে ভিড়। রমজান শেষে দুপুরে-বিকালে মজার খাবারের খোঁজে বের হয়েছেন ভোজনরসিকরা। বিভিন্ন জনপ্রিয় রেস্টুরেন্টে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে মিলছে বসার জায়গা।
বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে এদিনও দেখা গেছে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানান, মহানগরীর প্রত্যেকটি বিনোদন কেন্দ্রে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন আছে।

