আগামীর সময়

জামালপুর

ড্রাম ব্রিজ উল্টে নিহত পাঁচ শিশুর দাফন, তদন্ত কমিটি গঠন

ড্রাম ব্রিজ উল্টে নিহত পাঁচ শিশুর দাফন, তদন্ত কমিটি গঠন

ছবিঃ আগামীর সময়

জামালপুরে ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর ড্রাম ব্রিজ উল্টে পানিতে ডুবে নিহত পাঁচ শিশুর দাফন সম্পন্ন হয়েছে। এ ঘটনায় আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আজ রবিবার সকালে নিজ নিজ এলাকায় নিহত শিশুদের নামাজে জানাজা হয়। অপরদিকে গত রাত সাড়ে ১০ টায় উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত করে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল।

এর আগে শনিবার বিকাল ৪টার দিকে দেওয়ানগঞ্জ পৌর শহরের মডেল থানার সামনে ভাসমান ব্রিজ উল্টে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পরিবারগুলোয় শোকের মাতম চলছে। অভিযোগ উঠেছে প্রশাসনের উদাসীনতা ও মালিহা ইকো পার্ক মালিকের বিরুদ্ধে।

নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা জানিয়েছেন, প্রতি বছর ঈদের আগে পৌর কর্তৃপক্ষ ড্রাম ব্রিজটি সংস্কার করে। কিন্ত আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর কোনো সংস্কার হয়নি এবং ব্রিজটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়।

ঈদের আগের দিনও এটি বন্ধ ছিল। ঈদে ব্যবসার কথা ভেবে পার্ক মালিক ব্রিজের মাথায় ‘ইকো পার্ক ঘুরে আসুন’ বিলবোর্ড টাঙায়। আগে ওই ব্রিজ দিয়ে মানুষের যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ করতে পৌর প্রশাসনের পক্ষ থেকে লোকবল নিয়োগ করা হত। কিন্তু ঈদের দিন প্রশাসন কাজটি করেনি। তাই এত মৃত্যুর দায় এড়াতে পারে না প্রশাসন ও পার্ক মালিক।

নিহত শিশুরা হলো- দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার চুকাইবাড়ি ইউনিয়নের ডাকাতিয়াপাড়া এলাকার জয়নাল আবেদীনের মেয়ে মায়া মনি (১০), তার ছেলে মিহাত (১৪), একই উপজেলার বাহাদুরাবাদ ইউনিয়নের ঝালুরচর এলাকার শের আলীর ছেলে আব্দুল মোতালেব (৬), মেয়ে খাদিজা বেগম (১২) ও দেওয়ানগঞ্জ পৌর শহরের বেলতলি বাজার এলাকার হাবিবুল্লাহর ছেলে আবির হোসেন (১৪)।

শতাধিক মানুষে নদীতে পড়ে যাওয়ার পাশাপাশি এ ঘটনায় ৬ শিশু নিখোঁজ ছিল। পরে ফায়ার সার্ভিসের ডুবরী দল স্থানীয়দের সহায়তায় পাঁচ শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে। বিষয়টি নিশ্চিত করেন জামালপুর ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার রবিউল ইসলাম।

এ ঘটনায় আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এ. কে. এম আব্দুল্লাহ-বিন-রশিদকে প্রধান ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সুমী আক্তারকে সদস্য সচিব করে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেবেন বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইউসুপ আলী।

‘থানার সামনে অনেক মানুষের সমাগম হয়। প্রচার-প্রচারণার জন্য সেখানে বিলবোর্ড লাগানো হয়। আরও অনেক জায়গায় লাগানো হয়েছে। আর ড্রাম ব্রিজটি পরিত্যক্ত বা চালু কিনা বিষয়টা আমি জানি না। সাঁকো চালু করার সাথে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই,’ বলছিলেন ইকো পার্ক মালিক মালিহা গ্রুপের চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মাহবুবুল হাসান।

অপরদিকে দেওয়ানগঞ্জ ইউএনও ও পৌর প্রশাসক মুরাদ হোসেন মন্তব্য করেন, ‘আমি ১০-১২ দিন আগে পৌর প্রশাসকের দায়িত্ব নিয়েছি। ওই পাড়ে পার্ক আছে কিনা তা জানি না। আর পার্কের মালিক কে, তাকেও চিনি না। ঈদের দিন কে বা কারা ভাসন ব্রিজের সংযোগ দিয়েছে আমি অবগত ছিলাম না।’

    শেয়ার করুন: