রাজবাড়ীতে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে তিন শিশু

ছবিঃ আগামীর সময়
চলতি মাসে হামের উপসর্গ নিয়ে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে তিন শিশু। জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় এ তথ্য নিশ্চিত করল।
এছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে তিন শিশুর হাসপাতালে ভর্তি থাকার বিষয়টি সদর হাসপাতালের তত্ত্ববধায়ক ডা. শেখ মোহাম্মদ আব্দুল হান্নানও নিশ্চিত করেছেন।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, ভর্তি থাকা তিন শিশুর নমুনা পরীক্ষার জন্য রাজধানীর জাতীয় পোলিও ও হাম ল্যাবরেটরিতে (এনপিএমএল) পাঠানো হবে। পরীক্ষার ফল পেতে ৭ দিন থেকে মাসও কেটে যায়। এর মধ্যে একজনের বয়স ৬ মাস। বাকিদের বয়স দুই বছরের কম।
জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত জেলায় হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১৫ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে তিনজনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছিল। তাদের একজন পাংশা, একজন সদর ও অপরজন কালুখালী উপজেলার। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আক্রান্ত তিনজনই হামের টিকা নিয়েছিল। চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে তারা।
টিকা দেওয়ার ক্ষেত্রে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় এগিয়ে রাজবাড়ী। জেলায় সহস্রাধিক টিকাকেন্দ্র আছে যেখানে নিয়মিত স্বাস্থ্যকর্মীরা শিশুদের টিকা দিয়ে থাকে।
জেলার বালিয়াকান্দি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ৫ হাজার ১৬৯, ২০২৪ সালে ৫ হাজার ৫৭০ ও ২০২৫ সালে ৫ হাজার ১৯৫ শিশুকে দুই ডোজ হামের টিকা দেওয়া হয়েছে। এতে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে প্রায় শতভাগ শিশুর টিকাদান। এই কর্মসূচি চলমান বলে নিশ্চিত করল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ।
তিন বছরের হিসাব অনুযায়ী, হামের উপসর্গ থাকা শিশুর সংখ্যা ২০২৩ সালে ৯ জন, ২০২৪ সালে ৬ জন, ২০২৫ সালে ৫ জন। তাদের সবাই পূর্বে হামের টিকা পেয়েছিল।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. ফারুক হোসেন জানালেন, হামের টিকা গ্রহণ করেনি এমন শিশু খুঁজে পাওয়া খুবই দুষ্কর। আমাদের স্বাস্থ্যকর্মীরা শিশুদের খুঁজে খুঁজে টিকাদান নিশ্চিত করেন। ৯ মাস পূর্ণ হলে ১ম ডোজ ও ১৫ মাস পূর্ণ হলে ২য় ডোজ। তাও কোনো শিশু বাদ পড়লে আমাদের জানানোর অনুরোধ। টিকাদান একটি চলমান বিষয়, পর্যাপ্ত টিকা হাসপাতালে রয়েছে বলেও তিনি নিশ্চিত করলেন।

