ঘুরে দাঁড়ানোর অপেক্ষায় শেয়ারবাজার

দীর্ঘদিনের অনিয়ম, কারসাজি ও আস্থার সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত দেশের শেয়ারবাজার এখন ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতার পথে ফিরতে চেষ্টা করছে। তবে এই পুনরুদ্ধারের গতি অনেকটাই নির্ভর করছে তারেক রহমান সরকারের নীতিগত পদক্ষেপের ওপর।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির জয়লাভের পর বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। বাজার সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা- নতুন সরকারের পক্ষ থেকে নীতিগত সহায়তা, স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ এবং শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হলে শেয়ারবাজার দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে পারবে। বিশেষ করে বিএসইসির কার্যকর পুনর্গঠন হলে বাজারে আস্থা ফিরে আসবে এবং বাড়বে বিনিয়োগ।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, নির্বাচনের আগে ১০ ফেব্রুয়ারি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)-এর প্রধান সূচক ছিল ৫,৩৯৯.৯৩ পয়েন্ট, যা ১৬ মার্চ ঈদের আগের কার্যদিবসে দাঁড়িয়েছে ৫,৩৫৩.৯৩ পয়েন্টে। অর্থাৎ নতুন সরকারের সময়ে সূচকে প্রায় ৪৬ পয়েন্ট কমেছে। একই সময়ে বাজার মূলধন ২,৪৩৯ কোটি টাকা কমে ৭ লাখ ৬ হাজার ৫৩৮ কোটি টাকায় নেমেছে। তবে এই সীমিত পতনকে বড় ধস হিসেবে না দেখে বিনিয়োগকারীদের ‘অপেক্ষা ও পর্যবেক্ষণ’ কৌশলের প্রতিফলন বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
লেনদেনের দিক থেকেও বাজারে ধীরে ধীরে পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। নতুন সরকারের সময়ে ২২ কার্যদিবসে সর্বোচ্চ লেনদেন হয়েছে ১,২৭৫ কোটি ৯ লাখ টাকা, যা জানুয়ারি মাসের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। যদিও সর্বশেষ কার্যদিবসে লেনদেন নেমে এসেছে ৪৬০ কোটি ৩০ লাখ টাকায়, তবুও অতীতের তুলনায় অনেকেই ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন এই অবস্থানকেও ।
প্রসঙ্গত, চলতি বছরের শুরুতে বেশ কয়েকদিন লেনদেন ৪০০ কোটি টাকার নিচে নেমে গিয়েছিল, যা বাজারে এক ধরনের স্থবিরতা তৈরি করেছিল। সেই প্রেক্ষাপটে বর্তমান লেনদেনের ওঠানামাকে স্বাভাবিক সংশোধন হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা এবং এটিকে বিবেচনা করছেন ভবিষ্যতের সম্ভাব্য উত্থানের ভিত্তি হিসেবে ।
তবে এখনো পর্যন্ত শেয়ারবাজার নিয়ে নতুন সরকারের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো বড় উদ্যোগ বা নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির পুনর্গঠন দেখা যায়নি। ফলে বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থানে থেকে বাজার পর্যবেক্ষণ করছেন এবং কিছুটা দ্বিধায় রয়েছেন বড় বিনিয়োগে।

