আগামীর সময়

যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব

‘ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের চেয়ে বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু বেশি’

  • ঈদের ১৫ দিনে ৩৭৭টি দুর্ঘটনায় ৩৯৪ মৃত্যু
  • ৪৩% জাতীয় মহাসড়কে
  • গত ঈদের তুলনায় ৮.২৬% মৃত্যু বেড়েছে
‘ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের চেয়ে বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু বেশি’

ফাইল ছবি

ইরান-ইসরায়েল–যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের চেয়ে বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা বেশি বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী।

আজ সোমবার (৩০ মার্চ) ঈদযাত্রায় দুর্ঘটনায় মৃত্যুর পরিসংখ্যান তুলে ধরতে গিয়ে এই তথ্য জানালেন যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব।

‘গত ১৫ দিনে যুদ্ধের হতাহত বিশ্লেষণ করলে বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা অনেক বেশি।’

দুর্ঘটনার তথ্য তুলে ধরে মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলছিলেন, এবারের ঈদুল ফিতরে দেশের সড়ক, রেল ও নৌপথে ৩৭৭টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে নিহত হয়েছেন ৩৯৪ জন। আর আহত হয়েছেন এক হাজার ২৮৮ জন। এর মধ্যে শুধু সড়কেই ৩৪৬টি দুর্ঘটনায় ৩৫১ জনের মৃত্যু হয়েছে। সড়ক দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে ৪৩ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে, ৩০ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়কে, ২২ শতাংশ সংঘটিত হয়েছে সংযোগ সড়কে।

বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবর পর্যালোচনা করে এই প্রতিবেদন তৈরি করেছে সমিতির সড়ক দুর্ঘটনা মনিটরিং সেল। রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরেন সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঈদ উপলক্ষে যাত্রা শুরুর দিন ১৪ মার্চ থেকে ঈদ শেষে কর্মস্থলে ফেরার দিন ২৮ মার্চ পর্যন্ত ১৫ দিনে ৩৪৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৫১ জন নিহত ও এক হাজার ৪৬ জন আহত হয়েছেন। ২০২৫ সালের ঈদুল ফিতরে ৩১৫টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩২২ জন নিহত ও ৮২৬ জন আহত হন। বিগত বছরের সঙ্গে তুলনা করলে এবারের ঈদে সড়ক দুর্ঘটনা ৮ দশমিক ৯৫ শতাংশ, প্রাণহানি ৮ দশমিক ২৬ শতাংশ ও আহত বেড়েছে ২১ শতাংশ।

একই সময়ে রেলপথে ২৩টি দুর্ঘটনায় ৩৫ জন নিহত ও ২২৩ জন আহত হয়েছেন। নৌপথে ৮টি দুর্ঘটনায় ৮ জন নিহত, ১৯ জন আহত ও তিনজন নিখোঁজ রয়েছেন। একই সময়ে পঙ্গু হাসপাতালে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে ভর্তি হয়েছেন দুই হাজার ১৭৮ জন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এবারও দুর্ঘটনার শীর্ষে রয়েছে মোটরসাইকেল। এবারের ঈদে ১২৫টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত ১৩৫ ও আহত হয়েছেন ১১৪ জন, যা মোট সড়ক দুর্ঘটনার ৩৬ দশমিক ১২ শতাংশ, নিহতের ৩৮ দশমিক ৪৬ শতাংশ এবং আহতের ১০ দশমিক ৮৯ শতাংশ প্রায়।
সমিতির বিশ্লেষণ বলছে, দুর্ঘটনার শিকার মোট যানবাহনের ২৭ দশমিক ১৬ শতাংশ মোটরসাইকেল, ১৭ দশমিক ৭৩ শতাংশ ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান, ১৬ দশমিক ২২ শতাংশ বাস, ১৫ দশমিক ২৮ শতাংশ ব্যাটারিচালিত রিকশা, ৮ দশমিক ৪৯ শতাংশ প্রাইভেট কার-মাইক্রোবাস, ৭ দশমিক ৭৩ শতাংশ নছিমন-করিমন ও ৭ দশমিক ৩৫ শতাংশ সিএনজিচালিত অটোরিকশা জড়িত ছিল এসব দুর্ঘটনায়।

‘পুরনো আমলা, আগের মাফিয়া নেতাদের অনুসারী বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক ফেডারেশনের বর্তমান সরকার–সমর্থিত নেতাদের চাপে এবারও সড়ক–সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলো ঈদ ব্যবস্থাপনা সভায় যাত্রীদের পক্ষে কথা বলার মতো নাগরিক সমাজের কোনো প্রতিনিধি রাখা হয়নি’— এমন অভিযোগ করেন যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী।

    শেয়ার করুন: