আগামীর সময়

ভোটযাত্রা: বাড়তি ভাড়া-যানজটে দিনভর দুর্ভোগ

ভোটযাত্রা: বাড়তি ভাড়া-যানজটে দিনভর দুর্ভোগ

সংগৃহীত ছবি

নির্বাচন উপলক্ষে টানা চারদিন ছুটি পেয়ে বাড়ির পথে ছুটছেন রাজধানীর শ্রমজীবী মানুষেরা। সড়ক-মহাসড়কে মঙ্গলবার সকাল থেকে দেখা গেছে ঈদযাত্রার মতো ঢল। তবে পরিবহন সংকট, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও তীব্র যানজটে নাকাল হয়েছেন যাত্রীরা। ভোট দিতে বাড়ি যাওয়ার আনন্দ চাপা পড়েছে ক্লান্তি আর ক্ষোভে।


কলকারখানাগুলোতে ছুটি শুরু হয়েছে আজ থেকে। ছুটি পেয়ে সোমবার সন্ধ্যা থেকেই রাজধানী ছাড়তে শুরু করে ঘরমুখী মানুষ।


শিল্পাঞ্চল হওয়ায় গাজীপুরের সড়কগুলোতে দিনভর যাত্রীচাপ ছিল সবচেয়ে বেশি। ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে সোমবার সন্ধ্যার পর শুরু হয় যানজট। এ সুযোগে বিভিন্ন পরিবহন গাড়ি ভাড়া কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেয় বলে অভিযোগ ওঠে।


প্রতিবাদে যাত্রীরা মহাসড়ক আটকে বিক্ষোভ করেন। এতে যানজটও দীর্ঘ হতে শুরু করে। মধ‌্যরাতের পর অবরোধ তুলে নিলেও যানজট লেগে থাকে মঙ্গলবার ভোর পর্যন্ত।


সকালে যাত্রীদের চাপ বাড়লে ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ৫০ কিলোমিটার লম্বা যানজট দেখা দেয়। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে টঙ্গী কলেজ গেট থেকে মাওনা চৌরাস্তা ও গাজীপুরের ভোগড়া এলাকা থেকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কালিয়াকৈর বাইপাস পর্যন্ত যানজটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকে বিভিন্ন পরিবহন।


যাত্রীদের অভিযোগ, যানজটের সুযোগে মাত্রতিরিক্ত ভাড়া নিচ্ছে বিভিন্ন পরিবহন। ৫০০ টাকার ভাড়া ১২০০ থেকে ১৫০০ চাওয়া হচ্ছে। এতে যাত্রীরা ক্ষুব্ধ হয়ে গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তা ও মাওনা এলাকায় কিছু সময় সড়ক অবরোধ করে রাখেন।



গাজীপুরের এক পোশাককর্মী রিনা আক্তার বলেন, 'স্বাভাবিক সময়ে যে ভাড়া দেই, আজ তার চেয়েও বেশি চাওয়া হয়েছে। তবু বাড়ি যেতে হবে বলেই দিতে হচ্ছে।' আরেক যাত্রী আব্দুল করিম ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, 'বাস কম, মানুষ বেশি; এ সুযোগে ভাড়া বাড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। যানজটেও বসে থাকতে হচ্ছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা।'


কোনাবাড়ী নাওজোর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সওগাতুল আলম বলেন, 'লম্বা সময় ছুটি থাকলে মহাসড়কে শত শত পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু এবার পরিস্থিতিটা ভিন্ন রকম। পুলিশের সব সদস্য নির্বাচনের দায়িত্ব পালনে ব্যস্ত। পুলিশের সংখ্যা খুবই কম হওয়ায় চন্দ্রাসহ আশপাশের এলাকায় থেমে থেমে যানবাহন চলাচল করছে।'


উত্তরবঙ্গের যাওয়ার নবীনগর-চন্দ্রা সড়কে প্রায় ১০ কিলোমিটার যানজটের তথ্য জানায় সাভার ও গাজীপুর ট্রাফিক বিভাগ। বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগে সেখানেও সড়ক আটকে বিক্ষোভ করেন পোশাক শ্রমিকরা।


আব্দুল মালেক নামে এই রুটের এক যাত্রী বলেন, ‘নেতা-নেত্রীদের দেখাতে বাস ভাড়া করে নিয়ে যায়। এখন ভোট দিতে বাড়ি যাবো কোন যানবাহন নেই। কেউ বাড়তি যানবাহনের ব্যবস্থাটুকু রাখার উদ্যোগ নেওয়ার প্রয়োজন মনে করেননি।’




নবীনগর থেকে পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায়ও দেখা গেছে দেড় কিলোমিটার যানজট। যানবাহনের ধীরগতি আছে আশুলিয়া থেকে জামগড়া এলাকা পর্যন্ত। সুমি আক্তার নামে এক যাত্রী বলেন, 'বাসের জন্য প্রায় এক ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছিল। পরে বাস পেয়েছি কিন্তু দ্বিগুণ ভাড়া দিতে হয়েছে। সড়কের নবীনগর থেকে জিরানী পর্যন্ত যেতে প্রায় দুই ঘণ্টা সময় লেগেছে।'


যাত্রীর চাপ দেখা গেছে রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনেও। প্ল্যাটফর্ম, টিকিট কাউন্টার ও ওয়েটিং রুমে সকাল থেকে ছিল জটলা।


সড়কপথের পাশাপাশি পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ও আরিচা-কাজিরহাট নৌ-রুটেও ছিল উপচে পড়া ভিড়। তবে সেখানে যানজট বা বড় ধরনের ভোগান্তি দেখা যায়নি। ঘাট কর্তৃপক্ষ জানায়, ভোর থেকে কানায় কানায় পূর্ণ ছিল ফেরি ও লঞ্চ। পাটুরিয়া- দৌলতদিয়া রুটে ২২টি ও আরিচা-কাজিরহাট রুটে চলছে ৩৩টি লঞ্চ।


    শেয়ার করুন: