আগামীর সময়

তিন জেলার সমন্বিত উন্নয়নে নতুন প্রকল্প: প্রশ্নের মুখে ১৫ খাতের ব্যয় প্রস্তাব

তিন জেলার সমন্বিত উন্নয়নে নতুন প্রকল্প: প্রশ্নের মুখে ১৫ খাতের ব্যয় প্রস্তাব

ছবিঃ আগামীর সময়

দেশের তিন জেলার সমন্বিত উন্নয়ন করবে সরকার। এজন্য ১ হাজার ৪৯৪ কোটি টাকার একটি নতুন প্রকল্প হাতে নিতে যাচ্ছে স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়। কিন্তু এতে প্রশ্নের মুখে পড়েছে পরামর্শকসহ প্রায় ১৫টি খাতের ব্যয় প্রস্তাব। পরে পরিকল্পনা কমিশনের আপত্তির মুখে ব্যয় কমিয়ে যৌক্তিক করার সুপারিশ দেওয়া হয়েছে।

‘বৃহত্তর দিনাজপুর (দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও,পঞ্চগড়) জেলার সমন্বিত উন্নয়ন’ প্রকল্পে ঘটেছে এমন ঘটনা। প্রস্তাবটি নিয়ে গত ২ মার্চ অনুষ্ঠিত হয় প্রকল্প মূল্য কমিটির (পিইসি) সভা। সেখানে প্রশ্নের মুখে পড়েন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা। এতে সভাপতিত্ব করেন পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (সচিব) মো.মহিমুদুল হোসাইন। গত ১০ মার্চ জারি করা হয়েছে ওই সভার কার্যবিবরণী। বর্তমানে বিভিন্ন সুপারিশ দিয়ে প্রস্তাবটি ফেরত দেওয়া প্রক্রিয়া চলছে।

জানতে চাইলে সাবেক পরিকল্পনা সচিব মামুন আল রশীদ শনিবার আগামীর সময়কে বলছিলেন, সরকারি এক টাকায়ও যদি অপচয় হয় সেটি কাম্য নয়। কেননা জনগণের করের প্রতিটি টাকাই গুরুত্বর্পূর্ণ। সেখানে যদি বাড়তি ব্যয়ের নামে কোটি কোটি অপচয়ের প্রচেষ্টা চালানো হয় তা অত্যন্ত দুঃখজনক। এছাড়া এমন প্রস্তাব যাচাই বাছাই ছাড়া অনুমোদন পেলে প্রকল্প বাস্তবায়ন পর্যায়ে ব্যাপক দুর্নীতির সুযোগ থাকে। পরিকল্পনা কমিশনের আরো কঠোরভাবে বিষয়টি দেখা দরকার। সেই সঙ্গে প্রকল্প তৈরির সঙ্গে যারা জড়িত তাদের তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে। যাতে ভবিষ্যতে অন্য কোন প্রকল্পে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পরামর্শক খাতে ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছিল ২ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। পিইসি সভায় এ বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন পরিকল্পনা কমিশনের যুগ্ম প্রধান আনার কলি। তিনি বলছিলেন, শুধু এই খাত নয় আরও অনেকগুলো খাতে অতিরিক্ত ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছে। পরে সর্বসম্মতভাবে পরামর্শক খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। এতে বেঁচে গেছে ৮৬ লাখ টাকা। এছাড়া প্রশ্নের মুখে বাদ দেওয়া হয়েছে যাতায়াত ভাতা বাবদ ১০ লাখ, টিফিন ভাতার ৩ লাখ টাকা এবং অন্যান্য ভাতার ২০ লাখ টাকার প্রস্তাব। প্রশ্নের মুখে পড়া অন্যান্য ব্যয়ের খাত গুলো হলো, হায়ারিং চার্জ (পরিবহণ সেবা ২টি), প্রচার ও বিজ্ঞাপন, শ্রমিক মজুরী (অনিয়মিত), পেট্রোল ওয়েল-লুব্রিক্যান্ট, গ্যাস ও জ্বালানীর বরাদ্দ এবং কম্পিউটার সামগ্রী, অন্যান্য মনিহারী, খুচরা যন্ত্রাংশ, সার্ডে ও জরিপ, মোটরযান মেরামত ও সংরক্ষণ, ৩০টি কম্পিউটার ও আনুষঙ্গিক ব্যয়, আসবাবপত্র, অফিস সরঞ্জামাদি (এসি, ফ্যান ইত্যাদি) এবং ৪টি ফটোকপিয়ার কেনার প্রস্তাব। পিইসি সভার সুপারিশ মেনে এসব খাতের ব্যয় কমিয়ে দেওয় হচ্ছে বলে জানা যায়।

পিইসি সভা সূত্র জানায়, কৃষি, পানি সম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের প্রধান (অতিরিক্ত সচিব) বাবুল মিয়া সভায় বলছিলেন, রংপুর বিভাগের বৃহত্তর দিনাজপুরের ৩টি জেলার (দিনাজপুর, ঠাকুরগাও ও পঞ্চগড়) সব উপজেলায় আধুনিক সুবিধাদি সম্প্রসারণে উন্নত যোগাযোগ নেটওয়ার্ক তৈরী করা প্রয়োজন।

এছাড়া গ্রামীণ জনগণের জন্য হাট-বাজার, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত সুবিধা বৃদ্ধির মাধ্যমে জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন এবং স্বল্প ও দীর্ঘ মেয়াদে কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে প্রকল্প এলাকার মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করা দরকার। এজন্য প্রকল্পটি প্রস্তাব করা হয়েছে পরিকল্পনা কমিশনে। প্রক্রিয়াকরণ শেষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনক) সভায় অনুমোদন পেলে চলতি বছর থেকে শুরু হয়ে ২০৩০ সালের জুনের মধ্যে এটি বাস্তবায়ন করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)।

সভায় প্রকল্প গ্রহণের যৌক্তিকতা সম্পর্কে জানতে চাইলে এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী মো.বেলাল হোসেন বলছিলেন, প্রস্তাবিত প্রকল্পটি বৃহত্তর দিনাজপুরের তিন জেলা ২৩ টি উপজেলা নিয়ে গঠিত। দিনাজপুর জেলায় উৎপাদিত লিচু ও নানাজাতের সুগন্ধি চালের বাজারজাত সহজ করা দরকার। ঠাকুরগাঁও জেলার অনেক প্রত্নতত্ব সম্পদ সুরক্ষা সহ জনগনের সঙ্গে পরিচিত করা প্রয়োজন এবং পঞ্চগড় জেলার পর্যটন বিকাশের জন্য যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির বিকল্প নেই। এজন্য রাস্তাঘাটের উন্নয়নে প্রকল্পটি গ্রহণ করা দরকার।



    শেয়ার করুন: