জাতিসংঘের সামনে সম্মিলিত কণ্ঠে একুশের গান

সংগৃহীত ছবি
দেশে তখন একুশের প্রথম প্রহর। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে জড়ো হচ্ছে জনতা। ঠিক তেমন সময় কয়েক হাজার মাইল দূরে জাতিসংঘের সদর দপ্তরের সামনে দিনে-দুপুরে যেন নেমে এলো একুশের প্রথম প্রহর। সম্মিলিত কণ্ঠ গেয়ে উঠল, ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রয়ারি... আমি কি ভুলিতে পারি...’।
একুশের প্রথম প্রহরের সঙ্গে মিলিয়ে স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ১ মিনিটে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সামনে এভাবেই আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করল প্রবাসী বাংলাদেশিদের একটি দল। ভিডিওকলে তখন যুক্ত ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।
প্রবল বৃষ্টি ও বিরূপ আবহাওয়ার মধ্যে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সামনে দ্যাগ হ্যামারশোল্ড পার্কে অস্থায়ী শহীদ মিনারে এক শিশুর ফুল দেয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হয় আনুষ্ঠানিকতা। এরপর ভাষা শহীদদের স্মরণে পালন করা হয় এক মিনিটের নিরবতা।
সম্মিলিত কণ্ঠে একে একে শোনা যায়, ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রয়ারি’, ‘রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন করিলিরে বাঙালি, তোরা ঢাকার শহর রক্তে ভাসাইলি’, ‘দাম দিয়ে কিনেছি বাংলা-কারো দানে পাওয়া নয়’- এসব গান। আবৃত্তি করা হয় ‘একুশ আগুন রঙের পাখি’ কবিতাটি।
অনুষ্ঠানে ভিডিও বার্তায় সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, ‛আজকের এ আয়োজনে মাধ্যমে আমরা শুধু অতীতকেই স্মরণ করছি না, আমরা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে ভাষা ও সংস্কৃতির দায়িত্বও অর্পণ করছি... আমি বিশ্বাস করি, প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্ম এই ইতিহাস থেকে অনুপ্রাণিত হবে, বাংলা ভাষা-সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চায় আরো অঙ্গীকারবদ্ধ হবে।’
অনুষ্ঠানটির পরিচালনায় ছিলেন মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী বিশ্বজিৎ সাহা। সেখানে বক্তব্য দেন জাতিসংঘের সাবেক উন্নয়ন গবেষণা প্রধান ও নিউ ইয়র্ক আন্তর্জাতিক বাংলা বইমেলা-২০২৬ এর আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম।
অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ‘বাঙালির চেতনা মঞ্চ’র চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম বাদশা, কমিউনিটি লিডার সাখাওয়াত আলী, বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সিরাজউদ্দীন আহমেদ সোহাগ, ব্রঙ্কস সোসাইটির জহির উদ্দীন ও বিজয় সাহা।
মোহাম্মদ শাহীন হোসেনের পরিচালনায় চলে সম্মিলিত কণ্ঠের গান; যাতে তবলায় ছিলেন হারাধন কর্মকার। গিটারে ‛ধন ধান্যে পুষ্পে ভরা’ বাজিয়ে শোনান কাব্য। আর আবৃত্তি করেন ভাষা সাহা।

