আগামীর সময়

প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রতীকী ছবি

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।

আপনার দূরদর্শী ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) বিপুল জনসমর্থন নিয়ে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব লাভ করায় প্রথমেই আন্তরিক অভিনন্দন জানাচ্ছি। দীর্ঘ সময় পর গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা নতুন প্রত্যয়ে এগিয়ে চলেছে। এতে দেশবাসীর মনে নতুন আশা ও আস্থার সঞ্চার হয়েছে।

আমরা উপলব্ধি করি, রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব অত্যন্ত জটিল ও বহুমাত্রিক। কোনো সমস্যার তাৎক্ষণিক অলৌকিক সমাধান সম্ভব নয়। তবে আপনার দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি, সুপরিকল্পিত কর্মসূচি ও জনগণমুখী অঙ্গীকার আমাদের আশাবাদী করেছে। এই আলোকিত নেতৃত্বেই বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে উন্নয়ন ও মানবিকতার পথে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, দেশের একটি নীরব কিন্তু গভীর সামাজিক সমস্যার বিষয়ে আপনার সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই। বিষয়টি হয়তো সামাজিক সংকোচের কারণে অনেকেই প্রকাশ্যে আনতে চান না; কিন্তু বাস্তবে এটি সমাজের ভেতরে ধীরে ধীরে বিস্তৃত এক নীরব সংকটে পরিণত হচ্ছে।

আমরা অনেক নারী আছি, যারা স্বেচ্ছায় নিজের কর্মজীবনের সম্ভাবনা ত্যাগ করে পরিবার গঠন ও সন্তান লালন-পালনে আত্মনিয়োগ করি। পরিবারে শান্তি ও সুখই আমাদের প্রধান প্রাপ্তি- এতে আমরা গর্ববোধ করি।

তবে বর্তমান সময়ে বিচ্ছেদ বা ডিভোর্সের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় একটি বিশেষ শ্রেণির নারী গভীর সংকটে পড়ছেন- বিশেষত যাঁরা মধ্য বয়সে (৪৫ বছরের ঊর্ধ্বে) বিবাহবিচ্ছেদের মুখোমুখি হন। এ বয়সে এসে তাঁদের প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায় আর্থিক নিরাপত্তা ও নিরাপদ আবাসন। শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকলেও বয়সজনিত কারণে কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ে।

মধ্যবিত্ত পরিবারের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়, কারণ আর্থিক সংকটের পাশাপাশি সামাজিক মর্যাদা ও মানসম্মানের প্রশ্নও সামনে আসে। পারিবারিক সহায়তা না পেলে অনেক নারীকে একসঙ্গে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, সামাজিক চাপ এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তা সংকট মোকাবিলা করতে হয়।

বাস্তবতা হলো, একজন পুরুষ যেকোনো বয়সে নতুনভাবে শুরু করার সুযোগ তুলনামূলকভাবে বেশি পান; কিন্তু একজন নারীর জন্য সমাজ ও কাঠামোগত সহায়তা ততটা সহজলভ্য নয়।


নারী ও শিশু কল্যাণমূলক আইন ও সরকারি সহায়তা কাঠামো থাকলেও বাস্তবে মামলা দীর্ঘসূত্রতা, আর্থিক সীমাবদ্ধতা এবং সামাজিক অনিরাপত্তার কারণে অনেক নারী সে সুবিধা থেকে বঞ্চিত হন। অনেকে সন্তানের ভবিষ্যৎ ও নিজের নিরাপত্তার কথা ভেবে আইনি প্রক্রিয়ায় যেতে দ্বিধাগ্রস্ত হন।

এভাবে পিছিয়ে পড়া নারীদের সংখ্যা ধীরে ধীরে বাড়ছে, যার নেতিবাচক প্রভাব পরিবার ও সমাজ উভয় ক্ষেত্রেই পড়ছে। অথচ উপযুক্ত কর্মসংস্থান, পুনঃপ্রশিক্ষণ ও সামাজিক পুনর্বাসন কর্মসূচি থাকলে এই নারীরাই দেশের উৎপাদনশীল সম্পদে পরিণত হতে পারেন। তারা আত্মমর্যাদার সঙ্গে জীবনযাপন করতে পারবেন এবং জাতীয় উন্নয়নে অবদান রাখতে সক্ষম হবেন।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনার মানবিক নেতৃত্বে যদি মধ্যবয়সী ও আর্থিকভাবে অসহায় বিবাহবিচ্ছিন্ন নারীদের জন্য বিশেষ পুনর্বাসন, দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানমূলক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়, তবে তা কেবল ব্যক্তিগত জীবনের পুনর্গঠনই নয়, সমগ্র সমাজের জন্য কল্যাণকর এক উদাহরণ হয়ে থাকবে।

আপনার সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও সফল রাষ্ট্রনায়কত্ব কামনা করছি। মহান আল্লাহতাআলা আপনাকে ন্যায়, প্রজ্ঞা ও সহমর্মিতার সঙ্গে দেশ পরিচালনার তাওফিক দান করুন এই প্রার্থনা রইল।

বিনীত,

রাজশাহী থেকে
সোহানা

    শেয়ার করুন: