আগামীর সময়

খালেদা জিয়ার আস্থায় মীর নাছির, তারেক রহমানের আস্থায় মীর হেলাল

খালেদা জিয়ার আস্থায় মীর নাছির, তারেক রহমানের আস্থায় মীর হেলাল

বাবা মীর নাছির ও ছেলে মীর হেলাল

বিএনপির রাজনীতিতে চট্টগ্রামের মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন জিয়া পরিবারের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত ছিলেন। প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার বেশ আস্থাভাজন ছিলেন তিনি। দীর্ঘকাল চট্টগ্রামে বিএনপিকে নেতৃত্ব দিয়েছেন, সিটি করপোরেশনের মেয়র হয়েছেন, পরে প্রতিমন্ত্রী করে তাকে মন্ত্রীসভায়ও স্থান দিয়েছিলেন বেগম জিয়া।


তার ছেলে মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীনও জিয়া পরিবারের সঙ্গে সেই ঘনিষ্ঠতার ধারাবাহিকতা বজায় রেখে চলেছেন। বিএনপির দুঃসময়ে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থেকে হয়ে ওঠেন তারেক রহমানের আস্থাভাজন। বাবার পথ ধরে রাজনীতিতে এগিয়ে যাওয়া মীর হেলাল প্রথমবার সংসদ সদস্য হয়েই বাজিমাত করেছেন। কাণ্ডারি তারেক রহমান আস্থার স্বীকৃতি দিয়ে তাকে নিয়েছেন মন্ত্রীসভায়।


গত ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী ও নগরীর একাংশ) আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন ১ লাখ ৪৭ হাজার ৫৪ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মো. নাসির উদ্দীন পান ৪৬ হাজার ৫৮৯ ভোট।


লক্ষ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী মীর হেলালকে মন্ত্রীসভায় তারেক রহমান নিজের সহকর্মী করে নিয়েছেন।  আজ মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) শপথ নেওয়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২৫ মন্ত্রী ও ২৪ প্রতিমন্ত্রী নিয়ে মন্ত্রীসভা গঠন করেছেন। এতে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিয়েছেন মীর হেলালকে।


বিএনপি নেতা মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন বেগম খালেদা জিয়ার প্রথম সরকারের আমলে সৌদিআরবের রাষ্ট্রদূত ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ছিলেন। এরপর বিএনপি যখন বিরোধী দলে, তখন তিনি চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির সভাপতি হিসেবে পুরো সময় আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্ব দেন। ২০০১ সালের নির্বাচনে মনোনয়ন না পেলেও বেগম খালেদা জিয়া তাকে বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রী করেন। প্রায় ৮০ বছর বয়সী মীর নাছির বর্তমানে বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান।


ছেলে মীর হেলালকে নিজের রাজনৈতিক আদর্শেই গড়েছেন মীর নাছির। যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন থেকে এলএলবি অনার্স ও বার ভোকেশনাল কোর্স করেন মীর হেলাল। এরপর যুক্তরাজ্যের লিংকনস ইন থেকে ব্যারিস্টার এট ল সম্পন্ন করেন। ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ভরাডুবি ও দলের বৈরি সময়ে তিনি দেশে ফিরে রাজনীতিতে সক্রিয় হন।


দলটির নেতাকর্মীদের মতে, আওয়ামী লীগের আমলে চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্নস্থানে মামলা, গ্রেফতার-নির্যাতনে ঘরছাড়া নেতাকর্মীদের সংগঠিত করে আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা রেখে তারেক রহমানের নজর কাড়েন মীর হেলাল। লন্ডনে নির্বাসনে থাকা তারেক রহমানের রাজনৈতিক নির্দেশনা অনুযায়ী সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধ ও সক্রিয় রাখার ক্ষেত্রে ভূমিকা পালন করে শীর্ষনেতার আস্থাভাজন হয়ে ওঠেন। তিনি এখন বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। চট্টগ্রাম উত্তর, দক্ষিণ ও মহানগর বিএনপির আপামর নেতাকর্মীদের মধ্যে তার গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে।


এই ধারাবাহিকতায় প্রথমবার ভোটের মাঠে এসেই লক্ষ ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বীকে হারিয়ে দেন। এরপর থেকেই তরুণ মীর হেলালের মন্ত্রী হওয়া নিয়ে জোর আলোচনা চলছিল চট্টগ্রামে। অবশেষে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার মধ্য দিয়ে সেই আলোচনা বাস্তবে রূপ নিল। মীর হেলাল প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ায় তার নির্বাচনী এলাকা হাটহাজারী শুধু নয়, চট্টগ্রাম মহানগরীতেও নেতাকর্মীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস তৈরি হয়েছে।


চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহেদ বলেন, ‘মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন সাহেব আমাদের নেতা। উনি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আস্থাভাজন ছিলেন, এটা সত্য। মীর হেলাল সাহেবও উনার পিতার মতোই আমাদের নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আস্থাভাজন। তবে এই আস্থা অর্জনের জন্য তাকে রাজনীতির দীর্ঘ সংগ্রামের পথ পাড়ি দিতে হয়েছে। টানা ১৭ বছর আন্দোলন-সংগ্রামে উনি যেভাবে ভূমিকা রেখেছেন, সেই কারণেই তারেক রহমান সাহেব আস্থায় নিয়েছেন। তাকে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দিয়েছেন, এজন্য আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে কৃতজ্ঞ। আমরা আশা করি, মন্ত্রী হিসেবে উনি খুব ভালো করবেন।’

    শেয়ার করুন: