নাটোর
পাহারাদারদের জিম্মি করে নির্মাণাধীন গ্রিড থেকে মালামাল লুট

ছবিঃ আগামীর সময়
নাটোরের বড়াইগ্রামে একটি নির্মাণাধীন পাওয়ার গ্রিডে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। দুর্বৃত্তরা ওই গ্রিডের পাহারাদারদের জিম্মি করে প্রায় ১ কোটি ৯৩ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
বুধবার (২৪ মার্চ) দিবাগত রাতে উপজেলার বনপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশ।
পাহারাদার আবুল কাশেম জানান, রাত সাড়ে ৭টার দিকে পাহারাদার শফিকুল খেতে গেলে প্রায় ২০ মিনিট পর ফিরে এসে গেট খোলার জন্য ডাকেন। দরজা খুলতেই পেছন থেকে ৫-৬ জন শফিকুলের কলার ধরে ভেতরে নিয়ে আসে। ভেতরে ঢুকে ছাত্তার নামে একজনকে খোঁজেন তারা।
পরে ছাত্তার নামের কেউ নেই ও অন্য তিন পাহারাদারকেও তাদের সামনে আনা হয়। এসময় তারা পাহারাদার সবাইকে জিম্মি করে তাদের হাত-পা ও মুখ বেঁধে একটি ঘরে আটকে রাখে। ঘরের বাইরে থেকে ছিটকিনি লাগিয়ে দেয় তারা।
পাহারাদাররা জানান, পরে একটি গাড়ি ভেতরে ঢুকে মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। রাত আড়াইটার দিকে দীর্ঘ সময় চেষ্টার পর পাহারাদার সোহাগ তার বাবা শফিকুলের বাঁধন খুলতে সক্ষম হন। এরপর সবাই একে অপরের বাঁধন খুলে দরজার ছিটকিনি খুলে ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ঘর থেকে বের হন। পরে ৯৯৯-এ ফোন করে এবং প্রকৌশলীদের বিষয়টি জানান।
গ্রিডের উপসহকারী প্রকৌশলী আনাস আলী জানান, গ্রিডে সিভিল কনস্ট্রাকশন ও ইলেকট্রিক ফিটিংসের কাজ চলছে। চায়না ন্যাশনাল ওয়ার অ্যান্ড কেবল ইমপোর্ট এক্সপোর্ট করপোরেশন (সিসি) ইলেকট্রিক অংশের কাজ করছে।
সিসির স্থানীয় প্রতিনিধি প্রকৌশলী সোলায়মান আলী দাবি করেন, লুট হওয়া মালামালের মধ্যে ৩৬৮ পিস ব্যাটারি (মূল্য প্রায় ১ কোটি ১৩ লাখ টাকা), ২ হাজার মিটার তামার তার (মূল্য প্রায় ৫৩ লাখ টাকা) ও অন্যান্য মালামাল রয়েছে। মোট ক্ষতির পরিমাণ ১ কোটি ৯২ লাখ ৬০ হাজার ২৮৯ টাকা। ঘটনাস্থলে দুটি ডিভিআর দিয়ে সিসি ক্যামেরা পরিচালিত হতো, যা ডাকাতরা নিয়ে গেছে। পাহারাদারদের মোবাইল ফোনও লুট করেছে তারা।
বড়াইগ্রাম সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শোভন চন্দ্র হোড় জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। ডিবি টিম ঘটনা উদঘাটনে কাজ শুরু করেছে। পিজিসিবির পক্ষ থেকে অভিযোগ দাখিলের প্রক্রিয়া চলছে। জড়িতদের আটক ও মালামাল উদ্ধারে পুলিশ কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) সুমন কুমার, বড়াইগ্রাম থানার ওসি আব্দুস সালাম ও বনপাড়া তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ সুমন কুমার।

