৫০ কিমি পাড়ি দিয়ে মিলল ৫০০ টাকার জ্বালানি

জাহিদ হাসান
ব্যবসায়ী জাহিদ হাসানের বাড়ি শেরপুর। ঈদের ছুটিতে স্ত্রীকে নিয়ে মোটরসাইকেল যোগে রাজশাহীর শ্বশুরবাড়িতে এসেছিলেন। ছুটি শেষে আজ শনিবার সকালে নিজ বাড়ির দিকে রওনা দেন। কিন্তু গাড়িতে ছিল না বাড়ি ফেরার তেল। আশায় ছিলেন, রাজশাহীর কোনো এক পাম্প থেকে তেল নিয়ে বাড়ি ফিরবেন।
যদিও রাজশাহীর বিভিন্ন পাম্পে ঘুরে-ঘুরেও মেলেনি এক ফোঁটা পেট্রোল। কিছু কিছু পাম্প খোলা থাকলেও ছিল না সরবরাহ। ফলে ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে তাকে। দীর্ঘ ৫০ কিলোমিটার পথ আসার পর নাটোর শহর অতিক্রমকালে হাফরাস্তায় একটি ফিলিং স্টেশনে তেল দিতে দেখে লাইনে দাঁড়ান। দীর্ঘ ২ ঘণ্টা অপেক্ষার পর ৫০০ টাকার তেল নিয়ে নিজ বাড়িতে ফেরেন জাহিদ।
আজ সকালে নাটোর শহরের হাফরাস্তা এলাকায় ছিল মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন। অন্তত এক কিলোমিটারজুড়ে মোটরসাইকেল দাঁড়িয়ে থাকায় সড়কে সৃষ্টি হয় তীব্র যানজটের। ফলে ভোগান্তি হয় যাত্রীদের।
এ সময় ব্যবসায়ী জাহিদের সঙ্গে কথা হয় আগামীর সময় প্রতিবেদকের। তিনি জানান, পথে পথে ভোগান্তির কথা। তবে ভোগান্তির এই চিত্র জাহিদের একার নয়, তার মতো শত শত মোটরসাইকেল আরোহী ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে তেলের জন্য অপেক্ষা করেছেন এদিন।
‘সকালে রাজশাহী থেকে বগুড়ার উদ্দেশ্যে রওনা হই। আসার পথে যতগুলো পাম্প ছিল, একটিতেও তেল পাইনি। ভেবেছি, রাজশাহীর কোনো পাম্প থেকে তেল নিয়ে বাড়ি ফিরব। কিন্তু একটি পাম্পেও তেল পাইনি। খোলা থাকলেও তেল ছিল না। নাটোর অতিক্রমের সময় একটি পাম্পে মোটরসাইকেলের সারি দেখে লাইনে দাঁড়াই। ২ ঘণ্টা লাইনে থাকার পর দুপুরে ৫০০ টাকার তেল পাই। তেল না পেলে বগুড়ায় ফিরতে পারতাম না’, আগামীর সময়কে ভোগান্তির বর্ণনা করছিলেন জাহিদ হাসান।
তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে সরকারের প্রতি অনুরোধ করেন যেন সব পাম্পে তদারকির ব্যবস্থা করা হয়। সবাই যেন পর্যাপ্ত তেল সংগ্রহ করতে পারেন।

