আগামীর সময়

গরু লুটে বাধা দেওয়ায় অন্তঃসত্ত্বার পেটে লাথি, মৃত সন্তান প্রসব

গরু লুটে বাধা দেওয়ায় অন্তঃসত্ত্বার পেটে লাথি, মৃত সন্তান প্রসব

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলায় গরু লুটে সময় বাধা দেওয়ায় ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক নারীর পেটে লাথি মেরে আহত করার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার পর মৃত এক কন্যা সন্তানের জন্ম দিয়েছেন ওই গৃহবধূ।

গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার সুয়াইর ইউনিয়নের হাটনাইয়া আলীপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী রোকেয়া আক্তার (৩৮) ওই গ্রামের ওলিউল্লার স্ত্রী। আগামী ১৫ এপ্রিল তার স্বাভাবিক ডেলিভারির কথা ছিল।

এ ঘটনায় শুক্রবার (২৭ মার্চ) বিকালে ভুক্তভোগী নারীর স্বামী বাদী হয়ে ৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগে একই গ্রামের আংগুর মিয়া (৩২), রফিকুল ইসলাম (৩৩), তরিকুল মিয়া (৩৫), আনসার মিয়া (২২) ও মজিবর মিয়াসহ (৫০) আরও চারজনে নাম উল্লেখ করা হয়।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৪ মার্চ ওলিউল্লার ভাগ্নের হাঁস প্রতিপক্ষ আংগুর মিয়ার ডোবার পানি ঘোলা করাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষ হয়। পরে আংগুর মিয়া পক্ষ থেকে ওলিউল্লাহসহ তার পরিবার ও আত্মীয়দের আসামি করে মামলা করা হয়। এরপর থেকে ওলিউল্লার পরিবারের পুরুষ সদস্যরা পুলিশের ভয়ে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান।

আরও জানা যায়, গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১১টার দিকে ওলিউল্লার বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। কাউকে না পেয়ে ফিরে যান পুলিশ সদস্যরা। পরে রাত সাড়ে ৩টার দিকে আংগুর মিয়াসহ ১৫-২০ জন ওলিউল্লার বাড়িতে হামলা চালিয়ে গরু লুট করতে চেষ্টা করে। এসময় বাড়িতে পুরুষ কেউ না থাকায় অন্তঃসত্ত্বা রোকেয়া বাধা দিতে গেলে আংগুর মিয়া ক্ষিপ্ত হয়ে তার পেটে লাথি মারে। অন্যরাও তাকে কিল-ঘুষি মেরে আহত করে। এতে তীব্র ব্যথায় চিৎকার শুরু হলে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। তার কয়েক ঘণ্টা পর সন্তান প্রসব করেন রোকেয়া।

পরে মা ও নবজাতককে মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক নবজাতককে মৃত ঘোষণা করেন এবং রোকেয়াকে ভর্তি করেন।

এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করেছেন ওলিউল্লাহ। সন্তান হত্যার বিচার চেয়ে তিনি সাংবাদিকদের জানান, তাদের পালিয়ে থাকার সুযোগে গভীর রাতে হামলা করে গরু লুট করতে গিয়েছিল প্রতিপক্ষরা। বাধা দেওয়ায় তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর পেটে লাথি মেরে গর্ভের সন্তানকে হত্যা করেছে।

ভুক্তভোগী রোকেয়ার বড় বোন রুয়েলা আক্তার জানান, গভীর রাতে হামলা চালিয়ে গরু নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। বাড়িতে পুরুষ না থাকায় রোকেয়া বাধা দিলে পেটে জোরে লাথি মারে। লাথি দেওয়ার পরই পেটে তীব্র ব্যথা শুরু হয়।

এদিকে ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন আংগুর মিয়াসহ অন্য অভিযুক্তরা।

মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুল ইসলাম হারুন জানান, নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। এ ঘটনায় নবজাতকের বাবা বাদী হয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগটি আমলে নিয়ে মামলা রেকর্ড করে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    শেয়ার করুন: