ডিভিডেন্ড দৌড়ে শীর্ষে ১৩ কোম্পানি

প্রতীকী ছবি
শেয়ারবাজারে উচ্চ ডিভিডেন্ড ঘোষণার দৌড়ে এগিয়ে থাকা ১৩টি কোম্পানি বিনিয়োগকারীদের বিশেষভাবে আকর্ষণ করছে। সদ্য সমাপ্ত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে (জুন, ২০২৫ অর্থবছর) বাজারের সার্বিক চিত্র যেখানে হতাশাজনক ছিল, সেখানে এসব কোম্পানি বিনিয়োগকারীদের জন্য ৫০ শতাংশের বেশি ডিভিডেন্ড ঘোষণা করে নিজেদের আলাদা অবস্থান তৈরি করেছে।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী— ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) ও বিমা কোম্পানি বাদে ২২৮টি তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৫৮টি কোম্পানি সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে এবং ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছে।
উচ্চ ডিভিডেন্ড দেওয়া কোম্পানিগুলো— মেঘনা পেট্রোলিয়াম (২০০%), যমুনা অয়েল (১৮০%), ওয়ালটন হাইটেক ইন্ডাস্ট্রিজ (১৭৫%), পদ্মা অয়েল (১৬০%), স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস (১২০%), ইস্টার্ন লুব্রিকেন্টস ব্লেন্ডার্স (৮০%), ইউনাইটেড পাওয়ার (৬৫%), ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যাল (৬৪%), রেনাটা (৫৫%), মবিল যমুনা (৫২%), কোহিনূর কেমিক্যাল (৫০%), বিএসআরএম (৫০%) এবং বিএসআরএম স্টিলস (৫০%)।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তালিকাভুক্ত কোম্পানির নিজেদের পারফরম্যান্সই শেয়ারবাজারের মূল চালিকা শক্তি। কিন্তু দুর্বল বিক্রি, কম মুনাফা এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক চাপের কারণে অধিকাংশ কোম্পানি প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে আলোচ্য অর্থবছরে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের ডিভিডেন্ড ছিল নিম্নমুখী।
এই কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৮০টি কোম্পানি ৫ শতাংশের কম ডিভিডেন্ড দিয়েছে এবং ৪৭টি কোনো ডিভিডেন্ডই ঘোষণা করেনি। অন্যদিকে, ৪৯টি কোম্পানি ১০ শতাংশের বেশি ডিভিডেন্ড দিয়েছে, আর ২৪টি ঠিক ১০ শতাংশ ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছে।
ডিভিডেন্ডের প্রবণতা বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৪১টি কোম্পানি আগের বছরের তুলনায় বেশি ডিভিডেন্ড দিয়েছে, ৫৫টি ডিভিডেন্ড কমিয়েছে এবং ৬২টি কোম্পানি তাদের ডিভিডেন্ড অপরিবর্তিত রেখেছে।
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, ডিভিডেন্ড একটি কোম্পানির আর্থিক সক্ষমতা এবং শেয়ারহোল্ডারদের প্রতি দায়বদ্ধতার গুরুত্বপূর্ণ সূচক। তাদের মতে, একটি কোম্পানি কতটা নগদ প্রবাহ তৈরি করতে পারে এবং বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে মুনাফা ভাগ করে নিতে কতটা কার্যকর— তা ডিভিডেন্ডের মাধ্যমেই স্পষ্ট হয়।
তারা আরও বলেন, সব কোম্পানির কাছ থেকে প্রতি বছর উচ্চ ডিভিডেন্ড প্রত্যাশা করা বাস্তবসম্মত নয়। কোনো প্রতিষ্ঠান যদি মুনাফা পুনঃবিনিয়োগ করে বেশি রিটার্ন অর্জনের সুযোগ পায়, তাহলে তারা ডিভিডেন্ড কম দিতেও পারে। তবে তাদের মতে, ভালো মুনাফা করেও যদি কোনো কোম্পানি শেয়ারহোল্ডারদের সঙ্গে তা ভাগ না করে, তাহলে তা ইতিবাচক সংকেত নয়। সাধারণত সুশাসনসম্পন্ন ও বহুজাতিক কোম্পানিগুলো নিয়মিত ভালো ডিভিডেন্ড প্রদানের সংস্কৃতি অব্যাহত রাখে।
তালিকাভুক্ত কোম্পানির কর্মকর্তারা বলছেন, গত অর্থবছরে উচ্চ সুদহার ও মূল্যস্ফীতির কারণে কোম্পানিগুলোর ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় বিক্রি কমেছে এবং ঋণের সুদ বেড়ে যাওয়ায় মুনাফা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যার কারণে আগের বছরের তুলনায় গত বছর কোম্পানির ডিভিডেন্ডে চাপ দেখা গেছে।
অন্যদিকে বাজার বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে অনেক কোম্পানি দক্ষ ব্যবস্থাপনার ঘাটতি, প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়া এবং উদ্যোক্তাদের আগ্রহহীনতার কারণে তাদের ভালো পারফরম্যান্স ধরে রাখতে ব্যর্থ হচ্ছে। তালিকাভুক্তির সময় অনেক কোম্পানি শক্ত অবস্থানে থাকলেও পরবর্তী সময়ে উদ্যোক্তারা ধীরে ধীরে শেয়ার বিক্রি করে বেরিয়ে যাওয়ায় সেই ধারাবাহিকতা নষ্ট হয়। ফলে কোম্পানির মৌলভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে।
এ বাস্তবতায় আইপিওতে বিনিয়োগের আগে বিনিয়োগকারীদের আরও সতর্ক ও বিচক্ষণ হওয়া জরুরি।

