আগামীর সময়

এই দিনে আমি জন্মদিন পালন করা থেকে বিরত থাকি : ফারুক

এই দিনে আমি জন্মদিন পালন করা থেকে বিরত থাকি : ফারুক

ভয়ানক স্মৃতির ২৫ মার্চ আজ। ১৯৭১ সালের এই দিনের শেষে যে রাত নেমে এসেছিল, তা ছিল এক ভয়ংকর, বর্বর গণহত্যার রাত। এ রাতেই পাকিস্তান সেনাবাহিনী ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামের এক অভিযানে ভারী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল ঘুমন্ত বাঙালির ওপর। উদ্দেশ্য ছিল বাঙালির মুক্তির সংগ্রামকে স্তব্ধ করে দেওয়া।

এমন একটি কালরাতের দিনে জন্ম হয়েছিল অভিনেতা ফারুক আহমেদের। তবে তিনি জন্মদিন পালন করেন না। এমন একটি গভীর বেদনাময় দিনে জন্মদিন পালন থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত ফারুকের নিজের।

সামাজিকমাধ্যমে জনপ্রিয় অভিনেতা লিখেছেন, ‘২৫ মার্চ আমার জন্মদিন। আজ ২৫ মার্চ আমার জন্মদিন। ঘটনা সত্য। ছোটবেলায় আমাদের বাড়িতে জন্মদিন পালনের কোনো রেওয়াজ ছিল না। তাই এই দিনটি নিয়ে আলাদা কোনো অনুভূতি কাজ করত না। যখন দেখলাম আত্মীয়, বন্ধু-বান্ধবরা তাদের জন্মদিন ঘটা করে পালন করছে, তখন জন্মদিনের আবেগ আমার  ভেতরও কিছুটা চিলিক দিতে লাগল।’

জন্মদিন পালন করার ইচ্ছেও হয়েছিল ফারুক আহমেদের। কিন্তু দিনটি যে কালরাত। তাই নিজের মনকে বোঝাতে পেরেছিলেন কিংবা মন বুঝে গিয়েছিল এই দিন অনেক বেদনাময়, অনেক কষ্টের দিন। ফারুক আহমেদ বলেছেন, ‘১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাত্রি হওয়াতে আমি আমার জন্মদিন পালন করা থেকে বিরত থাকি। যাঁরা আমার জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন তাঁদের সকলের প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।’

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাত সাড়ে ১১টায় ক্যান্টনমেন্ট থেকে বের হয় পাকিস্তান সেনাবাহিনী। ছড়িয়ে পড়ে শহরময়। ‘অপারেশন সার্চ লাইট’। এ নাম নিয়েই মৃত্যুক্ষুধা নিয়ে জলপাই রঙের ট্যাংক নেমে আসে। চালানো হয় অত্যাধুনিক রাইফেল, মেশিনগান ও মর্টার। নিরীহ মানুষের আর্তনাদে ভারী হয় রাতের বাতাস।

মুহুর্মুহু গুলিবর্ষণের মাধ্যমে পাকিস্তানি জল্লাদ বাহিনী নিরস্ত্র ও ঘুমন্ত বাঙালির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। শুরু হয় বর্বরোচিত নিধনযজ্ঞ আর ধ্বংসের উন্মত্ত তাণ্ডব। হতচকিত বাঙালি কিছু বুঝে ওঠার আগেই ঢলে পড়ে মৃত্যুর কোলে। মানুষের কান্না ও আর্তচিৎকারে ভারী হয়ে ওঠে শহরের আকাশ। মধ্যরাতে ঢাকা পরিণত হয় লাশের শহরে।

ঢাকা শহরের রাজারবাগ পুলিশ লাইন, পিলখানা ইপিআর সদর দপ্তর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, নীলক্ষেতসহ বিভিন্ন স্থানে নির্বিচারে তারা বাঙালি নিধন শুরু করে। আর মানব ইতিহাসের পাতায় রচিত হলো কালিমালিপ্ত আরেকটি অধ্যায়। নিরস্ত্র, ঘুমন্ত মানুষকে বর্বরোচিতভাবে হত্যার ঘটনায় স্তম্ভিত হলো বিশ্ববিবেক।

    শেয়ার করুন: