আগামীর সময়

প্রশ্ন পার্থর

একাত্তরে পরাজয়ের দলিল বলেই সংবিধান নিয়ে গাত্রদাহ?

একাত্তরে পরাজয়ের দলিল বলেই সংবিধান নিয়ে গাত্রদাহ?

সংগৃহীত ছবি

বিদ্যমান সংবিধান ছুড়ে ফেলতে চাওয়া গোষ্ঠীদের তাদের কড়া সমালোচনা করলেন বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) জাতীয় সংসদে ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’ শীর্ষক বিষয়ে নির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি কঠোর জবাব দিলেন।

‘সংবিধান ছুড়ে ফেলব কেন? এই সংবিধানে এত গাত্রদাহ কেন? সংবিধান কি মনে করিয়ে দেয়—এটা একাত্তরের পরাজয়ের দলিল?’ অধিবেশনে প্রশ্ন রাখলেন পার্থ।

এ সময় জুলাই নিয়ে ক্ষমতাসীন বিএনপি জোটের শরিক বিজেপি চেয়ারম্যান নিজেদের অবস্থান আরও স্পষ্ট করলেন।

‘জুলাই নিয়ে আমাদের কোনো সমস্যা নেই, আমাদের সমস্যা হচ্ছে প্রক্রিয়া নিয়ে। আপনারা যদি সংবিধান ছিঁড়ে ফেলে নতুন করে বানাতে চাইতেন, তবে সেই সময় রেভল্যুশনারি (বিপ্লবী) বা ট্রানজিশনাল সরকার করলেন না কেন? একটি সাধারণ সরকারে থেকে, পুরোনো সংবিধানে থেকে আপনারা সংবিধান বাতিল করতে চাচ্ছেন— এটা আসলে হয় না।’

যৌক্তিক প্রশ্ন তুললেই ‘জুলাইয়ের বিপক্ষের শক্তি’ বানানোর চেষ্টা হয় অভিযোগ তুলে সমালোচনা করলেন পার্থ।

‘কেউ কথা বললেই তাকে জুলাইয়ের বিরুদ্ধে দাঁড় করানোর একটা পাঁয়তারা দেখতে পাচ্ছি। এটা আমাকে আওয়ামী লীগ সরকারের কথা মনে করিয়ে দেয়। তখন আমরা তেলের দাম নিয়ে কথা বললেও বলা হতো— ওরা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চায় না। এখন আমি সেই একই আচরণ দেখতে পাচ্ছি।’

আন্দোলনে রাজনৈতিক দলগুলোর ত্যাগের কথা স্মরণ করিয়ে দিলেন পার্থ। ‘শোনেন, আপনারা শেষ ৬ বলে ১২ রান করেছেন, কিন্তু এর আগের ৩০০ রান আমরা সবাই মিলে করেছি। সুতরাং আপনারা এমন কথা বলবেন না যাতে দেশবাসী বিভ্রান্ত হয়, যেন জুলাইয়ে আমাদের কোনো কন্ট্রিবিউশনই নাই! ১৭ বছর আমরা কষ্ট করেছি, জেলে গিয়েছি। যেদিন আবু সাঈদ শহীদ হয়েছিল, সেদিন চট্টগ্রামের ওয়াসিম আকরামও কিন্তু শহীদ হয়েছে…অবদান কারও কম নয়,’ ক্রিকেটীয় ভাষায় বলছিলেন তিনি।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত গণভোটের কারিগরি দিক নিয়েও সংসদে প্রশ্ন তোলেন পার্থ। ‘আপনারা গণভোটে চারটি বিষয় দিয়েছেন। কিন্তু কোনো ভোটার যদি একটি বিষয়ে একমত না হয়, তবে সে কী করবে? হ্যাঁ-তে ভোট দেবে নাকি না-তে? আপনারা তো ভোটারদের বাধ্য করেছেন। সনদের বাকি বিষয়গুলো কেন গণভোটে দিলেন না?’

বক্তব্যে অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের রাজনৈতিক দল এনসিপিকে ‘জামায়াত জেনারেশন’ না হওয়ার আহ্বান জানালেন পার্থ। ‘আর এনসিপি যে আমাদের দল…আমাদের হিরোরা…যারা এখানে আছেন তাদেরকেও বলে দিই— আপনারা জেন-জি’কে রিপ্রেজেন্ট করেন। জামায়াত জেনারেশন হয়ে যাইয়েন না।

‘সংবিধানের ওপর আমাদের শ্রদ্ধা থাকতে হবে, একইসঙ্গে জুলাইয়ের স্পিরিটকেও তুলে ধরতে হবে। আমরা সবাই মিলে বসে আলাপ করি। কিন্তু কোনো সদস্যের বক্তব্যে যেন জুলাইকে আন্ডারমাইন করা না হয়। আসুন আমরা পজিটিভ কিছু নিয়ে আসি। তবে কেউ যদি জুলাইয়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে চান, তারা কোনোদিন সফল হবেন না।’ জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে বক্তব্য শেষ করলেন পার্থ।

    শেয়ার করুন: