আগামীর সময়

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বক্করের বৈঠক, চট্টগ্রামে গুঞ্জন

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বক্করের বৈঠক, চট্টগ্রামে গুঞ্জন

বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বক্করের সঙ্গে বৈঠক। ছবি: সংগৃহীত

দুই বছর আগেও দলীয় পদ হারিয়ে রাজনীতির অন্দরেই অনেকটা আড়ালে চলে গিয়েছিলেন ডা. শাহাদাত হোসেন ও আবুল হাশেম বক্কর। একসময় চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির নেতৃত্বে থাকা এই দুই নেতা হঠাৎ করেই কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে দায়িত্ব হারালে তাদের অনুসারীদের মধ্যেও তৈরি হয় বিস্ময় ও হতাশা। রাজনৈতিক অঙ্গনে অনেকটাই নীরব হয়ে পড়েন তারা।

সময়ের সঙ্গে অনেক কিছু বদলেছে। রাজনীতির পটপরিবর্তন হয়েছে, পাল্টেছে ক্ষমতার সমীকরণও। এরই মধ্যে আদালতের রায়ে মেয়রের চেয়ারে বসে শাহাদাত হোসেন কিছুটা হলেও নিজের অবস্থান পুনরুদ্ধার করেন। অন্যদিকে বক্কর থেকেছেন অপেক্ষায়, কখন আবার সক্রিয়ভাবে রাজনীতির ময়দানে ফিরতে পারবেন।

এই প্রেক্ষাপটে হঠাৎ করেই একটি ছবি সামনে আসে। যেখানে প্রধানমন্ত্রীর টেবিলের সামনে বসে আছেন আবুল হাশেম বক্কর। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সেই ছবি মুহূর্তেই চট্টগ্রামের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দেয়। দুই বছর নীরবতার পর এই উপস্থিতি অনেক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। বক্কর কি নতুন কোনো দায়িত্ব পাচ্ছেন, নাকি শুরু হতে যাচ্ছে নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়?

কেউ বলছেন, এটি আসন্ন কোনো সাংগঠনিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত, আবার কেউ দেখছেন নতুন সমীকরণের সম্ভাবনা। তবে নিশ্চিত করে কিছুই বলা যাচ্ছে না। তবে এটুকু স্পষ্ট, দীর্ঘ নীরবতার পর বক্কর আবারও আলোচনার কেন্দ্রে।

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির দায়িত্বে থাকা এই দুই নেতা আওয়ামী লীগের শাসনামলের কঠিন সময়েও দলীয় কার্যক্রম সচল রেখেছিলেন। কিন্তু কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে হঠাৎ অপসারণ তাদের এবং অনুসারীদের মধ্যে বিস্ময় ও হতাশা তৈরি করে।

সেই ক্ষত বয়ে বেড়ানো সময়ের মধ্যেই রাজনীতির পটপরিবর্তন ঘটে। আওয়ামী লীগের পতন, মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরীর প্রস্থান এবং আদালতের রায়ে ডা. শাহাদাতের মেয়রের চেয়ারে বসা সব মিলিয়ে নতুন বাস্তবতা তৈরি হয়।

অন্যদিকে আবুল হাশেম বক্কর মনোনয়নপ্রত্যাশা করেছিলেন চট্টগ্রাম-৯ আসন থেকে। কিন্তু সেই আসনে মনোনয়ন পান আরেক নেতা আবু সুফিয়ান। এতে তার অনুসারীদের মধ্যে আবারও হতাশা বাড়ে।

এই প্রেক্ষাপটে গত বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বক্করের সঙ্গে একান্ত বৈঠকের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় নানা জল্পনা-কল্পনা। কী আলোচনা হয়েছে? সামনে কী ভূমিকা পাচ্ছেন বক্কর? সিডিএ চেয়ারম্যান, জেলা পরিষদ প্রশাসক, নাকি আবার নগর বিএনপির নেতৃত্বে ফেরা এমন নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খেতে থাকে রাজনৈতিক মহলে।

শনিবার ঢাকা থেকে ফিরে বক্কর নিজেই জানান প্রধানমন্ত্রী তাকে ডেকে নিয়েছিলেন। তার ভাষ্য মতে, ‘আমার আগ্রহের বিষয়ে জানতে চাইলে বলেছি রাজনীতিই করতে চাই। পরে কী করবেন না করবেন, আপনি জানেন। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড নিয়ে সামনে সিদ্ধান্ত হবে। খুব শিগগিরই আপনাকে ডাকা হবে।’

দলীয় সূত্র বলছে, অতীতে শাহাদাত-বক্কর জুটি নগর বিএনপির থানা, ওয়ার্ড ও ইউনিট কমিটি পুনর্গঠনে ‘অদৃশ্য বাধার’ মুখে পড়ে ব্যর্থ হয়েছিলেন। কেন্দ্রীয় হাইকমান্ড কারণ জানতে চাইলে দলীয় শৃঙ্খলার কথা ভেবে তারা প্রকাশ্যে কিছু বলেননি। এছাড়া ২০২৩ সালের নভেম্বরে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর গ্রেপ্তারের পর ডাকা হরতালেও তাদের দৃশ্যমান ভূমিকা না থাকায় কেন্দ্র অসন্তুষ্ট হয়।

পরবর্তীতে শাহাদাতকে বাদ দিয়ে বক্করকে আহ্বায়ক করার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তিনি তা নাকচ করেন। ফলে নতুন কমিটির নেতৃত্বে আসেন এরশাদ উল্লাহ।

চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহেদ বলেছেন, ‘চেয়ারম্যানের সঙ্গে কী নিয়ে কথা হয়েছে আমরা জানি না। তবে দলের ত্যাগী ও সক্রিয় নেতারা চাইলে দেখা করতে পারেন। সিডিএ চেয়ারম্যান হওয়ার দৌড়ে ফটিকছড়ির আরেকজন নেতা এগিয়ে আছেন।’

দুই বছর নীরবতার পর বক্করের এই বৈঠক চট্টগ্রামের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, এই আলোচনার ফল কোন দিকে গড়ায়।

    শেয়ার করুন: