৬৫% আসামিকে ভোট দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
পশ্চিমবঙ্গের সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে নির্বাচিতদের ৬১ শতাংশ কোটিপতি। এছাড়া ৬৫ শতাংশের বিরুদ্ধে রয়েছে ফৌজদারি মামলা। ভারতের অলাভজনক প্রতিষ্ঠান অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্র্যাটিক রিফর্মস (এডিআর)-এর একটি প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য। নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও রাজনৈতিক সংস্কার নিয়ে কাজ করে এডিআর ।
জানা গেছে, নির্বাচিত এমএলএদের বেশিরভাগের নামেই আছে ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগ। আবার তাদের অনেকেই বেশ ধনী—কোটির ঘরে তাদের সম্পদ। বৃহস্পতিবার ভারতে মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএনের সহযোগী প্রতিষ্ঠান নিউজ ১৮-এর প্রতিবেদনে বিষয়টি জানা গেছে।
অপরাধের যত অভিযোগ : ২০২৬ সালের নির্বাচনে জয়ী ২৯২ বিধায়কের অ্যাফিডেভিট নিরীক্ষা করেছে এডিআর। এই নিরীক্ষায় উঠে আসে এক ভয়ংকর চিত্র। নির্বাচিতদের মধ্যে ১৯০ জনের বিরুদ্ধেই ফৌজদারি মামলা চলছে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নির্বাচিত বিধায়কদের মধ্যে ৪৯ শতাংশের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা চলছিল। ২০২৬ সালে এসে তা ৬৫ শতাংশে উন্নীত হল।
বিজেপির ২০৬ বিজয়ীর মধ্যে ১৫২ জনের বিরুদ্ধে মামলা চলছে (৭৪ শতাংশ)। অপরদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের ৮০ জন নির্বাচিত বিধায়কের মধ্যে ৩৪ জনের বিরুদ্ধে (৪৩ শতাংশ) চলছে ফৌজদারি মামলা। সার্বিকভাবে, ১৭০ জন বিধায়কের বিরুদ্ধে (৫৮ শতাংশ) গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। গতবারের ক্ষেত্রে সংখ্যাটি ছিল ৩৯ শতাংশ।
বিজেপির ১৪১ জন ও তৃণমূল কংগ্রেসের ২৫ জনের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগের দায় আছে। অন্যান্য ছোট দলগুলোতেও একই ধারা লক্ষ্য করা গেছে। আম জনতা উন্নয়ন পার্টি, কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়া (মার্ক্সবাদী) এবং অল ইন্ডিয়া সেকিউলার ফ্রন্ট-এর নির্বাচিত বিধায়কদের প্রত্যেকের নামেই ফৌজদারি মামলা চলছে। তবে কংগ্রেসের দুই বিজেতার নামে কোনো মামলা হয়নি।
১৪ জন বিধায়কের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা এবং ৫৪ জনের বিরুদ্ধে ‘হত্যা প্রচেষ্টার’ মামলা চলছে। নারী নির্যাতনের মামলার মুখোমুখি হয়েছেন ৬৩ জন বিধায়ক। দুই জন বিধায়কের নামে ধর্ষণ মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বিপুল সম্পদের ছড়াছড়ি: এডিআরের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, এবারের বিধানসভা নির্বাচনে নির্বাচিত বিধায়কদের অনেকেই বেশ ধনী। কোটির ঘরে সম্পদ আছে এমন বিধায়কের সংখ্যা ২০২১ সালে ছিল ৫৪ শতাংশ। এবার তা বেড়ে ৬১ শতাংশ হয়েছে । ২৯২ জনের মধ্যে ১৭৮ জন বিধায়কের সম্পদ কোটি ছাড়িয়েছে। বিধায়কদের মোট সম্পদের পরিমাণ ১ হাজার ৯১ কোটি রুপি। গড় সম্পদের পরিমাণ ৩ কোটি ৭৩ লাখ রুপি।
গড় সম্পদের দিক দিয়ে এগিয়ে আছেন তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারা। নির্বাচিত বিধায়কদের গড় সম্পদ ৫ কোটি ৩৬ লাখ রুপি। অপরদিকে, বিজেপির বিধায়কদের গড় সম্পদ জন প্রতি ২ কোটি ৯৭ লাখ রুপি। কংগ্রেসের দুই বিধায়কের গড় সম্পদ সবচেয়ে বেশি—১৭ কোটি ৯২ লাখ রুপি।
শিক্ষাগত যোগ্যতার দিক দিয়ে ৬৩ শতাংশ বিধায়ক স্নাতক বা তারচেয়ে উচ্চতর ডিগ্রিধারী। ৩২ শতাংশ বিধায়কের শিক্ষাগত যোগ্যতা পঞ্চম শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পাসের মধ্যে। একই প্রতিবেদনে প্রকাশ, বিধানসভার সদস্যদের মধ্যে মাত্র ১৩ শতাংশ নারী।
এডিআর রাজনীতির সঙ্গে অপরাধের ওতপ্রোত সম্পর্ক নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। পাশাপাশি, ‘শুধু ধনীরাই রাজনীতিতে গুরুত্ব পাচ্ছেন’,- এমন উদ্বেগও প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।



