আগামীর সময়

কুড়িগ্রামে তেল সংকট, পাম্প তদারকিতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট

কুড়িগ্রামে তেল সংকট, পাম্প তদারকিতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট

চলমান জ্বালানি তেল সংকটে কুড়িগ্রামের সব কটি ফিলিংস্টেশন তদারকির জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সংযুক্তি দিয়েছে জেলা প্রশাসন। বুধবার (২৫ মার্চ) জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ সিদ্ধান্ত জানায় জেলা প্রশাসন। একইসঙ্গে জেলার বিভিন্ন পয়েন্টে চেকপোস্ট বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

জেলা প্রশাসনের অফিস আদেশে বলা হয়েছে, ‘জেলার ফিলিং স্টেশনগুলোর দৈনিক প্রাপ্যতার চাহিদা ও মজুদ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, জ্বালানি তেল বিতরণে শৃঙ্খলা রক্ষা, অবৈধ মজুদ বন্ধ, খোলাবাজারে অবৈধ তেল বিক্রি নিয়ন্ত্রণ করা এবং দৈনিক জ্বালানি তেল প্রাপ্তি ও বিক্রির প্রতিবেদন সংগ্রহের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের তাদের নামের পাশে বর্ণিত ফিলিংস্টেশনে তদারকির নিমিত্ত নিয়োজিত করা হলো।’

জেলা ফিলিং স্টেশন ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন সূত্র জানায়, রেশনিং পদ্ধতিতে প্রয়োজনের তুলনায় কম তেল সরবরাহ করায় জেলার ২২টি ফিলিং স্টেশন ঈদের আগেই তেলশূন্য হয়ে পড়েছে। এতে গ্রাহকরা ভোগান্তিতে পড়েছেন। ঈদের পর তেল সরবরাহ শুরু হলেও চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ অনেক কম। আবার সব ফিলিংস্টেশন একসঙ্গে তেল পাচ্ছে না। ফলে একটি ফিলিংস্টেশনে তেল আসামাত্র সেখানে গ্রাহকদের অতিমাত্রায় চাপ তৈরি হচ্ছে। সবাই হুমড়ি খেয়ে তেল নেওয়ার চেষ্টা করছেন। এতে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে।

ফিলিংস্টেশন ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক জামান আহমেদ কাজলের ভাষ্য, ‘প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাম্পগুলো তদারকির জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ড্রাইভিং লাইসেন্স, হেলমেট ও রেজিস্ট্রেশন প্লেট ছাড়া মোটরসাইকেলে তেল বিক্রি করতে নিষেধ করা হয়েছে। আমরা নিরাপত্তা চেয়েছি।’

‘জেলায় চাহিদার চেয়ে ২৪ ভাগ কম তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। আবার একইসঙ্গে সব পাম্পে তেল দেওয়া হচ্ছে না। দুইটি পাম্প তেল পেলেও তিনটা পায় নাই। ফলে সংকটের আশঙ্কায় গ্রাহকরা তেল কিনতে তোড়জোড় করছেন। আমরা চাই চাহিদা অনুযায়ী সব পাম্পে একসঙ্গে তেল সরবরাহ করা হোক। তাহলে চাপ কমে যাবে’— যোগ করেন তেল ব্যবসায়ীদের এ নেতা।

জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ বলেছেন, ‘ফিলিং স্টেশনগুলোতে মোটরসাইকেলচালকদের চাপ বেশি। অনেকে বারবার তেল নেওয়ার চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এতে মজুদ ও কালোবাজারির আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে পাম্পগুলো তদারকিতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োজিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে জেলার বিভিন্ন পয়েন্টে চেকপোস্ট বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরবরাহ বাড়াতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।’

    শেয়ার করুন: