সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপ
টাইব্রেকার রোমাঞ্চ জিতে বাংলাদেশের শিরোপা উৎসব

বাংলাদেশ ০ (৪)-০ (৩) ভারত
ভারতের বিপক্ষে সাফের ফাইনাল মানেই হৃদয় ভাঙার গল্প; হারটা বাংলাদেশ অভ্যাসে পরিণত করেছিল। সিনিয়র থেকে শুরু করে বয়সভিত্তিক- ভারতের বিপক্ষে আগের ৯ ফাইনালের ৮টির হিসেব মেলাতে পারেনি বাংলাদেশ। গত বছর সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ আসরের ফাইনালে টাইব্রেকারে হারতে হয়েছিল। ভারতকে হারিয়ে একবারই শিরোপা জয়ের ঘটনাও ১১ বছর আগে। তাই শঙ্কা ছিল।
তবে মালে ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে ভারতকে এবার থামাতে পেরেছে বাংলাদেশ। অনূর্ধ্ব-২০ সাফের ফাইনালটা বাংলাদেশ জিতেছে টাইব্রেকারের ভাগ্য নিজেদের করে। নির্ধারিত সময় গোলশূন্য থাকার পর টাইব্রেকারে বাংলাদেশ ৪-৩ ভারতকে হারিয়ে শিরোপা জেতে।
টাইব্রেকারে ভারতের ঋষি সিং-এর নেওয়া প্রথম শট ডান দিকে ঝাঁপিয়ে রুখে দিয়ে দলের জয়ের ভিত্তি গড়ে দিয়েছিলেন বাংলাদেশ গোলকিপার ইসমাইল হোসেন ফাহিম। আর শেষ শটটা ঠিকঠাক পোস্টে জমা দিয়ে শিরোপা নিশ্চিত করেন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী স্ট্রাইকার রোনান সুলিভান।
ফাহিমের কৃতিত্বের পর বাংলাদেশের হয়ে মোর্শেদ আলী, চন্দন রায় ও আব্দুল রিয়াদ ফাহিম লক্ষ্যভেদ করলেও মনস্তাত্ত্বিক লড়াইয়ে হেরে গোল করতে পারেননি স্যামুয়েল রাকসাম। তাতে ভারতের ফেরার সুযোগ তৈরি হয়েছিল। তবে ভারতের ওমাং দোদুমের শট বার উঁচিয়ে বাইরে গেলেই তৈরি হয় রোনানের নায়ক বনে যাওয়ার মঞ্চ। হতাশ করেননি রোনান। তার শট ভারত কিপার সুরজ সিংয়ের শরীরের নিচ দিয়ে জালে জড়াতেই মাঠ ও গ্যালারিতে শুরু হয় শিরোপা উদযাপন।
এর আগে ফাইনালে ভারতকে হারানোর একমাত্র গল্পটার সঙ্গে শুক্রবার রাতে মালের গল্পটা মিলে গেছে। ২০১৫ সালে সিলেটে অনূর্ধ্ব-১৬ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপাটাও বাংলাদেশ জিতেছিল টাইব্রেকারে।
ভাগ্য পরীক্ষার আগে বাংলাদেশ প্রথমার্ধটা খেলেছে আক্রমণাত্মক মেজাজে। একাধিক সুযোগ তৈরী করেও শেষ পর্যন্ত ভারতের গোল দরজা খুলতে পারেননি রোনান, নাজমুল হুদা ফয়সাল, মোর্শেদ ও মানিককে নিয়ে গড়া আক্রমণভাগ। এই অর্ধ্বে ভারতের মনযোগী ছিল ঘর সামলানোয়।
দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য বাংলাদেশের খেলায় আগের গতি-ছন্দ ছিল না। ভারত খোলস ছেড়ে বের হয়ে চেষ্টা করলেও সেভাবে গোলের সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। তাই ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। যেখানে প্রথম শট ঠেকিয়ে গোলকিপার ফাহিম ও শেষ শটকে গোলে পরিণত করে নায়ক বনে যান রোনান সুলিভান।

