আগামীর সময়

পাঁচ দিনে ‘তাজু ভাইয়ের’ ফলোয়ার বেড়ে ৩ লাখ

পাঁচ দিনে ‘তাজু ভাইয়ের’ ফলোয়ার বেড়ে ৩ লাখ

ছবিঃ আগামীর সময়

কয়েকদিন আগেও তেমন নামডাক ছিল না তাজুর। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল এক ভিডিওর কল্যাণে পরিচিতি পেয়েছেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে। ট্রল-সমালোচনার পর তাকে নিয়ে খবর প্রকাশ করেছে দেশের মূলধারার সংবাদমাধ্যমগুলোও।

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার প্রত্যন্ত এক চরাঞ্চলের যুবক তাইজুল ইসলাম তাজু (৩০)। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কল্যাণে পরিচিতি পেয়েছেন ‘তাজু ভাই ২.০’ নামেই। এই নামে রয়েছে তার একটি ফেসবুক পেজ।

মহান স্বাধীনতা দিবসে (২৬ মার্চ) নাগেশ্বরীর একটি বাজারে জিলাপির দাম নিয়ে করা তার একটি ভিডিও ব্যাপক ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। গত ২৬ মার্চ উপজেলার নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে মুঠোফোনে ওই ভিডিও ধারণ করেন তাইজুল।

ভিডিওতে তাইজুল ইসলাম দোকানিকে জিজ্ঞাসা করছেন, জিলাপি কত দামে বিক্রি হচ্ছে, তা সরকারি দরের সঙ্গে মিলছে কিনা। সরল ও ভাঙা ভাঙা এ সংলাপই দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে ফেসবুকে। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার আগে ‘তাজু ভাই ২.০’ ফেসবুক পেজের অনুসারী ছিল প্রায় ছয় হাজার। এখন সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে সাড়ে তিন লাখে।

এদিকে, সোশ্যাল মিডিয়ায় তাজুলের ব্যতিক্রমী উপস্থাপনাকে নিখাদ বিনোদন হিসেবে দেখছেন কেউ কেউ। আবার ব্যঙ্গ-বিদ্রূপও করছেন অনেকেই।

তবে আলোচনা-সমালোচনায় থাকা তাজুর জীবনবাস্তবতা ভিন্ন। তার বাড়ি নাগেশ্বরী উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত নারায়ণপুর ইউনিয়নের সরকারপাড়া গ্রামে। ছয় ভাই–বোনের সংসারে সবার বড় এবং একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি তিনি। অভাব-অনাটনের কারণে কখনও বিদ্যালয়ে যাওয়ার সুযোগ হয়নি। সর্বশেষ রাজধানীতে রাজমিস্ত্রির সহকারী হিসেবে কাজ করেছেন। এই কাজের ফাঁকে মুঠোফোনে ধারণ করতেন নানা ভিডিও।

‘আমার মা–বাবা অসুস্থ, দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবারের দুঃখ-কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি কোনো সাংবাদিক নই... ভিডিও করার পেছনে আমার একটি উদ্দেশ্যও আছে, সেটি হলো নিজ চরাঞ্চলের মানুষের কথা, দুঃখ–দুর্দশা ইত্যাদি তুলে ধরা। জেলা শহরের সাংবাদিকেরা এদিকে তেমন আসেন না। তাই আমি যা পারি তাই করি’- বলছিলেন তাইজুল।

নিজেকে ‘বোকাসোকা মানুষ‘ হিসেবেই দেখেন তিনি।

‘ভুল হলে আমি তা স্বীকার করতে প্রস্তুত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রল বা ব্যঙ্গ আমাকে খুব একটা কষ্ট দেয় না। বরং আমার চাওয়া, চরের মানুষের কথা সবাই জানুক। চরের মানুষের উন্নয়ন হোক।‘

তাইজুলের প্রতিবেশী ও নারায়ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য কবিরুল ইসলাম মনে করেন, ‘তিনি কাজের পাশাপাশি বিনোদনমূলক ভিডিও তৈরি করেন। তার ভিডিওর আড়ালে এলাকার উন্নয়নবঞ্চনার কথাও উঠে আসে।’

    শেয়ার করুন: