আগামীর সময়

জামালপুর

তিনগুণ রোগী নিয়ে চলছে হাসপাতাল, চিকিৎসক ও শয্যা সঙ্কট

তিনগুণ রোগী নিয়ে চলছে হাসপাতাল, চিকিৎসক ও শয্যা সঙ্কট

জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে বর্তমানে তিনগুণ রোগী ভর্তি রয়েছে। হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৭৬৩ জন। বিশেষ করে শিশু ওয়ার্ডে রোগীর সংখ্যা সাতগুণ বেড়ে গেছে। বেশির ভাগ শিশুই ঠান্ডা, শ্বাসকষ্ট, জ্বর ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত। শয্যার অভাবে এক বিছানায় তিন-চারজন শুয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে। কেউ কেউ মেঝে বা বারান্দায় শুয়ে চিকিৎসা নিতে বাধ্য হচ্ছেন। শয্যা ও চিকিৎসকের এই সঙ্কটের কারণে চিকিৎসক ও নার্সরা হিমশিম খাচ্ছেন।

শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত এক বছর বয়সী শিশু শরিফাকে ছয় দিন ধরে ঠান্ডা ও শ্বাসকষ্টের কারণে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার মা মমেনা বেগম জানান, মেয়েকে প্রথমে স্থানীয় ফার্মেসি থেকে ওষুধ খাওয়ানো হলেও কোনো উন্নতি হয়নি। পরে বৃহস্পতিবার সকালে হাসপাতালে ভর্তি করানো হলে এখন আগের তুলনায় অনেকটাই সুস্থ। তিনি বললেন, হঠাৎ গরম পড়ায় এই সমস্যা শুরু হয়েছে।

চিকিৎসকরা জানান, হঠাৎ বেড়ে যাওয়া তাপমাত্রার কারণে হাসপাতালের রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। শিশুদের মধ্যে ঠান্ডা ও শ্বাসকষ্টের রোগীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। গরম বাড়লে রোগীর সংখ্যা আরও বেড়ে যেতে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (১ এপ্রিল) শিশু ওয়ার্ডে ২৪ শয্যার বিপরীতে ১৬৪ জন শিশু ভর্তি ছিল। এর মধ্যে নিবিড় পরিচর্যা ওয়ার্ডে ৪৮ জন এবং শিশু ওয়ার্ডে ১১৬ জন। ডায়রিয়া ওয়ার্ডে শিশু রোগীর সংখ্যা ১৮ জন। পুরুষ সার্জারী ওয়ার্ডে ২৪ শয্যার বিপরীতে ৭১ জন, মহিলা সার্জারী ওয়ার্ডে ২৪ শয্যার বিপরীতে ৬৭ জন। পুরুষ মেডিসিন ওয়ার্ডে ২৪ শয্যার বিপরীতে ১১৫ জন, মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ডে ২৬ শয্যার বিপরীতে ১৩৮ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। এছাড়া পুরুষ অর্থোপেডিক ওয়ার্ডে ১৭ শয্যার বিপরীতে ২৮ জন, পুরুষ ইএনটি ওয়ার্ডে ৭ শয্যার বিপরীতে ৮ জন, মহিলা অর্থোপেডিক ওয়ার্ডে ২৪ শয্যার বিপরীতে ২১ জন, গাইনী ওয়ার্ডে ২৪ শয্যার বিপরীতে ৫২ জন, প্রসূতী ওয়ার্ডে ২৪ শয্যার বিপরীতে ৩৮ জন, ডায়রিয়া ওয়ার্ডে পুরুষ ১৫ জন, মহিলা ২১ জন এবং নিউ কেবিনের ৮ শয্যার বিপরীতে ৭ জন ভর্তি রয়েছেন। অর্থাৎ ২৫০ শয্যা থাকা এই হাসপাতালে তিনগুণ রোগী ভর্তি রয়েছে। বর্হিবিভাগে রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ৫০২ জন।

হাসপাতালে ৮২টি চিকিৎসকের পদ থাকলেও বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ৪৫ জন। শিশু বিশেষজ্ঞ তিনজন—একজন জুনিয়র কনসালটেন্ট ও দুইজন মেডিকেল অফিসার। সিনিয়র কনসালটেন্টের পদ দীর্ঘদিন শূন্য রয়েছে।

হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে প্রতি বিছানায় তিন-চারজন শিশুকে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। পাশেই তাদের অভিভাবকরা দাঁড়িয়ে বা বসে রয়েছেন। মেডিসিন ওয়ার্ডে ৫০ শয্যার বিপরীতে ২৫৩ জন রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। জায়গার অভাবে অনেক রোগী মেঝে বা বারান্দায় শুয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

সদর উপজেলার কেন্দুয়া এলাকার বাসিন্দা মো. হাফিজুর রহমান জানান, অপরিপক্ক সন্তান প্রসবের কারণে শিশুকে নিবিড় পর্যবেক্ষণ ওয়ার্ডে রাখা হয়েছে। প্রতিটি শযানেই দুইজন করে চিকিৎসা নিচ্ছেন। অন্যান্য ওয়ার্ডগুলোর অবস্থাও আরও খারাপ।

ইসলামপুর উপজেলার নোয়ারপাড়া ইউনিয়নের হাড়গিলা নতুনপাড়া এলাকার মো. হাবিবের ছয় মাস বয়সী ছেলে আব্দুর রহমান হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি। হামের জন্য আলাদা ওয়ার্ড রয়েছে, তাই রোগীর চাপ কম। তিনি জানান, হাসপাতালের অবস্থা এতটাই ব্যস্ত যে বারান্দা ও মেঝেতেও রোগী শুয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। হাসপাতাল বড় করার প্রয়োজন, যাতে সবাই বিছানায় শুয়ে চিকিৎসা নিতে পারেন।

হাসপাতালের নার্স সাদিয়া আক্তার বললেন, প্রতিদিন রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। শিশু ওয়ার্ডে বেশির ভাগই ঠান্ডা, কাশি ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত। এত রোগী একসঙ্গে সামলাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছি।

জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মাহফুজুর রহমান জানান, হাসপাতালে রোগীর চাপ অনেক। চিকিৎসক ও নার্সরা হিমশিম খাচ্ছেন। রোগীর খাবার, ওষুধ ও বিছানা প্রদানে সমস্যা হচ্ছে। ৮২ জন চিকিৎসকের পদ থাকলেও বর্তমানে মাত্র ৪৫ জন কর্মরত।

'শয্যা ও চিকিৎসক দুই সঙ্কটেই আমরা ভুগছি। সেবা দিতে আমাদের প্রচণ্ড চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে।' যোগ করেন তিনি।

    শেয়ার করুন: