বিয়ের সাজেই শেষ বিদায়, সড়ক দুর্ঘটনায় নিভে গেল স্বপ্ন

সংগৃহীত ছবি
একদিন আগেও যে বাড়িতে বাজছিল বিয়ের সানাই, হাসি-আনন্দে মুখর ছিল আঙিনা, মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে সেই বাড়িতেই নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। আনন্দের আলো নিভে গিয়ে এখন সেখানে শুধুই স্বজন হারানোর বুকফাটা কান্না।
বাগেরহাটের মোংলা-রামপাল সড়কে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানোদের মধ্যে নববধূসহ কয়েকজনের বাড়ি খুলনার কয়রা উপজেলার আমাদি ইউনিয়নে।
স্থানীয়রা জানিয়েছে, বুধবার (১১ মার্চ) সন্ধ্যায় কয়রার মেয়ে মিতু আক্তারের সঙ্গে মোংলার যুবক সাব্বিরের বিয়ে হয়। সারাদিনের আয়োজন, আত্মীয়-স্বজনের ভিড় আর আনন্দ-উৎসবে মুখর ছিল পুরো বাড়ি। নতুন সংসারের স্বপ্নে উজ্জ্বল ছিল সবার মুখ।
বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে বরপক্ষের সদস্যরা রাতটিও কাটান কনের বাড়িতেই। রাতভর চলেছে গল্প, আড্ডা, হাসি আর ভবিষ্যৎ স্বপ্নের কথা। কেউ কল্পনাও করেননি, আনন্দে ভরা সেই রাতের পরই অপেক্ষা করছে এমন নির্মম পরিণতি।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সকালে আসে বিদায়ের আবেগঘন মুহূর্ত। বাবা-মা, আত্মীয়-স্বজনের চোখের জলে ভেজা বিদায় নিয়ে নতুন জীবনের পথে পা বাড়ান নববধূ মিতু। বিয়ের সাজে, স্বপ্নভরা চোখে বরের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন একটি মাইক্রোবাসে। একই গাড়িতে ছিলেন তার বোন লামিয়া ও দাদি রাশিদাসহ পরিবারের কয়েকজন সদস্য।
কিন্তু নিয়তি যেন ওত পেতে ছিল পথেই। বাগেরহাটের রামপাল এলাকায় পৌঁছাতেই একটি বাসচাপায় বিয়ের গাড়িবাহী মাইক্রোবাসটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। আনন্দের যাত্রা পরিণত হয় শোকের যাত্রায়।
এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় বর সাব্বিরসহ নববধূ মিতু আক্তার, তার বোন লামিয়া, দাদি রাশিদা ও নানী আনোয়ারাসহ মোট ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এক নিমিষেই নিভে গেছে কয়েকটি তাজা প্রাণের প্রদীপ।
দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্তব্ধ হয়ে পড়ে কয়রার আমাদি ইউনিয়ন। যে বাড়িতে একদিন আগেও বিয়ের গান বাজছিল, ছিল আনন্দের কোলাহল সেই বাড়িতেই এখন শুধুই কান্না আর আহাজারি।
প্রতিবেশীরা বলছেন, সকালেও যে মেয়ে বিয়ের সাজে বিদায় নিয়েছিল, বিকেলের মধ্যেই তার মৃত্যুর খবর শুনে কেউ যেন বিশ্বাসই করতে পারছেন না। পুরো গ্রামজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
নিহত নববধূ মিতু আক্তার স্থানীয় একটি মাদ্রাসার আলিম প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। নতুন সংসার, নতুন জীবন আর নতুন ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখছিলেন তিনি। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাস বিয়ের সাজই হয়ে উঠল তার জীবনের শেষ সাজ।

