আগামীর সময়

‘ভাই, বাস থেকে আমার স্ত্রী-সন্তান বের হতে পারেনি’

‘ভাই, বাস থেকে আমার স্ত্রী-সন্তান বের হতে পারেনি’

সংগৃহীত ছবি

দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পন্টুন থেকে বাস পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনায় এখন পর্যন্ত নিখোঁজ রয়েছে অনেকে, যাদের মধ্যে রয়েছেন কুষ্টিয়ার শৈলকুপার বাসিন্দা মনিরুজ্জামানের স্ত্রী ও বড় সন্তান। চোখের সামনেই পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বাসটি তলিয়ে যেতে দেখেন তিনি।

বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেলে কুষ্টিয়া থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী ‘সৌহার্দ্য পরিবহন’র বাসটি দৌলতদিয়া ঘাটে পন্টুন দিয়ে ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়।

ঘটনার সময় ছোট সন্তানকে নিয়ে বাস থেকে নেমেছিলেন মনিরুজ্জামান। তার স্ত্রী ও বড় সন্তান বাসের ভেতরেই ছিলেন। মনিরুজ্জামান অসহায়ভাবে বললেন, ‘বাসটি পন্টুন থেকে চলন্ত অবস্থায় নদীতে পড়ে যায়। ভাই, বাসে আমার স্ত্রী-সন্তান ছিল। তারা বের হতে পারেনি।’ স্বজনদের খোঁজে এখনো ঘাটে অবস্থান করছেন দিশেহারা মনিরুজ্জামান।

এদিকে গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি প্রাণবন্ধু চন্দ্র বিশ্বাস জানান, উদ্ধারকাজে যোগ দিয়েছে ফায়ার সার্ভিস, নৌ-পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা। উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ ঘটনাস্থলে থাকলেও প্রচণ্ড ঝড়-বৃষ্টি ও উত্তাল পদ্মার কারণে অভিযানে বেগ পেতে হচ্ছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, বাসটি ফেরিতে ওঠার ঠিক আগ মুহূর্তে পন্টুন থেকে সরাসরি নদীতে পড়ে যায়। দুর্ঘটনার পর কয়েকজন যাত্রী ভেসে উঠলে ফেরিতে থাকা লোকজন রশি ও লাইফবয় ফেলে তাদের উদ্ধারের চেষ্টা করেন। তবে বাসের ভেতরে থাকা অধিকাংশ যাত্রীই বের হতে পারেননি বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নিখোঁজদের স্বজনদের ভিড়ে ঘাট এলাকায় এখন শোকাবহ ও উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে। নিখোঁজদের সন্ধানে ঢাকা ও ফরিদপুর থেকে আরও দুটি ডুবুরি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।


    শেয়ার করুন: