সিদ্ধিরগঞ্জে বিএনপির দু’পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১৫

সংগৃহীত ছবি
নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীর তীরবর্তী বালুর ঘাটের নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে বিএনপির দু'পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় সাংবাদিক সহ দু'পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছে।
আজ বুধবার (১১ মার্চ) দুপুরে সিদ্ধিরগঞ্জে কাঁচপুর সেতুর নিচে সংঘর্ষের এ ঘটনা ঘটে।
খবর পেয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ ও র্যাব-১১ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। দুই পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, কাঁচপুর ল্যান্ডিং সংলগ্ন বালুর ঘাটটি আগে বিআইডব্লিউটিএ থেকে ইজারা নেওয়া হলেও মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। পরে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদের ভাই রাসেল মাহমুদ নতুন করে ঘাটটির ইজারা নেন। বুধবার সকালে বিআইডব্লিউটিএ কর্মকর্তারা তাকে ঘাটের দখল বুঝিয়ে দিতে গেলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং এক পর্যায়ে সংঘর্ষ শুরু হয়।
রাসেল মাহমুদ অভিযোগ করে বলছিলেন, বিআইডব্লিউটিএ কর্মকর্তারা কাজ করার সময় নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁও-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের এমপি আজহারুল ইসলাম মান্নানের অনুসারী ডালিম, তুষার ও স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা রিপনের নেতৃত্বে একদল লোক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ বাধে।
সংঘর্ষে জহিরুল হক (৪৭), নূর হোসেন (৪৫), নজরুল (৩৭) সহ অন্তত ১৫ জন আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জের খানপুর ৩০০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এদিকে সংবাদ সংগ্রহের সময় এক সাংবাদিক ভিডিও ধারণ করতে গেলে রিপন সরকারের অনুসারী রাজু নামে একজন তাকে মারধর করে বলে অভিযোগ উঠেছে।
রাসেল মাহমুদ বলছিলেন, আমরা বৈধভাবে ঘাটের ইজারা নিয়েছি। প্রশাসন ও বিআইডব্লিউটিএ কর্মকর্তাদের সামনেই এমপি মান্নানের অনুসারীরা আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। এতে আমাদের ৮-১০ জন আহত হয়েছে।
অন্যদিকে স্থানীয় ব্যক্তি আলমগীর জানান, তুষার ও রিপনের নেতৃত্বে রাসেল মাহমুদের অনুসারীদের ওপর হামলার ঘটনাটি ঘটে। এতে ৪-৫ জন আহত হয়েছে।
‘বালুর ঘাট নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষের খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়েছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে’, জানাচ্ছিলেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আব্দুল বারিক।

