আগামীর সময়

ঈদের আনন্দে মুখর ড্রিম হলিডে পার্ক

ঈদের আনন্দে মুখর ড্রিম হলিডে পার্ক

ছবিঃ আগামীর সময়

ঈদ মানেই আনন্দ, আর সেই আনন্দকে পূর্ণতা দিতে প্রিয়জনদের সঙ্গে একটু ভিন্নভাবে সময় কাটানোর খোঁজে বেরিয়ে পড়েন অনেকে। নরসিংদীর ড্রিম হলিডে পার্ক যেন সেই আনন্দেরই এক উজ্জ্বল ঠিকানা হয়ে উঠেছে এবার।

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে পাঁচদোনা চৈতাবে অবস্থিত পার্কটিতে পা রাখলেই চোখে পড়ে ঈদের বর্ণিল সাজ। কোথাও শিশুদের হাসির ঝিলিক, কোথাও বন্ধুদের উচ্ছ্বাস, আবার কোথাও পরিবার নিয়ে নির্ভেজাল আনন্দে মেতে ওঠার দৃশ্য সব মিলিয়ে এক প্রাণবন্ত উৎসবমুখর পরিবেশ।

পার্কজুড়ে ছড়িয়ে আছে ৪০টিরও বেশি রাইড—ড্রিম রিভার ক্যাভ, ওয়াটার পার্ক, স্কাই ট্রেন, বুলেট ট্রেন, রোলার কোস্টার, সুইং চেয়ার, স্পিডবোট কিংবা ভূতের রাজ্য। প্রতিটি রাইডেই যেন আলাদা এক রোমাঞ্চ, যা দর্শনার্থীদের টেনে নিচ্ছে বারবার। নতুন সংযোজন ‘রিভার ক্যাভ’ বিশেষভাবে নজর কাড়ছে পানির ছন্দ আর কৃত্রিম প্রকৃতির মিশেলে তৈরি এই রাইডে চড়তে দেখা গেছে দীর্ঘ অপেক্ষার লাইন।

তবে শুধু রাইডেই সীমাবদ্ধ নয় আনন্দ। পার্কের প্রতিটি কোণ যেন ঈদের অনুভূতিতে সেজে উঠেছে। রঙিন আলোকসজ্জা, খোলা আকাশের নিচে ঘুরে বেড়ানো মানুষ আর চারপাশের কোলাহল সব মিলিয়ে এক অন্যরকম অভিজ্ঞতা।

৩৫০ টাকার প্রবেশমূল্যে দর্শনার্থীরা পার্কে ঢুকছেন, আর রাইডভেদে ৭০ থেকে ৪৫০ টাকা পর্যন্ত খরচ করে উপভোগ করছেন নানা আকর্ষণ। ঈদ উপলক্ষে বিভিন্ন প্যাকেজে রাখা হয়েছে বিশেষ ছাড়, যা অনেকের জন্য আনন্দকে আরও সহজলভ্য করেছে।

নিরাপত্তার দিকটিও রাখা হয়েছে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে। একাধিক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে নির্ভার হয়ে সময় কাটাচ্ছেন দর্শনার্থীরা। পার্ক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশ-বিদেশ থেকে আসা পর্যটকদের জন্যও রাখা হয়েছে বিশেষ নজরদারি ও সেবা।

ড্রিম হলিডে পার্কের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রবীর কুমার সাহা বলেছেন, ‘প্রতি বছরই আমরা দর্শনার্থীদের নতুন কিছু দেওয়ার চেষ্টা করি। এবছরও নতুন রাইড ও আধুনিক সাজে পার্ককে ঢেলে সাজানো হয়েছে। আমাদের লক্ষ্য, মানুষ যেন এখানে এসে ঈদের আনন্দটা একটু ভিন্নভাবে অনুভব করতে পারে।’

প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত খোলা থাকে এই পার্ক। এতিম ও প্রতিবন্ধীদের জন্য রয়েছে বিনামূল্যে প্রবেশের সুযোগ—যা এই আনন্দকে আরও মানবিক করে তোলে।

দিন শেষে যখন সূর্য ঢলে পড়ে, তখনও থামে না মানুষের ভিড়। কারণ, ড্রিম হলিডে পার্ক এখন শুধু একটি বিনোদন কেন্দ্র নয়—এটি হয়ে উঠেছে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগির এক জীবন্ত উৎসবমঞ্চ, যেখানে প্রতিটি হাসি, প্রতিটি মুহূর্ত হয়ে উঠছে স্মৃতির অমূল্য সম্পদ।

    শেয়ার করুন: