জমিয়তের প্রার্থী মুফতি কাসেমীর নামে মানহানির মামলা

ফাইল ছবি
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের প্রার্থী মুফতি মনির হোসাইন কাসেমীর বিরুদ্ধে আদালতে মানহানির মামলা করেছেন স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের এক কর্মকর্তা। বাদীর অভিযোগ আমলে নিয়ে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।
মুফতি কাসেমী জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব এবং নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতি। বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের হয়ে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে তিনি লড়ছেন খেজুরগাছ প্রতীকে। বিতর্কিত বক্তব্য দেয়ায় গত ডিসেম্বরে তাকে শোকজ করে জমিয়ত।
ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. কামাল উদ্দিনের আদালতে রোববার দুপুরে তার বিরুদ্ধে মানহানীর মামলার আবেদন করেন 'নিউজ নারায়ণগঞ্জ টোয়েন্টিফর ডটকমের' অফিস কর্মকর্তা মো. আকাশ।
তাতে বলা হয়, গত ৩১ জানুয়ারি দুপুর ২টার দিকে ‘নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডিজিটালের’ অনলাইন মাধ্যমে কাসেমীর নির্বাচনী কার্যক্রমে টাকা বিতরণের একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়। পরে সেটি প্রচার করে বিভিন্ন গণমাধ্যম। ভিডিও ভাইরাল হলে দায়িত্বরত রিটার্নিং কর্মকর্তা মনির হোসাইন কাসেমীকে দেড় লাখ টাকা জরিমানা করেন।
আবেদনে বাদী বলেন, 'এর পরিপ্রেক্ষিতে মনির কাসেমীর একটি ফেসবুক পেজে নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডিজিটাল ও নিউজ নারায়ণগঞ্জ ২৪ ডটকম-এর লোগো ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ছবি ব্যবহার করে মানহানিকর তথ্য প্রকাশ করা হয়। ওই ভিডিও রাত ১১টার দিকে মুছে ফেলা হলেও মনির হোসাইন কাসেমীর নামে পরিচালিত আরেকটি ফেসবুক পেজে ভিডিওটি এখনো পোস্ট আকারে আছে।'
বাদীর আইনজীবী খোরশেদ আলম বলেন, 'মনির হোসাইন কাসেমী ও অজ্ঞাতনামা আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন করেছেন। এতে প্রতিষ্ঠানটির প্রায় এক কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতনামা ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করা হয়েছে।'
মিথ্যা অভিযোগে এই মামলা বলে জানান জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের নেতা কাসেমী। তিনি বলেন, 'আইনগতভাবে বিষয়টির জবাব আদালতেই দেয়া হবে।'
মুফতি কাসেমী এর আগে ছিলেন হেফাজতে ইসলামির সাবেক অর্থ সম্পাদক। একাদশ জাতীয় নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে ২০ দলীয় জোটের হয়ে ধানের শীষের প্রার্থী ছিলেন তিনি। তার বিরুদ্ধে ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বর, ২০২০ সালের ডিসেম্বরে পুলিশ ও হেফাজত কর্মীদের সংঘর্ঘ এবং নারায়ণগঞ্জের সহিংসতার ঘটনায় একাধিক মামলা হয়।
২০২১ সালে ২১ মে রাজধানীর বারিধারা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ২০২৩ সালের নভেম্বরে জামিনে মুক্ত হন তিনি। পরে যোগ দেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশে।
বিভিন্ন সময়ে ‘আপত্তিকর’ বক্তব্য দেয়ায় গত ডিসেম্বরে তাকে শোকজ করে জমিয়ত। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ হয়েছে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়।
নিজ নির্বাচনী এলাকায় এক অনুষ্ঠানে বিএনপি প্রয়াত চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে 'জাতির মা' বলে উল্লেখ করায় ব্যাপক সমালোচিত হন মুফতি কাসেমী। এর পরপরই আসে শোকজের নোটিশ। পরে এক সাক্ষাৎকারে ওই বক্তব্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'আসলে আমি আমার আবেগ সংবরণ করতে পারিনি।'

